/* */
Dhaka , বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক মূল্যে ডিম বিক্রির আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

আইএনবি ডেস্ক: ডিমের বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, অতিরিক্ত মুনাফা ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি থেকে বিরত থেকে যৌক্তিক মূল্যে ডিম বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রবিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ডিমের উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ডিম সাধারণ মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য হওয়ায় এর অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর সরাসরি চাপ পড়ে। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করে যৌক্তিক মুনাফা করবেন এটাই স্বাভাবিক, তবে ব্যবসার নামে অস্বাভাবিক মুনাফা, কৃত্রিম সংকট তৈরি বা সরবরাহ ব্যবস্থায় অযৌক্তিক বাধা দিয়ে বাজার অস্থিতিশীল করার কোনো সুযোগ নেই। উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত ডিমের মূল্য ব্যবধান পর্যালোচনা করে সরবরাহ ব্যবস্থার কোন পর্যায়ে অতিরিক্ত মুনাফা যুক্ত হচ্ছে তা চিহ্নিত করতে হবে এবং সারা বছর দাম স্থিতিশীল রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সভায় ব্যবসায়ীরা জানান যে ভুট্টা ও সয়াবিনসহ পোলট্রি খাদ্যের উপকরণের দাম বাড়ায় উৎপাদক পর্যায়ে প্রতি ডিমের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১১ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে উৎপাদক পর্যায়ে প্রতি ডিমের গড় বিক্রয়মূল্য ৭ টাকা ১৯৯১ পয়সা থাকলেও সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে প্রায় ১১ টাকা ৩০ পয়সা হয়েছে। উৎপাদক থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে সাধারণত দেড় থেকে দুই টাকা মূল্য সংযোজন হয়। দামের ওঠানামা কমাতে অতিরিক্ত উৎপাদনের সময় এক থেকে দেড় মাস ডিম সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি পোলট্রি খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, করের চাপ কমানো এবং বাজারজাতকরণের প্রতিবন্ধকতা কমানোর সুপারিশ করে ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেন যে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ডিমের দাম কমে আসবে।

ব্যবসায়ীদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন যে খাতটির যৌক্তিক সমস্যা ও সুপারিশ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে, তবে বাজারে কোনো পক্ষ যাতে সুযোগ নিয়ে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি করতে না পারে সেদিকে কঠোর নজর রাখা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো উৎপাদক যেন ন্যায্য মূল্য পান, ব্যবসায়ীরা যৌক্তিক মুনাফা করতে পারেন এবং ভোক্তারা সহনীয় দামে ডিম কিনতে পারেন। বাজারে কৃত্রিম সংকট, সরবরাহে অস্বাভাবিক বাধা কিংবা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তা পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। উক্ত সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) ড. আহমেদ উল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাগুরায় এক বাড়ির এক মাসের বিদ্যুৎ বিল ৫০৬ কোটি টাকা, চারজনকে শোকজ

ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক মূল্যে ডিম বিক্রির আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

আপডেটের সময় : ১১:৩৫:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইএনবি ডেস্ক: ডিমের বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, অতিরিক্ত মুনাফা ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি থেকে বিরত থেকে যৌক্তিক মূল্যে ডিম বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রবিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ডিমের উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ডিম সাধারণ মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য হওয়ায় এর অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর সরাসরি চাপ পড়ে। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করে যৌক্তিক মুনাফা করবেন এটাই স্বাভাবিক, তবে ব্যবসার নামে অস্বাভাবিক মুনাফা, কৃত্রিম সংকট তৈরি বা সরবরাহ ব্যবস্থায় অযৌক্তিক বাধা দিয়ে বাজার অস্থিতিশীল করার কোনো সুযোগ নেই। উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত ডিমের মূল্য ব্যবধান পর্যালোচনা করে সরবরাহ ব্যবস্থার কোন পর্যায়ে অতিরিক্ত মুনাফা যুক্ত হচ্ছে তা চিহ্নিত করতে হবে এবং সারা বছর দাম স্থিতিশীল রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সভায় ব্যবসায়ীরা জানান যে ভুট্টা ও সয়াবিনসহ পোলট্রি খাদ্যের উপকরণের দাম বাড়ায় উৎপাদক পর্যায়ে প্রতি ডিমের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১১ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে উৎপাদক পর্যায়ে প্রতি ডিমের গড় বিক্রয়মূল্য ৭ টাকা ১৯৯১ পয়সা থাকলেও সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে প্রায় ১১ টাকা ৩০ পয়সা হয়েছে। উৎপাদক থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে সাধারণত দেড় থেকে দুই টাকা মূল্য সংযোজন হয়। দামের ওঠানামা কমাতে অতিরিক্ত উৎপাদনের সময় এক থেকে দেড় মাস ডিম সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি পোলট্রি খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, করের চাপ কমানো এবং বাজারজাতকরণের প্রতিবন্ধকতা কমানোর সুপারিশ করে ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেন যে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ডিমের দাম কমে আসবে।

ব্যবসায়ীদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন যে খাতটির যৌক্তিক সমস্যা ও সুপারিশ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে, তবে বাজারে কোনো পক্ষ যাতে সুযোগ নিয়ে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি করতে না পারে সেদিকে কঠোর নজর রাখা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো উৎপাদক যেন ন্যায্য মূল্য পান, ব্যবসায়ীরা যৌক্তিক মুনাফা করতে পারেন এবং ভোক্তারা সহনীয় দামে ডিম কিনতে পারেন। বাজারে কৃত্রিম সংকট, সরবরাহে অস্বাভাবিক বাধা কিংবা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তা পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। উক্ত সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) ড. আহমেদ উল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট