/* */
Dhaka , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের পর এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১২ আগস্ট) বিকেলে পৌর এলাকার পাওয়ার হাউস রোডের এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৮-১০ জন নেতাকর্মী আহত হন।দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আরাফাত রহমানের জন্মদিন পালনকে উপলক্ষে নতুন কমিটির পক্ষের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। এর নেতৃত্বে ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাফিজুর রহমান এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জহিরুল হক।

একই সময়ে সড়কের পূর্ব দিকে শেখ হাসিনা সড়কের মোড় থেকে সদ্য ঘোষিত জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি আনন্দ মিছিল বের হয়। মিছিলটি পাওয়ার হাউজ রোডের দিকে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা ও বাঁশ নিয়ে একে অপরকে ধাওয়া করে।এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ইট-পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
১৫ থেকে ২০ মিনিটের মতো এ ঘটনা চলতে থাকে। এক পর্যায়ের দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সরে যায়। পরে পুলিশ এসে একজনকে আটক করে থানায় নেয়। বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জেলা বিএনপির পাঁচ সদস্যের আংশিক আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
কমিটিতে জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি আবদুল মান্নানকে আহ্বায়ক এবং জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলামকে সদস্যসচিব করা হয়। একটি পক্ষ এ কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে শুক্রবার বিকেলে সভা করেছে। সভায় লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রহমান সানির বড় ভাই কবির আহমেদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।
অভিযোগ করা হয়, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা কবির আহমেদ প্রভাব খাটিয়ে যে কমিটি এনেছেন সেটি বিতর্কিত ও অগ্রহযোগ্য।ঘোষিত নতুন কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মান্নান দাবি করেন, দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হওয়ার কোনো খবর তিনি জানেন না।
তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে কমিটি দেওয়ার একটি আনন্দ মিছিল বের হয় বলে তিনি জানিয়েছেন। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাফিজুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘আরাফাত রহমানের ৫৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নেতাকর্মীরা পাওয়ার হাউস রোডে কেক কাটার আয়োজন করে সবাইকে উপস্থিত হতে বলা হয়। কিন্তু কেউ কেউ আসেনি। এদিকে আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণা করায় একটি পক্ষ আনন্দ মিছিল ও সংবর্ধনার আয়োজন করে। আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।’
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসাইন জানান, কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

প্রিন্ট
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাড্ডা ও গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

আপডেটের সময় : ০২:৩৬:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ অগাস্ট ২০২৩
কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের পর এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১২ আগস্ট) বিকেলে পৌর এলাকার পাওয়ার হাউস রোডের এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৮-১০ জন নেতাকর্মী আহত হন।দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আরাফাত রহমানের জন্মদিন পালনকে উপলক্ষে নতুন কমিটির পক্ষের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। এর নেতৃত্বে ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাফিজুর রহমান এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জহিরুল হক।

একই সময়ে সড়কের পূর্ব দিকে শেখ হাসিনা সড়কের মোড় থেকে সদ্য ঘোষিত জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি আনন্দ মিছিল বের হয়। মিছিলটি পাওয়ার হাউজ রোডের দিকে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা ও বাঁশ নিয়ে একে অপরকে ধাওয়া করে।এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ইট-পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
১৫ থেকে ২০ মিনিটের মতো এ ঘটনা চলতে থাকে। এক পর্যায়ের দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সরে যায়। পরে পুলিশ এসে একজনকে আটক করে থানায় নেয়। বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জেলা বিএনপির পাঁচ সদস্যের আংশিক আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
কমিটিতে জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি আবদুল মান্নানকে আহ্বায়ক এবং জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলামকে সদস্যসচিব করা হয়। একটি পক্ষ এ কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে শুক্রবার বিকেলে সভা করেছে। সভায় লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রহমান সানির বড় ভাই কবির আহমেদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।
অভিযোগ করা হয়, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা কবির আহমেদ প্রভাব খাটিয়ে যে কমিটি এনেছেন সেটি বিতর্কিত ও অগ্রহযোগ্য।ঘোষিত নতুন কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মান্নান দাবি করেন, দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হওয়ার কোনো খবর তিনি জানেন না।
তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে কমিটি দেওয়ার একটি আনন্দ মিছিল বের হয় বলে তিনি জানিয়েছেন। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাফিজুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘আরাফাত রহমানের ৫৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নেতাকর্মীরা পাওয়ার হাউস রোডে কেক কাটার আয়োজন করে সবাইকে উপস্থিত হতে বলা হয়। কিন্তু কেউ কেউ আসেনি। এদিকে আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণা করায় একটি পক্ষ আনন্দ মিছিল ও সংবর্ধনার আয়োজন করে। আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।’
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসাইন জানান, কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

প্রিন্ট