/* */
Dhaka , বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাগরিকদের গোপন তথ্য বিক্রির অভিযোগে ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

আইএনবি ডেস্ক: সরকারি ই-মেইল ও ভুয়া জিডি-মামলার নম্বর ব্যবহার করে নাগরিকদের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর)সহ বিভিন্ন অতি গোপনীয় তথ্য হাতিয়ে নেওয়া এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্রি ও ছড়িয়ে দেওয়ার গুরুতর অপরাধে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার বিভাগ।

গ্রেপ্তারকৃত চার পুলিশ সদস্য হলেন—ডেমরা থানার পুলিশ কনস্টেবল সাইমন হোসেন রাশেদ ও মাসুম মিয়া, ওয়ারী থানার পুলিশ কনস্টেবল নিজাম উদ্দীন এবং তুরাগ থানার পুলিশ কনস্টেবল মো. জিহাদ মিয়া।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ডিএমপির ডিবির এসআই আবিদুর রহমান বাদী হয়ে রমনা থানায় অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ১৯২৩, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১ এবং দণ্ডবিধি আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগ নিবিড়ভাবে তদন্ত করছে।

মামলার এজাহার ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর ডিবির সাইবার মনিটরিং দলের নজরে আসে যে কিছু ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ও টেলিগ্রাম গ্রুপে সাধারণ নাগরিকদের সিডিআর বেচাকেনা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের তথ্য এবং বিকাশ লেনদেনের সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে ডিবি এই সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পায়।

তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, তুরাগ থানায় কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত কনস্টেবল জিহাদ মিয়া থানার ওসির অফিশিয়াল ই-মেইল অ্যাড্রেস ব্যবহার করে ভুয়া জিডি নম্বর ও এএসআইয়ের নাম দেখিয়ে বিভিন্ন নম্বরের সিডিআর সংগ্রহ করতেন। একইভাবে ডেমরা ও ওয়ারী থানার ওসির ই-মেইল এবং ভুয়া মামলার নম্বর ব্যবহার করে কনস্টেবল সাইমন হোসেন রাশেদ, মাসুম মিয়া ও নিজাম উদ্দীন নাগরিকদের সিমের কললিস্ট, সর্বশেষ কল লোকেশন ও জাতীয় পরিচয়পত্রসহ (এনআইডি) বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে তা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দিতেন।

ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ইতিমধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বেক্সিমকো গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদ থেকে বাদ পড়লেন সালমান এফ রহমান

নাগরিকদের গোপন তথ্য বিক্রির অভিযোগে ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

আপডেটের সময় : ১১:৪২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

আইএনবি ডেস্ক: সরকারি ই-মেইল ও ভুয়া জিডি-মামলার নম্বর ব্যবহার করে নাগরিকদের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর)সহ বিভিন্ন অতি গোপনীয় তথ্য হাতিয়ে নেওয়া এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্রি ও ছড়িয়ে দেওয়ার গুরুতর অপরাধে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার বিভাগ।

গ্রেপ্তারকৃত চার পুলিশ সদস্য হলেন—ডেমরা থানার পুলিশ কনস্টেবল সাইমন হোসেন রাশেদ ও মাসুম মিয়া, ওয়ারী থানার পুলিশ কনস্টেবল নিজাম উদ্দীন এবং তুরাগ থানার পুলিশ কনস্টেবল মো. জিহাদ মিয়া।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ডিএমপির ডিবির এসআই আবিদুর রহমান বাদী হয়ে রমনা থানায় অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ১৯২৩, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১ এবং দণ্ডবিধি আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগ নিবিড়ভাবে তদন্ত করছে।

মামলার এজাহার ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর ডিবির সাইবার মনিটরিং দলের নজরে আসে যে কিছু ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ও টেলিগ্রাম গ্রুপে সাধারণ নাগরিকদের সিডিআর বেচাকেনা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের তথ্য এবং বিকাশ লেনদেনের সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে ডিবি এই সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পায়।

তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, তুরাগ থানায় কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত কনস্টেবল জিহাদ মিয়া থানার ওসির অফিশিয়াল ই-মেইল অ্যাড্রেস ব্যবহার করে ভুয়া জিডি নম্বর ও এএসআইয়ের নাম দেখিয়ে বিভিন্ন নম্বরের সিডিআর সংগ্রহ করতেন। একইভাবে ডেমরা ও ওয়ারী থানার ওসির ই-মেইল এবং ভুয়া মামলার নম্বর ব্যবহার করে কনস্টেবল সাইমন হোসেন রাশেদ, মাসুম মিয়া ও নিজাম উদ্দীন নাগরিকদের সিমের কললিস্ট, সর্বশেষ কল লোকেশন ও জাতীয় পরিচয়পত্রসহ (এনআইডি) বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে তা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দিতেন।

ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ইতিমধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট