ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুমিল্লায় নৌকায় চড়ে এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা Logo বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo চট্টগ্রামে সাড়ে ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দি Logo জন্মভূমি ফ্রান্সের বিপক্ষে নামছেন মরক্কোর ৬ ফুটবলার   Logo রাতের মধ্যে ১৯ অঞ্চলে বজ্রঝড়ের আশঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত Logo  ধেয়ে আসছে ২০০ কিমি গতির তুফান Logo অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ফ্রি করতে চান প্রধানমন্ত্রী Logo স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি মৌলিক অধিকার: জুবাইদা রহমান Logo জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশ Logo সমালোচনার কারনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর লেখা বই সংরক্ষণের নির্দেশনা বাতিল

যমুনার পানি বাড়ছে , সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে ধেয়ে আসা ঢলে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে বাড়ছে যমুনা নদীর পানি। দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীটির অববাহিকায় গড়ে ওঠা চরাঞ্চল ও দ্বীপচরের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে। হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় নদী তীরবর্তী ও চরের লাখো মানুষের মধ্যে নতুন করে তীব্র বন্যা ও নদীভাঙনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নিয়ন্ত্রণকক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে যমুনা নদীর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। পানি বাড়তে থাকায় চরাঞ্চলের নিচু এলাকার ফসলি জমি ও বসতভিটায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে। আমনের বীজতলা ও কাঁচা শাকসবজির ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।

যমুনা তীরবর্তী নতুন মাইজবাড়ী চরের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘পানি যেভাবে বাড়তাছে, তাতে আমরা খুব আতঙ্কে আছি। এক রাতে এত দ্রুত পানি বাড়তে আগে দেখিনি। ফসলি জমি তো গেলই, ঘরের ভিটায়ও পানি ছুঁই ছুঁই করতাছে। যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে আজ রাতেই অনেক এলাকা তলিয়ে যাবে।’

যমুনা নদী বেষ্টিত এই উপজেলায় বন্যা ও নদীভাঙনকে চরাঞ্চলের মানুষের জন্য স্থায়ী অভিশাপ বলে মনে করছেন স্থানীয় অধিকারকর্মীরা।

উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নদী ভাঙনরোধে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ ও প্লাবিত এলাকার মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার দাবি জানান তিনি।

দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে কাজিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউনিয়নগুলোর জন্য জিআর চাল, টাকা এবং প্যাকেট শুকনো খাবার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানি বাড়ছে। এ কারণে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে ও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আমাদের নজরদারি রয়েছে।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
Tag :

যমুনার পানি বাড়ছে , সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

যমুনার পানি বাড়ছে , সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

আপডেট সময় ১০:০৭:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে ধেয়ে আসা ঢলে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে বাড়ছে যমুনা নদীর পানি। দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীটির অববাহিকায় গড়ে ওঠা চরাঞ্চল ও দ্বীপচরের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে। হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় নদী তীরবর্তী ও চরের লাখো মানুষের মধ্যে নতুন করে তীব্র বন্যা ও নদীভাঙনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নিয়ন্ত্রণকক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে যমুনা নদীর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। পানি বাড়তে থাকায় চরাঞ্চলের নিচু এলাকার ফসলি জমি ও বসতভিটায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে। আমনের বীজতলা ও কাঁচা শাকসবজির ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।

যমুনা তীরবর্তী নতুন মাইজবাড়ী চরের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘পানি যেভাবে বাড়তাছে, তাতে আমরা খুব আতঙ্কে আছি। এক রাতে এত দ্রুত পানি বাড়তে আগে দেখিনি। ফসলি জমি তো গেলই, ঘরের ভিটায়ও পানি ছুঁই ছুঁই করতাছে। যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে আজ রাতেই অনেক এলাকা তলিয়ে যাবে।’

যমুনা নদী বেষ্টিত এই উপজেলায় বন্যা ও নদীভাঙনকে চরাঞ্চলের মানুষের জন্য স্থায়ী অভিশাপ বলে মনে করছেন স্থানীয় অধিকারকর্মীরা।

উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নদী ভাঙনরোধে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ ও প্লাবিত এলাকার মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার দাবি জানান তিনি।

দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে কাজিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউনিয়নগুলোর জন্য জিআর চাল, টাকা এবং প্যাকেট শুকনো খাবার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানি বাড়ছে। এ কারণে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে ও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আমাদের নজরদারি রয়েছে।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট