/* */
Dhaka , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরকীয়ায় বাধা হওয়ায় আপন মায়ের হাতে মেয়ে খুন

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে মাইশা আক্তার (১৬) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত মাইশা আক্তারের মা স্বপ্না আক্তার (৪৫) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলার দেহুন্দা ইউনিয়নের চর দেহুন্দা গ্রামের বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মাইশা আক্তার চর দেহুন্দা গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে ও স্থানীয় একটি কওমী মাদরাসার আবাসিক ছাত্রী।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, স্বপ্না বেগমের সাথে তার খালাতো ভাই ফাইজুল (৩০) এর পরকীয়ার সম্পর্কে বাধা হয়ে দাড়ানোয় মা স্বপ্না বেগম ও পরকীয়া প্রেমিক ফাইজুল দুজনে মিলে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না বেগম তার মেয়ে নিহত মাইশার সঙ্গে ফাইজুলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং অনেকবার সতর্ক করার পরও মেয়ে মাইশা এ সম্পর্ক বজায় রাখায় স্বপ্না বেগম একাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, স্বপ্না বেগমের স্বামী বাবুল মিয়া (৫৫) ঢাকার তেজগাঁওয়ে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কর্মরত। তাদের দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। একমাত্র ছেলে পিতা বাবুল মিয়ার সাথে ঢাকায় থাকে। এছাড়া মাইশা মাদ্রাসা থাকে। ফলে স্বপ্না বেগম বাড়িতে একা থাকতো।

এ সুযোগে খালাতো ভাই ফাইজুলের সাথে স্বপ্না বেগমের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ফাইজুল উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের উত্তর গনেশপুর গ্রামের বুধু মিয়ার ছেলে। ফাইজুলের সাথে স্বপ্না বেগমের পরকীয়ার সম্পর্ক এলাকায় জানাজানি হলে এ নিয়ে বেশ কয়েকবার দেন-দরবারও হয়েছে।এ রকম পরিস্থিতিতে বুধবার (৩ নভেম্বর) মাদ্রাসা থেকে ছুটি নিয়ে মায়ের কাছে যায় মাইশা। রাতেই ঘটে মর্মান্তিক ঘটনাটি।

মা স্বপ্না আক্তার ও পরকীয়া প্রেমিক ফাইজুল মিলে মাইশাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ঘটনার পর পরই মোটর সাইকেল ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ফাইজুল। বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) সকালে ঘরে মাইশার মৃত দেহ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাইশার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায় এবং স্বপ্না বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

করিমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামছুল আলম সিদ্দিকী জানান, স্পর্শকাতর এ খুনের ঘটনায় পুলিশ নিবিড়ভাবে তদন্ত করছে। তদন্তে প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কমলাপুর রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে আগুন

পরকীয়ায় বাধা হওয়ায় আপন মায়ের হাতে মেয়ে খুন

আপডেটের সময় : ১১:২০:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ নভেম্বর ২০২১

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে মাইশা আক্তার (১৬) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত মাইশা আক্তারের মা স্বপ্না আক্তার (৪৫) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলার দেহুন্দা ইউনিয়নের চর দেহুন্দা গ্রামের বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মাইশা আক্তার চর দেহুন্দা গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে ও স্থানীয় একটি কওমী মাদরাসার আবাসিক ছাত্রী।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, স্বপ্না বেগমের সাথে তার খালাতো ভাই ফাইজুল (৩০) এর পরকীয়ার সম্পর্কে বাধা হয়ে দাড়ানোয় মা স্বপ্না বেগম ও পরকীয়া প্রেমিক ফাইজুল দুজনে মিলে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না বেগম তার মেয়ে নিহত মাইশার সঙ্গে ফাইজুলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং অনেকবার সতর্ক করার পরও মেয়ে মাইশা এ সম্পর্ক বজায় রাখায় স্বপ্না বেগম একাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, স্বপ্না বেগমের স্বামী বাবুল মিয়া (৫৫) ঢাকার তেজগাঁওয়ে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কর্মরত। তাদের দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। একমাত্র ছেলে পিতা বাবুল মিয়ার সাথে ঢাকায় থাকে। এছাড়া মাইশা মাদ্রাসা থাকে। ফলে স্বপ্না বেগম বাড়িতে একা থাকতো।

এ সুযোগে খালাতো ভাই ফাইজুলের সাথে স্বপ্না বেগমের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ফাইজুল উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের উত্তর গনেশপুর গ্রামের বুধু মিয়ার ছেলে। ফাইজুলের সাথে স্বপ্না বেগমের পরকীয়ার সম্পর্ক এলাকায় জানাজানি হলে এ নিয়ে বেশ কয়েকবার দেন-দরবারও হয়েছে।এ রকম পরিস্থিতিতে বুধবার (৩ নভেম্বর) মাদ্রাসা থেকে ছুটি নিয়ে মায়ের কাছে যায় মাইশা। রাতেই ঘটে মর্মান্তিক ঘটনাটি।

মা স্বপ্না আক্তার ও পরকীয়া প্রেমিক ফাইজুল মিলে মাইশাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ঘটনার পর পরই মোটর সাইকেল ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ফাইজুল। বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) সকালে ঘরে মাইশার মৃত দেহ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাইশার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায় এবং স্বপ্না বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

করিমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামছুল আলম সিদ্দিকী জানান, স্পর্শকাতর এ খুনের ঘটনায় পুলিশ নিবিড়ভাবে তদন্ত করছে। তদন্তে প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট