/* */
Dhaka , বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি ধরল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতি ও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতাদের দায়ের করা আবেদনে ১৪টি পদ্ধতিগত ত্রুটি চিহ্নিত করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি। সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) সুপ্রিম কোর্টে আবেদনটি পেশের পর নিবন্ধক কার্যালয় এগুলো সংশোধন না করা পর্যন্ত শুনানি স্থগিত রেখেছে।

সুপ্রিম কোর্টের নিবন্ধক কার্যালয় কর্তৃক চিহ্নিত প্রধান ত্রুটিসমূহ:

ফি বকেয়া: আদালত ফি বাবদ ২২০ রুপি কম জমা দেওয়া হয়েছে।
অনুমোদনপত্রের ঘাটতি: আবেদনে উল্লিখিত ১১ জন আবেদনকারীর মধ্যে ৯ জনেরই (যার মধ্যে অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, সঞ্জয় রাউত ও সৌগত রায় রয়েছেন) আইনজীবী নিয়োগের লিখিত অনুমোদনপত্র (ওকালতনামা) অনুপস্থিত ছিল।
নথিপত্র ও ফটোকপি সংক্রান্ত সমস্যা: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিচয়পত্রের কপিটি অস্পষ্ট ছিল, বেশ কয়েকটি পৃষ্ঠার লেখা অপরিষ্কার, দুটি পৃষ্ঠার রঙিন অনুলিপি অনুপস্থিত এবং পৃষ্ঠা নম্বরে অসংগতি ছিল।

বিরোধী জোটের ১০ দফা প্রতিকার ও প্রধান দাবি:

‘রাহুল গান্ধী বনাম ভারতের নির্বাচন কমিশন’ শিরোনামে তালিকাভুক্ত এই আবেদনে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে বিবাদী করা হয়েছে। বিরোধীদের উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো:
১. ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত সব নথি আদালতে পেশ করা।
২. প্রধান নির্বাচন কমিশনারের একক বা অনিয়মসিদ্ধ সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা ও প্রক্রিয়া পরীক্ষা করা।
৩. একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ কমিটির মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকার পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল নিরীক্ষা (Audit) নিশ্চিত করা।
৪. অনিয়মের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

এর আগে বিরোধী নেতারা ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি দেওয়ার চেষ্টা করলেও, মামলাটি বিচারাধীন থাকায় তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ না করে নিয়মানুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের পরামর্শ দেন। আবেদনে থাকা ১৪টি ত্রুটি সংশোধনের পরেই সুপ্রিম কোর্ট আবেদনটি শুনানির জন্য সময়সূচি নির্ধারণ করবে।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বিশ্বব্যাংক প্রস্তুত: অর্থমন্ত্রী

রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি ধরল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

আপডেটের সময় : ০৪:৫৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতি ও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতাদের দায়ের করা আবেদনে ১৪টি পদ্ধতিগত ত্রুটি চিহ্নিত করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি। সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) সুপ্রিম কোর্টে আবেদনটি পেশের পর নিবন্ধক কার্যালয় এগুলো সংশোধন না করা পর্যন্ত শুনানি স্থগিত রেখেছে।

সুপ্রিম কোর্টের নিবন্ধক কার্যালয় কর্তৃক চিহ্নিত প্রধান ত্রুটিসমূহ:

ফি বকেয়া: আদালত ফি বাবদ ২২০ রুপি কম জমা দেওয়া হয়েছে।
অনুমোদনপত্রের ঘাটতি: আবেদনে উল্লিখিত ১১ জন আবেদনকারীর মধ্যে ৯ জনেরই (যার মধ্যে অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, সঞ্জয় রাউত ও সৌগত রায় রয়েছেন) আইনজীবী নিয়োগের লিখিত অনুমোদনপত্র (ওকালতনামা) অনুপস্থিত ছিল।
নথিপত্র ও ফটোকপি সংক্রান্ত সমস্যা: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিচয়পত্রের কপিটি অস্পষ্ট ছিল, বেশ কয়েকটি পৃষ্ঠার লেখা অপরিষ্কার, দুটি পৃষ্ঠার রঙিন অনুলিপি অনুপস্থিত এবং পৃষ্ঠা নম্বরে অসংগতি ছিল।

বিরোধী জোটের ১০ দফা প্রতিকার ও প্রধান দাবি:

‘রাহুল গান্ধী বনাম ভারতের নির্বাচন কমিশন’ শিরোনামে তালিকাভুক্ত এই আবেদনে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে বিবাদী করা হয়েছে। বিরোধীদের উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো:
১. ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত সব নথি আদালতে পেশ করা।
২. প্রধান নির্বাচন কমিশনারের একক বা অনিয়মসিদ্ধ সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা ও প্রক্রিয়া পরীক্ষা করা।
৩. একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ কমিটির মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকার পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল নিরীক্ষা (Audit) নিশ্চিত করা।
৪. অনিয়মের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

এর আগে বিরোধী নেতারা ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি দেওয়ার চেষ্টা করলেও, মামলাটি বিচারাধীন থাকায় তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ না করে নিয়মানুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের পরামর্শ দেন। আবেদনে থাকা ১৪টি ত্রুটি সংশোধনের পরেই সুপ্রিম কোর্ট আবেদনটি শুনানির জন্য সময়সূচি নির্ধারণ করবে।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট