ঢাকা , সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ Logo শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর সরকার পতনের ডাক রাহুল গান্ধীর Logo শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একদিন সময় চেয়েছে মোদি সরকার Logo রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে বঙ্গভবন ঘিরে কৌতূহল Logo ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে কথা না বলায় ক্যাটরিনার ফ্যান পেজ বন্ধ Logo জামায়াত এমপির ঘটনার তদন্ত চান তাসনিম জারা Logo মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল, প্রিয়াঙ্কা ও অখিলেশ আটক Logo হাম উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু Logo সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের ফ্ল্যাটে মিলেছে ৩০০ কোট, ৫৩২ টাই ও ১০০ কামিজ Logo আগামী মাসের মধ্যে ‘প্রবাসী কার্ডের’ পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ চালু করবে সরকার
প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা প্রদর্শনে সুযোগ দেওয়া হয়েছে ।

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে, উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না

ফাইল ছবি।

আইএনবি ডেস্ক: প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা প্রদর্শনে সুযোগ দেওয়া হয়েছে । তবে এ জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের মতো ‘বিশেষ কর’ সুবিধা দেওয়া হয়নি। নিয়মিত হারে কর দিয়ে অতীতে বিনিয়োগকৃত অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করা যাবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটি তাদের প্রথম বাজেট। এর আগে প্রস্তাবিত বাজেটটি অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এ বাজেট সংসদে পাশ হবে ৩০ জন।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা প্রদর্শনের সুযোগ দেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। নানা সমালোচনার মুখে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেটি ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় এসে অন্তর্বর্তী সরকার এই সুযোগ বাতিল করে দেয়।

বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথম বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছে। এ জন্য আয়কর আইনে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি জমি, বিল্ডিং, অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সময় দলিলে প্রকৃতমূল্য গোপন করলে তা রিটার্নে প্রদর্শন করতে পারবে। এ জন্য তাকে ক্রয়কৃত স্থাবর সম্পত্তির প্রকৃতমূল্য ও দলিলমূল্যের পার্থক্যের ওপর নির্ধারিত হারে কর দিতে হবে।

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য যা ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে যদি কোনো বিক্রেতা জমি, বিল্ডিং, অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সময় দলিলে প্রকৃতমূল্য গোপন করে থাকেন, তাহলে বিক্রেতাকে সম্পত্তির প্রকৃতমূল্য ও দলিলমূল্যের পার্থক্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূলধনী কর দিতে হবে। এক্ষেত্রে কিছু শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। স্বপ্রণোদিত ঘোষণা পূর্বে আয়কর আইন অনুযায়ী ক্রেতা বা বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রদেয় করের ২০ শতাংশ জরিমানা হিসেবে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তি ৩ বছর আগে ঢাকায় ২ কোটি টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। কিন্তু দলিলমূল্য তিনি ৫০ লাখ টাকা ক্রয় দেখিয়েছেন। বাকি দেড় কোটি টাকার তথ্য গোপন করেছেন। প্রচলতি আইন অনুযায়ী, এটি অপ্রদর্শিত অর্থই কালো টাকা। এই ব্যক্তি দেড় কোটি টাকা রিটার্নে প্রদর্শন করতে চাইলে তাকে ৩০ শতাংশ হারে ৪৫ লাখ টাকা আয়কর পরিশোধ করতে হবে। আর আয়কর দপ্তর যদি ফ্ল্যাটের প্রকৃত মূল্য উদঘাটন করে এবং করদাতা রিটার্নে এর ঘোষণা দিতে চায়, তবে তাকে আরও ৯ লাখ টাকা জরিমানা হিসেবে কর পরিশোধ করতে হবে।

অন্যদিকে প্রতিষ্ঠান বা বিক্রেতাকে ক্ষেত্রে দেড় কোটি টাকার ১৫ শতাংশ হারে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূলধনী কর দিতে হবে। আর আয়কর দপ্তর যদি ফ্ল্যাটের প্রকৃত বিক্রয়মূল্য উদঘাটন করে এবং তখন বিক্রেতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান রিটার্নে এটি ঘোষণা দিতে চায়, তবে তাকে আরও সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া

 


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লঘুচাপের প্রভাবে উত্তাল কুয়াকাটা সাগর, উপকূলে ফিরেছে শত শত ট্রলার

প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা প্রদর্শনে সুযোগ দেওয়া হয়েছে ।

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে, উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না

আপডেট সময় ০৮:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

আইএনবি ডেস্ক: প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা প্রদর্শনে সুযোগ দেওয়া হয়েছে । তবে এ জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের মতো ‘বিশেষ কর’ সুবিধা দেওয়া হয়নি। নিয়মিত হারে কর দিয়ে অতীতে বিনিয়োগকৃত অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করা যাবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটি তাদের প্রথম বাজেট। এর আগে প্রস্তাবিত বাজেটটি অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এ বাজেট সংসদে পাশ হবে ৩০ জন।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা প্রদর্শনের সুযোগ দেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। নানা সমালোচনার মুখে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেটি ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় এসে অন্তর্বর্তী সরকার এই সুযোগ বাতিল করে দেয়।

বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথম বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছে। এ জন্য আয়কর আইনে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি জমি, বিল্ডিং, অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সময় দলিলে প্রকৃতমূল্য গোপন করলে তা রিটার্নে প্রদর্শন করতে পারবে। এ জন্য তাকে ক্রয়কৃত স্থাবর সম্পত্তির প্রকৃতমূল্য ও দলিলমূল্যের পার্থক্যের ওপর নির্ধারিত হারে কর দিতে হবে।

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য যা ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে যদি কোনো বিক্রেতা জমি, বিল্ডিং, অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সময় দলিলে প্রকৃতমূল্য গোপন করে থাকেন, তাহলে বিক্রেতাকে সম্পত্তির প্রকৃতমূল্য ও দলিলমূল্যের পার্থক্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূলধনী কর দিতে হবে। এক্ষেত্রে কিছু শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। স্বপ্রণোদিত ঘোষণা পূর্বে আয়কর আইন অনুযায়ী ক্রেতা বা বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রদেয় করের ২০ শতাংশ জরিমানা হিসেবে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তি ৩ বছর আগে ঢাকায় ২ কোটি টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। কিন্তু দলিলমূল্য তিনি ৫০ লাখ টাকা ক্রয় দেখিয়েছেন। বাকি দেড় কোটি টাকার তথ্য গোপন করেছেন। প্রচলতি আইন অনুযায়ী, এটি অপ্রদর্শিত অর্থই কালো টাকা। এই ব্যক্তি দেড় কোটি টাকা রিটার্নে প্রদর্শন করতে চাইলে তাকে ৩০ শতাংশ হারে ৪৫ লাখ টাকা আয়কর পরিশোধ করতে হবে। আর আয়কর দপ্তর যদি ফ্ল্যাটের প্রকৃত মূল্য উদঘাটন করে এবং করদাতা রিটার্নে এর ঘোষণা দিতে চায়, তবে তাকে আরও ৯ লাখ টাকা জরিমানা হিসেবে কর পরিশোধ করতে হবে।

অন্যদিকে প্রতিষ্ঠান বা বিক্রেতাকে ক্ষেত্রে দেড় কোটি টাকার ১৫ শতাংশ হারে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূলধনী কর দিতে হবে। আর আয়কর দপ্তর যদি ফ্ল্যাটের প্রকৃত বিক্রয়মূল্য উদঘাটন করে এবং তখন বিক্রেতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান রিটার্নে এটি ঘোষণা দিতে চায়, তবে তাকে আরও সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া

 


প্রিন্ট