/* */
Dhaka , বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিত্যপণ্যের চড়া দাম নিয়ে নাহিদ ইসলামের ক্ষোভ, দায়ী করলেন সিন্ডিকেটকে

আইএনবি ডেস্ক: দেশে আবারও অসাধু সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম তার পোস্টে উল্লেখ করেন, নথিপত্র অনুযায়ী আমদানিতে প্রতি কেজি মাল্টার ক্রয়মূল্য মাত্র ৮৭ টাকা এবং শুল্ক, পরিবহন ও মুনাফা মিলিয়ে সর্বোচ্চ খরচ ২১০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মাল্টা ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছর ২২ শতাংশ বেশি মাল্টা আমদানি হওয়া সত্ত্বেও সরবরাহ সংকটের অজুহাত তুলে গত দুই মাসে অসাধু সিন্ডিকেট জনগণের পকেট থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এছাড়া সম্পূর্ণ দেশেই উৎপাদিত ১২০ টাকার পোলাওয়ের চাল বর্তমান বাজারে দ্বিগুণ বেড়ে ২৪০ টাকায় বিক্রির প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জানান, ২০০৯ সালের পর থেকে সবচেয়ে বেশি চাল রপ্তানি হওয়া সত্ত্বেও বিগত তিন মাসে শুধুমাত্র পোলাওয়ের চাল থেকেই আনুমানিক দেড় হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। অন্যদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ১২০ টাকা ডজন বিক্রি হওয়া ডিমের দাম বেড়ে এখন ১৬০ টাকা (প্রতি পিস ১৫ টাকা) হওয়ায় দরিদ্র মানুষের প্রোটিনের প্রধান উৎসটি ক্রয়েও অতিরিক্ত কয়েক হাজার কোটি টাকা সাধারণ মানুষের পকেট থেকে চলে গেছে।

এলপিজি গ্যাস ও অন্যান্য পণ্যের বাজার নিয়ে তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রতিটি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত এক হাজার টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে এবং ব্রয়লার মুরগির দাম ১৬০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। মানুষের আয় না বাড়লেও বেঁচে থাকার খরচ প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন রাখেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাস সিন্ডিকেটের কালো থাবা থেকে মুক্ত থাকার পর নির্বাচনের পর কার ইন্ধনে এই সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও চাঁদাবাজির পাশাপাশি ফ্যাসিবাদী আমলের মতো এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য অবিলম্বে বন্ধ করে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

যুবলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

নিত্যপণ্যের চড়া দাম নিয়ে নাহিদ ইসলামের ক্ষোভ, দায়ী করলেন সিন্ডিকেটকে

আপডেটের সময় : ০৫:১৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

আইএনবি ডেস্ক: দেশে আবারও অসাধু সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম তার পোস্টে উল্লেখ করেন, নথিপত্র অনুযায়ী আমদানিতে প্রতি কেজি মাল্টার ক্রয়মূল্য মাত্র ৮৭ টাকা এবং শুল্ক, পরিবহন ও মুনাফা মিলিয়ে সর্বোচ্চ খরচ ২১০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মাল্টা ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছর ২২ শতাংশ বেশি মাল্টা আমদানি হওয়া সত্ত্বেও সরবরাহ সংকটের অজুহাত তুলে গত দুই মাসে অসাধু সিন্ডিকেট জনগণের পকেট থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এছাড়া সম্পূর্ণ দেশেই উৎপাদিত ১২০ টাকার পোলাওয়ের চাল বর্তমান বাজারে দ্বিগুণ বেড়ে ২৪০ টাকায় বিক্রির প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জানান, ২০০৯ সালের পর থেকে সবচেয়ে বেশি চাল রপ্তানি হওয়া সত্ত্বেও বিগত তিন মাসে শুধুমাত্র পোলাওয়ের চাল থেকেই আনুমানিক দেড় হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। অন্যদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ১২০ টাকা ডজন বিক্রি হওয়া ডিমের দাম বেড়ে এখন ১৬০ টাকা (প্রতি পিস ১৫ টাকা) হওয়ায় দরিদ্র মানুষের প্রোটিনের প্রধান উৎসটি ক্রয়েও অতিরিক্ত কয়েক হাজার কোটি টাকা সাধারণ মানুষের পকেট থেকে চলে গেছে।

এলপিজি গ্যাস ও অন্যান্য পণ্যের বাজার নিয়ে তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রতিটি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত এক হাজার টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে এবং ব্রয়লার মুরগির দাম ১৬০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। মানুষের আয় না বাড়লেও বেঁচে থাকার খরচ প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন রাখেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাস সিন্ডিকেটের কালো থাবা থেকে মুক্ত থাকার পর নির্বাচনের পর কার ইন্ধনে এই সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও চাঁদাবাজির পাশাপাশি ফ্যাসিবাদী আমলের মতো এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য অবিলম্বে বন্ধ করে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট