ঢাকা , শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৫ দিনে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর চুয়েটের সব পুকুর ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ক্যাম্পাসে ১৫ দিনের ব্যবধানে পুকুরে ডুবে তিন শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পুকুরকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের কোনো পুকুরে নামা, সাঁতার কাটা কিংবা পানিতে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে নির্দেশনা অমান্য করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের প্যাডে অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সব পুকুরকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের কোনো পুকুরে নামা, সাঁতার কাটা কিংবা পানিতে প্রবেশ করা যাবে না।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ নির্দেশনা অমান্য করে কেউ পুকুরে প্রবেশ বা পানিতে নামলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জারি করা নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে।

চুয়েট প্রশাসনের এ নিষেধাজ্ঞার পেছনে রয়েছে একই পুকুরে অল্প সময়ের ব্যবধানে তিন শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনা। সর্বশেষ গত ১২ আগস্ট (বুধবার) বেলা দেড়টার দিকে ফুটবল খেলা শেষে কাজী নজরুল ইসলাম হল ও শহীদ শাহ মোহাম্মদ হলের মধ্যবর্তী পুকুরে সাঁতার কাটতে নেমে মাঝ পুকুরে ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন- কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও আবু সাঈদ হলের আবাসিক ছাত্র চমক দত্ত (২২) এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের একই ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শহীদ শাহ মোহাম্মদ হলের আবাসিক ছাত্র শান্ত দেব (২২)। তাদের দুজনের বাড়িই সিলেটের মৌলভীবাজার জেলায়।

এর আগে গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় মাঠে ফুটবল খেলার পর একই পুকুরে গোসল করতে নেমে পানির গভীরে তলিয়ে মারা যান যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও কাজী নজরুল ইসলাম আবাসিক ছাত্রাবাসের অর্ণব সাহা (২৫)।

মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে একই পুকুরে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় চুয়েট ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ক্যাম্পাসের সব পুকুরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একটি জরুরি ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সব জলাশয়ে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

১৫ দিনে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর চুয়েটের সব পুকুর ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা

আপডেট সময় ০৮:০৯:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ক্যাম্পাসে ১৫ দিনের ব্যবধানে পুকুরে ডুবে তিন শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পুকুরকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের কোনো পুকুরে নামা, সাঁতার কাটা কিংবা পানিতে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে নির্দেশনা অমান্য করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের প্যাডে অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সব পুকুরকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের কোনো পুকুরে নামা, সাঁতার কাটা কিংবা পানিতে প্রবেশ করা যাবে না।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ নির্দেশনা অমান্য করে কেউ পুকুরে প্রবেশ বা পানিতে নামলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জারি করা নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে।

চুয়েট প্রশাসনের এ নিষেধাজ্ঞার পেছনে রয়েছে একই পুকুরে অল্প সময়ের ব্যবধানে তিন শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনা। সর্বশেষ গত ১২ আগস্ট (বুধবার) বেলা দেড়টার দিকে ফুটবল খেলা শেষে কাজী নজরুল ইসলাম হল ও শহীদ শাহ মোহাম্মদ হলের মধ্যবর্তী পুকুরে সাঁতার কাটতে নেমে মাঝ পুকুরে ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন- কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও আবু সাঈদ হলের আবাসিক ছাত্র চমক দত্ত (২২) এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের একই ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শহীদ শাহ মোহাম্মদ হলের আবাসিক ছাত্র শান্ত দেব (২২)। তাদের দুজনের বাড়িই সিলেটের মৌলভীবাজার জেলায়।

এর আগে গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় মাঠে ফুটবল খেলার পর একই পুকুরে গোসল করতে নেমে পানির গভীরে তলিয়ে মারা যান যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও কাজী নজরুল ইসলাম আবাসিক ছাত্রাবাসের অর্ণব সাহা (২৫)।

মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে একই পুকুরে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় চুয়েট ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ক্যাম্পাসের সব পুকুরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একটি জরুরি ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সব জলাশয়ে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট