/* */
Dhaka , সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহ এখন ড্রাগন ফলের জেলা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ এখন দ্রুত বাড়ছে ড্রাগন ফলের চাষ। লাভ বেশি হওয়ায় চাষিরা এ ফলের চাষে ঝুঁকেছেন। এ বছর ৬ হাজার ২২৫ বিঘাতে (৮৩০ হেক্টর) ড্রাগন ফলের চাষ হয়েছে। চাষি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রের খবর, চলতি বছরে এ জেলায় ৩০০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ড্রাগন ফল উৎপাদন হবে বলে তাদের আশা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের দিকে কালীগঞ্জে বোরহান উদ্দিন ও শহিদুল ইসলাম ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেন। ড্রাগন আফ্রিকার দেশের ফল। পরে চিন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে এ ফলের চাষ শুরু হয়। ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. আব্দুর রহিমের মাধ্যমে চারা সংগ্রহ করেন কালীগঞ্জের চাষিরা। তাদের দেখাদেখি আরও অনেকে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফল চাষ শুরু করেন। অনেকে এ ফলের চাষ করে লাভবান হয়েছেন। তাদের একজন কালীগঞ্জ উপজেলা শিবনগর গ্রামের সুরত আলী। তিনি জানান, ২০১৭ সাল থেকে তিনি ড্রাগনের চাষ শুরু করেন। ২৫ বিঘা জমির ওপর তার ড্রাগন বাগান। তিনি জানান, প্রথম বছর ফল কম ধরে। বাগানের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে ফল উৎপাদন বাড়তে থাকে। তিনি বলেন, এক বিঘায় ড্রাগনের বাগান করতে দেড় লাখ টাকা খরচ হয়। এ বছর আবহাওয়া বৈরী। এজন্য ফল কম ধরছে। তবে বিঘাপ্রতি ৫ লাখ টাকার ফল বিক্রি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কালীগঞ্জ উপজেলা তত্ত্বীপুর গ্রামে ১৬ বিঘাতে ড্রাগনের বাগান করেছেন আহসানুল ইসলাম ডন নামে এক যুবক। তিনি পাঁচ বছর ধরে ড্রাগনের চাষ করছেন। মার্চ-এপ্রিল মাসে ফল ধরতে শুরু করে। জুন মাসে ফল পাকে। ডিসেম্বর পর্যন্ত গাছে ফল থাকে। শীতে ফল ধরে না। বর্তমানে পাইকারি এ গ্রেড ফল ২৬০ টাকা কেজি ও বি গ্রেড ফল ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফল ভালো হলে বিঘাপ্রতি ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা আয় হয় বলে জানান তিনি। ফলের দোকানগুলোতে অন্যান্য ফলের সঙ্গে ড্রাগন ফল বিক্রি হচ্ছে। চাহিদাও ভালো। মহেশপুর উপজেলা গৌরীনাথপুরে ড্রাগন ফলের হাট বসেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহের উপপরিচালক মো. আজগর আলী বলেন, অন্য ফসলের চেয়ে ড্রাগন ফলের চাষ বাড়ছে। এ পর্যন্ত ৮৩০ হেক্টরে ড্রাগনের চাষ হয়েছে। এ সময় বাজারে অন্য ফল থাকে না। এজন্য ড্রাগন ফলের চাহিদা বেড়েছে। হাটবাজারে ফলের দোকানগুলোতে প্রচুর ড্রাগন ফল শোভা পাচ্ছে। বিক্রিও ভালো হচ্ছে। তারা ফলের জাত ও মান উন্নয়নের জন্য কারিগরি পরামর্শ দিচ্ছেন।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কমলাপুর রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে আগুন

ঝিনাইদহ এখন ড্রাগন ফলের জেলা

আপডেটের সময় : ০৫:৩৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ এখন দ্রুত বাড়ছে ড্রাগন ফলের চাষ। লাভ বেশি হওয়ায় চাষিরা এ ফলের চাষে ঝুঁকেছেন। এ বছর ৬ হাজার ২২৫ বিঘাতে (৮৩০ হেক্টর) ড্রাগন ফলের চাষ হয়েছে। চাষি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রের খবর, চলতি বছরে এ জেলায় ৩০০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ড্রাগন ফল উৎপাদন হবে বলে তাদের আশা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের দিকে কালীগঞ্জে বোরহান উদ্দিন ও শহিদুল ইসলাম ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেন। ড্রাগন আফ্রিকার দেশের ফল। পরে চিন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে এ ফলের চাষ শুরু হয়। ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. আব্দুর রহিমের মাধ্যমে চারা সংগ্রহ করেন কালীগঞ্জের চাষিরা। তাদের দেখাদেখি আরও অনেকে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফল চাষ শুরু করেন। অনেকে এ ফলের চাষ করে লাভবান হয়েছেন। তাদের একজন কালীগঞ্জ উপজেলা শিবনগর গ্রামের সুরত আলী। তিনি জানান, ২০১৭ সাল থেকে তিনি ড্রাগনের চাষ শুরু করেন। ২৫ বিঘা জমির ওপর তার ড্রাগন বাগান। তিনি জানান, প্রথম বছর ফল কম ধরে। বাগানের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে ফল উৎপাদন বাড়তে থাকে। তিনি বলেন, এক বিঘায় ড্রাগনের বাগান করতে দেড় লাখ টাকা খরচ হয়। এ বছর আবহাওয়া বৈরী। এজন্য ফল কম ধরছে। তবে বিঘাপ্রতি ৫ লাখ টাকার ফল বিক্রি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কালীগঞ্জ উপজেলা তত্ত্বীপুর গ্রামে ১৬ বিঘাতে ড্রাগনের বাগান করেছেন আহসানুল ইসলাম ডন নামে এক যুবক। তিনি পাঁচ বছর ধরে ড্রাগনের চাষ করছেন। মার্চ-এপ্রিল মাসে ফল ধরতে শুরু করে। জুন মাসে ফল পাকে। ডিসেম্বর পর্যন্ত গাছে ফল থাকে। শীতে ফল ধরে না। বর্তমানে পাইকারি এ গ্রেড ফল ২৬০ টাকা কেজি ও বি গ্রেড ফল ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফল ভালো হলে বিঘাপ্রতি ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা আয় হয় বলে জানান তিনি। ফলের দোকানগুলোতে অন্যান্য ফলের সঙ্গে ড্রাগন ফল বিক্রি হচ্ছে। চাহিদাও ভালো। মহেশপুর উপজেলা গৌরীনাথপুরে ড্রাগন ফলের হাট বসেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহের উপপরিচালক মো. আজগর আলী বলেন, অন্য ফসলের চেয়ে ড্রাগন ফলের চাষ বাড়ছে। এ পর্যন্ত ৮৩০ হেক্টরে ড্রাগনের চাষ হয়েছে। এ সময় বাজারে অন্য ফল থাকে না। এজন্য ড্রাগন ফলের চাহিদা বেড়েছে। হাটবাজারে ফলের দোকানগুলোতে প্রচুর ড্রাগন ফল শোভা পাচ্ছে। বিক্রিও ভালো হচ্ছে। তারা ফলের জাত ও মান উন্নয়নের জন্য কারিগরি পরামর্শ দিচ্ছেন।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট