আন্তর্জাতিক ডেস্ক:জার্মানির লাইপজিগ-হালে বিমানবন্দরে বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন উদ্ধারের ঘটনায় দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা যেন থামছেই না। জার্মান সরকার ঘটনাটিকে বিদেশি শক্তির সম্ভাব্য হাইব্রিড হামলা বললেও সরাসরি কোনো দেশকে দায়ী করছে না।
ভিন্নমতের কয়েকজন নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞের সন্দেহের তীর মস্কো ও কিয়েভের দিকেই।
গত সপ্তাহে ৫ আগস্ট লাইপজিগ বিমানবন্দরে ইউক্রেনের পরিবহনকারী কয়েকটি বিমান রাখা ছিল।
এর কাছেই বিস্ফোরক ও ডেটোনেটরসহ একটি ড্রোন পাওয়া যায়। বিমানবন্দরের এক কর্মী সেটিকে ভূপাতিত করেন।
ঘটনাটি তদন্ত করছে জার্মানির ফেডারেল প্রসিকিউটর কার্যালয়।
সন্দেহ কেন রাশিয়ার দিকে?
যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ড্রোনটি সম্ভবত রুশ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। সিএনএনের এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাও একই ধরনের দাবি করেছেন।
জার্মান ও ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন, ইউক্রেনের বিমানকে লক্ষ্য করে ড্রোনটি পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। রাশিয়ার উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি রয়েছে। ইউক্রেনকে পশ্চিমা দেশগুলোর অস্ত্র সরবরাহ নিয়েও মস্কো বহুবার হুমকি দিয়েছে। এ ছাড়া রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ-এর বিরুদ্ধে ইউরোপে বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
জার্মানির রাশিয়া ও সামরিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ম্যাথিয়াস উল গণমাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিকভাবে রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পশ্চিমা দেশগুলোতে রুশ এজেন্টদের ওপর কঠোর নজরদারি থাকায় এমন অভিযান চালানো রাশিয়ার জন্য সহজও নয়।
ইউক্রেনকে কেন সন্দেহ?
তদন্ত শেষ হওয়ার আগে রাশিয়াকে দায়ী করার বিষয়ে সতর্ক জার্মান সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডোব্রিন্ট শুধু ঘটনাটিকে বিদেশি শক্তির হাইব্রিড হামলার সম্ভাবনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
জার্মানির কয়েকজন রাজনীতিক বলছেন, কোনো পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে এমন হামলা চালিয়ে এর দায় রাশিয়ার ওপর চাপাতে পারে। এটিকে বলা হয় ফলস ফ্ল্যাগ বা অন্যের পরিচয়ে হামলা। সেক্ষেত্রে ইউক্রেনের নাম সবার আগে আসে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে আগেও নাশকতার অভিযোগ-
লাইপজিগের ঘটনা একেবারে বিচ্ছিন্ন নয়। ২০২৪ সালে একই শহরের ডিএইচএল লজিস্টিকস কেন্দ্রে একটি বিমানবাহী প্যাকেটে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। জার্মানির নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ধারণা, সেটি রাশিয়ার পক্ষে পরিচালিত একটি নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড হতে পারে। লিথুয়ানিয়ায় এ-সংক্রান্ত মামলায় পাঁচজনের বিচার চলছে। তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এসব সন্দেহভাজনের মধ্যে রাশিয়া, ইউক্রেন ও লিথুয়ানিয়ার নাগরিক রয়েছেন।
মস্কোর দাবি, এটি ইউক্রেনের ষড়যন্ত্র-
রাশিয়া অবশ্য বরাবরই এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বার্লিনে রুশ দূতাবাস ঘটনাটিকে ইউক্রেনের উসকানি ও ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য, জার্মানিতে রাশিয়াবিরোধী মনোভাব বাড়াতেই এমন ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। রুশ কর্মকর্তারা আরও দাবি করেছেন, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দারা রাশিয়াকে দায়ী করে ইউরোপকে যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা করতে পারে।
আইএনবি/বিভূঁইয়া
প্রিন্ট

আইএনবি নিউজ ডেস্ক 




















