ঢাকা , বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo প্রশ্ন আমরা করিনি, করেছে বিগত সরকার :শিক্ষামন্ত্রী Logo সংসদে ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা Logo কুমিল্লায় নৌকায় চড়ে এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা Logo বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo চট্টগ্রামে সাড়ে ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দি Logo জন্মভূমি ফ্রান্সের বিপক্ষে নামছেন মরক্কোর ৬ ফুটবলার   Logo রাতের মধ্যে ১৯ অঞ্চলে বজ্রঝড়ের আশঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত Logo  ধেয়ে আসছে ২০০ কিমি গতির তুফান Logo অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ফ্রি করতে চান প্রধানমন্ত্রী Logo স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি মৌলিক অধিকার: জুবাইদা রহমান

প্রশ্ন আমরা করিনি, করেছে বিগত সরকার :শিক্ষামন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

আইএনবি ডেস্ক: এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নে ভুল থাকার দায় বিগত সরকারের ওপর চাপিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব নেয়া বিএনপি সরকার এই প্রশ্ন তৈরি করেনি; বরং পূর্ববর্তী সরকারের মডারেটরদের করা প্রশ্নেই এই ত্রুটি ছিল। তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষতির কথা বিবেচনা করে ভুল থাকা দুটি প্রশ্নে সবাইকে ‘ফুল ক্রেডিট’ বা পুরো নম্বর দেয়ার তাৎক্ষণিক ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

 

আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, টানা বৃষ্টিতে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা এক-দুই দিন পিছিয়ে দেয়ার অনুরোধ করলেও তা করা হয়নি। তিনি প্রশ্ন করেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা কয়েক দিনের জন্য পিছিয়ে দিতে কী সমস্যা ছিল। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে প্রায় দুই হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রামে যখন বন্যা হলো, তখন একে একে প্রথম রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, পরে খাগড়াছড়ি, এরপরে পুরো বোর্ডের পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছি। আমরা লক্ষ্য করছিলাম যে বৃষ্টি হচ্ছিলো। আমরা মনিটরিং করছিলাম। মনিটরিং-এর সময় আমরা ৬৪টি জেলার এসপি, আটটি বিভাগীয় কমিশনার, প্রত্যেকটি বোর্ডের চেয়ারম্যান, ইউএনও – সবার সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা ওয়েদার ম্যানদের (আবহাওয়া কর্মকর্তা) সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা বললো যে বৃষ্টি হবে না। বিকাল ৫টা পর্যন্ত বসে থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম। সবাই বললো, ওয়েদার ভালো হবে। সেজন্য আমরা পরীক্ষা রেখেছি। সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখতে পেলাম, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের মাঠ পানিতে ভরে গিয়েছে।

তবে কেন্দ্র পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয় বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে একটি পাঁচতলা ভবনে নেয়া হয় এবং সেখানে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি আরও বলেন, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ছাড়া দেশের অন্য কোথাও এমন পরিস্থিতির কথা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও ইউএনওরা জানাননি।

শুধু কুমিল্লা সরকারি মহাবিদ্যালয়ে এই ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা নির্দেশ দিয়েছে, পরীক্ষা দেরিতে শুরু করার জন্য এবং যে মেয়েটির কাপড় ভিজে গিয়েছিলো, তার বাড়ি থেকে কাপড় আনা হয়েছে এবং এক ঘণ্টা পরে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে এবং পরীক্ষার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে, যোগ করেন তিনি।

এসময় শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে পরীক্ষা পরিচালনার বিদ্যমান ব্যবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন ডিসি, ইউএনও, পুলিশ দুর্যোগকালীন সময়ে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারে যে কোনো স্থানে পরীক্ষা হবে কি হবে না, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্তও নিতে পারেন তারা। আমরা বারবার তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা বলেছে যে স্যার, আমরা ঠিকমতোই নিচ্ছি।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
Tag :

পরীক্ষা স্থগিত না হলে আগামীকাল ‘লং মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ ডাক

প্রশ্ন আমরা করিনি, করেছে বিগত সরকার :শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট সময় ০৮:৫৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

আইএনবি ডেস্ক: এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নে ভুল থাকার দায় বিগত সরকারের ওপর চাপিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব নেয়া বিএনপি সরকার এই প্রশ্ন তৈরি করেনি; বরং পূর্ববর্তী সরকারের মডারেটরদের করা প্রশ্নেই এই ত্রুটি ছিল। তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষতির কথা বিবেচনা করে ভুল থাকা দুটি প্রশ্নে সবাইকে ‘ফুল ক্রেডিট’ বা পুরো নম্বর দেয়ার তাৎক্ষণিক ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

 

আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, টানা বৃষ্টিতে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা এক-দুই দিন পিছিয়ে দেয়ার অনুরোধ করলেও তা করা হয়নি। তিনি প্রশ্ন করেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা কয়েক দিনের জন্য পিছিয়ে দিতে কী সমস্যা ছিল। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে প্রায় দুই হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রামে যখন বন্যা হলো, তখন একে একে প্রথম রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, পরে খাগড়াছড়ি, এরপরে পুরো বোর্ডের পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছি। আমরা লক্ষ্য করছিলাম যে বৃষ্টি হচ্ছিলো। আমরা মনিটরিং করছিলাম। মনিটরিং-এর সময় আমরা ৬৪টি জেলার এসপি, আটটি বিভাগীয় কমিশনার, প্রত্যেকটি বোর্ডের চেয়ারম্যান, ইউএনও – সবার সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা ওয়েদার ম্যানদের (আবহাওয়া কর্মকর্তা) সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা বললো যে বৃষ্টি হবে না। বিকাল ৫টা পর্যন্ত বসে থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম। সবাই বললো, ওয়েদার ভালো হবে। সেজন্য আমরা পরীক্ষা রেখেছি। সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখতে পেলাম, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের মাঠ পানিতে ভরে গিয়েছে।

তবে কেন্দ্র পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয় বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে একটি পাঁচতলা ভবনে নেয়া হয় এবং সেখানে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি আরও বলেন, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ছাড়া দেশের অন্য কোথাও এমন পরিস্থিতির কথা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও ইউএনওরা জানাননি।

শুধু কুমিল্লা সরকারি মহাবিদ্যালয়ে এই ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা নির্দেশ দিয়েছে, পরীক্ষা দেরিতে শুরু করার জন্য এবং যে মেয়েটির কাপড় ভিজে গিয়েছিলো, তার বাড়ি থেকে কাপড় আনা হয়েছে এবং এক ঘণ্টা পরে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে এবং পরীক্ষার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে, যোগ করেন তিনি।

এসময় শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে পরীক্ষা পরিচালনার বিদ্যমান ব্যবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন ডিসি, ইউএনও, পুলিশ দুর্যোগকালীন সময়ে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারে যে কোনো স্থানে পরীক্ষা হবে কি হবে না, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্তও নিতে পারেন তারা। আমরা বারবার তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা বলেছে যে স্যার, আমরা ঠিকমতোই নিচ্ছি।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট