/* */
Dhaka , বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

রংপুর প্রতিনিধি:  বাংলাদেশ সকল ধর্মের মানুষের অবৈতনিক ও সমান অধিকারের দেশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে একসঙ্গে কাজ করেই আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে রংপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পথে তারাগঞ্জের পাগলাপীর এলাকায় এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে যেভাবে সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, ঠিক একইভাবে বর্তমান কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তেও দেশের সব নাগরিককে সাথে নিয়ে পথ চলতে চায় সরকার। আজ থেকে এই অঙ্গীকার গ্রহণ করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এই দেশ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের সবার—এখানে বসবাসকারী প্রতিটি মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানের সমান অধিকার রয়েছে। আমরা সবাই মিলে সম্মিলিত পরিশ্রমের মাধ্যমে আমাদের স্বপ্নের উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলব।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠনের পর থেকেই সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, সাধারণ কৃষকদের স্বস্তি দিতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। কেবল সাধারণ মানুষই নয়, বরং ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ দেশের ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্যও মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করেছে বর্তমান সরকার।

হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি আন্তরিকভাবে চান দেশের প্রতিটি ধর্মের মানুষ মিলেমিশে একসঙ্গে দেশের সার্বিক উন্নয়নে অংশ নিক।

এর আগে ঢাকা থেকে বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরসহ পুরো যাত্রাপথের দুই পাশে শত শত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অবস্থান নিয়ে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রীও গাড়িবহর থেকে হাত নেড়ে তাঁদের শুভেচ্ছা জানান। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ও সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছিল।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

নামাজে মগ্ন থাকতে হবে আল্লাহর ধ্যানে

সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটের সময় : ০১:৪৯:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

রংপুর প্রতিনিধি:  বাংলাদেশ সকল ধর্মের মানুষের অবৈতনিক ও সমান অধিকারের দেশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে একসঙ্গে কাজ করেই আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে রংপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পথে তারাগঞ্জের পাগলাপীর এলাকায় এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে যেভাবে সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, ঠিক একইভাবে বর্তমান কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তেও দেশের সব নাগরিককে সাথে নিয়ে পথ চলতে চায় সরকার। আজ থেকে এই অঙ্গীকার গ্রহণ করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এই দেশ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের সবার—এখানে বসবাসকারী প্রতিটি মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানের সমান অধিকার রয়েছে। আমরা সবাই মিলে সম্মিলিত পরিশ্রমের মাধ্যমে আমাদের স্বপ্নের উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলব।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠনের পর থেকেই সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, সাধারণ কৃষকদের স্বস্তি দিতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। কেবল সাধারণ মানুষই নয়, বরং ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ দেশের ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্যও মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করেছে বর্তমান সরকার।

হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি আন্তরিকভাবে চান দেশের প্রতিটি ধর্মের মানুষ মিলেমিশে একসঙ্গে দেশের সার্বিক উন্নয়নে অংশ নিক।

এর আগে ঢাকা থেকে বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরসহ পুরো যাত্রাপথের দুই পাশে শত শত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অবস্থান নিয়ে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রীও গাড়িবহর থেকে হাত নেড়ে তাঁদের শুভেচ্ছা জানান। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ও সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছিল।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট