আইএনবি ডেস্ক: পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবিসহ কয়েক দফা দাবিতে টানা ৫ম দিনেও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সাভার ও আশুলিয়ার তৈরি পোশাকশিল্প এলাকা। আজ সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) সকাল থেকেই সাভার ও আশুলিয়া এলাকার শতাধিক কারখানার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উক্ত এলাকার ২৩০টিরও বেশি তৈরি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
আজ সকালে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়, যা পরবর্তীতে ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নরসিংহপুরের নিউএজ কারখানার শ্রমিকেরা এবং পরবর্তীতে অনন্ত গ্রুপ ও হা-মীম গ্রুপের কারখানার সামনে আন্দোলনকারীরা জড়ো হলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের সময় ইটপাটকেলের আঘাতে শিল্প পুলিশ-১-এর এএসপি (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) শোয়েব আহমেদসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য এবং দেড় শতাধিক শ্রমিক আহত হন।
সংঘর্ষ চলাকালে বেলা ১২টার দিকে নরসিংহপুরের নদী ফিলিং স্টেশনের সামনে একদল দুষ্কৃতকারী একটি পোশাক কারখানার কাভার্ডভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতির তীব্রতায় সাভারের আরিচা মহাসড়ক পরিদর্শনে এসে উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু। তিনি মন্তব্য করেন, পতিত সরকারের দোসর ও বহিরাগতরা শ্রমিকদের মধ্যে ঢুকে নাশকতার মাধ্যমে শিল্পাঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছে যে, বহিরাগতদের চাপে সাধারণ শ্রমিকরা কারখানা ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, বর্তমানে এলাকা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, বাইপাইল এলাকা থেকে দুপুর দেড়টার দিকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা প্রকৃত শ্রমিক নাকি বহিরাগত নাশকতামূলক চক্রের অংশ, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
আইএনবি/বিভূঁইয়া
প্রিন্ট

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ছয়জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৭০ জন 










