ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo দেশটা আমাদের সবার, পরিবেশও আমাদেরই রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo ১৫ মাস পর দেশে ফিরছেন ইলিয়াস কাঞ্চন Logo পুলিশ কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo গাজীপুরে সাতজনকে হত্যার ঘটনায় বিচারের মুখে হাসিনা-হারুনসহ ১০ জন Logo ঢাকার চারপাশে সচল হবে নৌপথ, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা Logo রাজধানীর দুই মেট্রো স্টেশনে ‘বোমা সদৃশ’ বস্তু Logo আদালতকে বলতে চাইলাম ফাঁসি দিয়ে দেন, প্রস্তুত আছি: লতিফ সিদ্দিকী Logo নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো সাবেক ভিসি কলিমউল্লাহকে (ভিডিও) Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর নিয়ে অধীর অপেক্ষায় ভারত: দীনেশ ত্রিবেদী

আজ হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন

বিনোদন ডেস্ক: বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় নাট্যকার, ঔপন্যাসিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের আজ জন্মদিন। ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই সাহিত্যিক, যিনি আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে উজ্জল নক্ষত্রের আসনে বিরাজমান।

হুমায়ূন আহমেদ নামটি আজ আর শুধু একজন লেখকের পরিচয় নয়, এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি ব্র্যান্ড। তার উপন্যাস, কাহিনী, চরিত্র এবং বিশেষ করে তার অমর সৃষ্টি ‘হিমু’ ও ‘মিসির আলি’—এই দুটি চরিত্র বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে অবিস্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

হুমায়ূন তার সাহিত্যিক জীবন শুরু করেন ১৯৭০ সালে, প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকের’ মাধ্যমে। তবে তিনি প্রকৃত জনপ্রিয়তা পান ‘মধ্যাহ্ন’ (১৯৭৭) উপন্যাসের মাধ্যমে।

লেখালেখির পাশাপাশি হুমায়ূন আহমেদ নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণেও অনন্য অবদান রেখেছেন। তার পরিচালনায় ‘শুভ সূচনা’ (১৯৮৬) এবং ‘আগুনের পরশমণি’ (১৯৯৪) চলচ্চিত্র দুটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

তার নাটক যেমন টেলিভিশন দর্শকদের মাঝে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে, তেমনি তার চলচ্চিত্রও শিল্পীসমাজে প্রশংসিত হয়েছে।

সত্তর দশকের শেষভাগে থেকে শুরু করে মৃত্যু অবধি তিনি ছিলেন বাংলা গল্প-উপন্যাসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কারিগর। এই কালপর্বে তার গল্প-উপন্যাসের জনপ্রিয়তা ছিল তুলনাহীন।

তার সৃষ্ট হিমু ও মিসির আলি চরিত্রগুলো বাংলাদেশের যুবকশ্রেণিকে গভীরভাবে উদ্বেলিত করেছে।

হুমায়ূনের অন্যতম উপন্যাস হলো নন্দিত নরকে, মধ্যাহ্ন, জোছনা ও জননীর গল্প, শঙ্খনীল কারাগার, মাতাল হাওয়া ইত্যাদি।

হুমায়ূন আহমেদের লেখনীর মধ্যে তার জীবনের অসাধারণ অনুভূতির প্রতিফলন ঘটেছিল। তার মতো সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব যেন ছিল এক নিত্য নতুন আবিষ্কারের খনি।

তিনি যে সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন, তাতে যেন জীবনের সমস্ত জটিলতা, সুখ-দুঃখ, মানবিক সম্পর্ক, এবং আদর্শ—সবকিছুই ছিল অমৃতরসের মতো। বিশেষ করে তার গল্পের মধ্যে কমেডি, ট্র্যাজেডি এবং রোমান্স একসাথে মিলেমিশে এমন এক জাদু সৃষ্টি করেছিল, যা পাঠক-দর্শকদের মন ছুঁয়ে যেত।

হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য স্রোত যেমন আজও চলছে, তেমনি তার দর্শন, তার জীবনদর্শন, তার ভাবনা, এবং চিন্তা-চেতনা আজও প্রেরণা হিসেবে আমাদের সামনে আজও যেন নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করছে।

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আজ হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন

আপডেট সময় ০৯:১৬:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৪

বিনোদন ডেস্ক: বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় নাট্যকার, ঔপন্যাসিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের আজ জন্মদিন। ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই সাহিত্যিক, যিনি আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে উজ্জল নক্ষত্রের আসনে বিরাজমান।

হুমায়ূন আহমেদ নামটি আজ আর শুধু একজন লেখকের পরিচয় নয়, এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি ব্র্যান্ড। তার উপন্যাস, কাহিনী, চরিত্র এবং বিশেষ করে তার অমর সৃষ্টি ‘হিমু’ ও ‘মিসির আলি’—এই দুটি চরিত্র বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে অবিস্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

হুমায়ূন তার সাহিত্যিক জীবন শুরু করেন ১৯৭০ সালে, প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকের’ মাধ্যমে। তবে তিনি প্রকৃত জনপ্রিয়তা পান ‘মধ্যাহ্ন’ (১৯৭৭) উপন্যাসের মাধ্যমে।

লেখালেখির পাশাপাশি হুমায়ূন আহমেদ নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণেও অনন্য অবদান রেখেছেন। তার পরিচালনায় ‘শুভ সূচনা’ (১৯৮৬) এবং ‘আগুনের পরশমণি’ (১৯৯৪) চলচ্চিত্র দুটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

তার নাটক যেমন টেলিভিশন দর্শকদের মাঝে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে, তেমনি তার চলচ্চিত্রও শিল্পীসমাজে প্রশংসিত হয়েছে।

সত্তর দশকের শেষভাগে থেকে শুরু করে মৃত্যু অবধি তিনি ছিলেন বাংলা গল্প-উপন্যাসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কারিগর। এই কালপর্বে তার গল্প-উপন্যাসের জনপ্রিয়তা ছিল তুলনাহীন।

তার সৃষ্ট হিমু ও মিসির আলি চরিত্রগুলো বাংলাদেশের যুবকশ্রেণিকে গভীরভাবে উদ্বেলিত করেছে।

হুমায়ূনের অন্যতম উপন্যাস হলো নন্দিত নরকে, মধ্যাহ্ন, জোছনা ও জননীর গল্প, শঙ্খনীল কারাগার, মাতাল হাওয়া ইত্যাদি।

হুমায়ূন আহমেদের লেখনীর মধ্যে তার জীবনের অসাধারণ অনুভূতির প্রতিফলন ঘটেছিল। তার মতো সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব যেন ছিল এক নিত্য নতুন আবিষ্কারের খনি।

তিনি যে সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন, তাতে যেন জীবনের সমস্ত জটিলতা, সুখ-দুঃখ, মানবিক সম্পর্ক, এবং আদর্শ—সবকিছুই ছিল অমৃতরসের মতো। বিশেষ করে তার গল্পের মধ্যে কমেডি, ট্র্যাজেডি এবং রোমান্স একসাথে মিলেমিশে এমন এক জাদু সৃষ্টি করেছিল, যা পাঠক-দর্শকদের মন ছুঁয়ে যেত।

হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য স্রোত যেমন আজও চলছে, তেমনি তার দর্শন, তার জীবনদর্শন, তার ভাবনা, এবং চিন্তা-চেতনা আজও প্রেরণা হিসেবে আমাদের সামনে আজও যেন নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করছে।

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট