ঢাকা , বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo প্রশ্ন আমরা করিনি, করেছে বিগত সরকার :শিক্ষামন্ত্রী Logo সংসদে ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা Logo কুমিল্লায় নৌকায় চড়ে এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা Logo বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo চট্টগ্রামে সাড়ে ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দি Logo জন্মভূমি ফ্রান্সের বিপক্ষে নামছেন মরক্কোর ৬ ফুটবলার   Logo রাতের মধ্যে ১৯ অঞ্চলে বজ্রঝড়ের আশঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত Logo  ধেয়ে আসছে ২০০ কিমি গতির তুফান Logo অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ফ্রি করতে চান প্রধানমন্ত্রী Logo স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি মৌলিক অধিকার: জুবাইদা রহমান

টিউশনির টাকা চাইতেই শিক্ষকাকে কোপালেন ছাত্রীর মা

প্রতীকী ছবি (ইনসেটে হামলার স্বীকার নারী)

আইএনবি ডেস্ক: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে টিউশনির বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সিঁথি সীমিতা (২৮) নামে এক স্কুল শিক্ষকাকে ঘরে আটকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। হামলায় তার মাথায় ১০টি কোপ লাগে, বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় একটি আঙুল। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রীর মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত প্রিয়া বেগম (২৫) একই এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী বায়েজিদ মিয়ার স্ত্রী। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

শিক্ষককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়।

ভৈরব থানার জ্যেষ্ঠ উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল কবির জানান, হামলার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, স্থানীয় একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক সিঁথি সীমিতা গত তিন মাস ধরে প্রিয়া বেগমের সন্তানকে বাসায় গিয়ে পড়াতেন। এ জন্য মাসিক এক হাজার ৫০০ টাকা পারিশ্রমিক পেতেন। সম্প্রতি তিনি বকেয়া টিউশনির টাকা চাইলে প্রিয়া ক্ষুব্ধ হন।

সোমবার সকালে প্রতিদিনের মতো শিক্ষার্থীকে পড়াতে গিয়ে বিপদের মুখে পড়েন সিঁথি। পড়ানো শেষে বের হওয়ার সময় প্রিয়া ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন।

দরজায় সেদিন অতিরিক্ত ছিটকিনি লাগানো থাকায় বের হতে পারেননি সিঁথি। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপ লাগে। সাতটি আঙুল গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, সিঁথির মাথায় ১০টি কোপের আঘাত রয়েছে এবং সেখানে প্রায় ৫০টি সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সিঁথি সীমিতা জানান, প্রথম কোপের পর তিনি দরজা খুলে বের হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেদিন দরজায় দুটি ছিটকিনি লাগানো থাকায় বের হতে পারেননি।

তিনি আরও দাবি করেন, হামলার সময় তার গলায়, হাতে ও কানে প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার ছিল। অভিযুক্ত প্রিয়া তাকে বলছিলেন, ‘আমার কাছে এক আনা স্বর্ণ নেই, তুই এত স্বর্ণ পরে আছিস ক্যান? স্বর্ণ দে।’

মামলার বাদী শিশু মিয়া দাবি করেন, এটি শুধু টিউশনির টাকা নিয়ে বিরোধ নয়, বরং স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা। তার অভিযোগ, অভিযুক্ত অতীতেও এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এখন তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে উপস্থাপন করে অপরাধের গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
সূত্র: প্রথম আলো

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
Tag :

পরীক্ষা স্থগিত না হলে আগামীকাল ‘লং মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ ডাক

টিউশনির টাকা চাইতেই শিক্ষকাকে কোপালেন ছাত্রীর মা

আপডেট সময় ১০:৩৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

আইএনবি ডেস্ক: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে টিউশনির বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সিঁথি সীমিতা (২৮) নামে এক স্কুল শিক্ষকাকে ঘরে আটকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। হামলায় তার মাথায় ১০টি কোপ লাগে, বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় একটি আঙুল। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রীর মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত প্রিয়া বেগম (২৫) একই এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী বায়েজিদ মিয়ার স্ত্রী। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

শিক্ষককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়।

ভৈরব থানার জ্যেষ্ঠ উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল কবির জানান, হামলার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, স্থানীয় একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক সিঁথি সীমিতা গত তিন মাস ধরে প্রিয়া বেগমের সন্তানকে বাসায় গিয়ে পড়াতেন। এ জন্য মাসিক এক হাজার ৫০০ টাকা পারিশ্রমিক পেতেন। সম্প্রতি তিনি বকেয়া টিউশনির টাকা চাইলে প্রিয়া ক্ষুব্ধ হন।

সোমবার সকালে প্রতিদিনের মতো শিক্ষার্থীকে পড়াতে গিয়ে বিপদের মুখে পড়েন সিঁথি। পড়ানো শেষে বের হওয়ার সময় প্রিয়া ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন।

দরজায় সেদিন অতিরিক্ত ছিটকিনি লাগানো থাকায় বের হতে পারেননি সিঁথি। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপ লাগে। সাতটি আঙুল গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, সিঁথির মাথায় ১০টি কোপের আঘাত রয়েছে এবং সেখানে প্রায় ৫০টি সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সিঁথি সীমিতা জানান, প্রথম কোপের পর তিনি দরজা খুলে বের হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেদিন দরজায় দুটি ছিটকিনি লাগানো থাকায় বের হতে পারেননি।

তিনি আরও দাবি করেন, হামলার সময় তার গলায়, হাতে ও কানে প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার ছিল। অভিযুক্ত প্রিয়া তাকে বলছিলেন, ‘আমার কাছে এক আনা স্বর্ণ নেই, তুই এত স্বর্ণ পরে আছিস ক্যান? স্বর্ণ দে।’

মামলার বাদী শিশু মিয়া দাবি করেন, এটি শুধু টিউশনির টাকা নিয়ে বিরোধ নয়, বরং স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা। তার অভিযোগ, অভিযুক্ত অতীতেও এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এখন তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে উপস্থাপন করে অপরাধের গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
সূত্র: প্রথম আলো

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট