নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে ছাত্রদল কর্মীর চড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দিনভর চরম উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কে অবরোধ এবং উভয়পক্ষের মহড়ার একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র হাতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডির উদ্যোগে দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসা হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের নির্দেশে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।
উপাচার্য স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ ঠেকাতে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কুষ্টিয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ জানান, পুলিশের হস্তক্ষেপে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
**উত্তেজনার মধ্যেই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা**
এদিকে ক্যাম্পাসে এমন উত্তপ্ত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ তাদের ইবি শাখার ২৮ সদস্য বিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে। শনিবার রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়লী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটি প্রকাশ করা হয়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান হাফিজকে আহ্বায়ক করে আগামী তিন মাসের জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য পদের মধ্যে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে মো. মামুন-অর-রশিদ, আলী শ্রাবণ ও তরিকুল ইসলাম তরুণসহ আরও অনেকে রয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক সক্রিয়তা বিবেচনায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।
আইএনবি/বিভূঁইয়া
প্রিন্ট

শিবির-ছাত্রদলের উত্তেজনার মধ্যেই ইবিতে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা 


















