আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংবলিত সামরিক ড্রোন ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে । এই ড্রোনই বদলে দিচ্ছে যুদ্ধের চিত্র। চীনের আঞ্চলিক সামরিক কার্যকলাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এবার জাপানও নিজস্ব প্রযুক্তির ড্রোন তৈরির কথা ভাবছে। এভাবেই আঞ্চলিক উত্তেজনায় বদলে যাচ্ছে জাপানের প্রতিরক্ষা কৌশল। জাপানের মন্ত্রিসভায় সম্প্রতি উত্থাপিত ৫৯৮ পৃষ্ঠার প্রতিরক্ষা দলিলে এসব প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে।
দলিলের তথ্যমতে, জাপান নতুন যুদ্ধ পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়াতে প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করার চিন্তা করছে। ড্রোন উৎপাদন পরিকল্পনার পাশাপাশি দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দ্বীপগুলোতে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন শুরু করেছে টোকিও।
বার্তা সংস্থা এপি লিখেছে, ওই দলিলে উল্লেখ করা হয়েছে, চীনই জাপানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ। প্রশান্ত মহাসাগরে চীনা যুদ্ধজাহাজের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ও ঘন ঘন চলাচলে জাপান উদ্বিগ্ন।
গত সপ্তাহে জাপানের প্রযুক্তিগত শিল্পপ্রতিষ্ঠান তোশিবা ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রোড্রোনের সঙ্গে যৌথভাবে যুদ্ধ ড্রোন তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চালকবিহীন অস্ত্রটি জাপানের সামরিক সদস্যের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করতে পারে। তবে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে ড্রোন তৈরি করা জাপানের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হবে।
জাপান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ-পশ্চিম দ্বীপপুঞ্জে সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে এবং দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে। কারণ দেশটি তাইওয়ানে আসন্ন একটি সংঘাত নিয়ে উদ্বিগ্ন। চীন ভূখণ্ডটিকে নিজের বলে দাবি করে আসছে।
প্রতিরক্ষা দলিলে প্রশান্ত মহাসাগরে চীনা যুদ্ধজাহাজের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং ঘনঘন সামরিক কার্যকলাপকে বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চীনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা কার্যক্রম শক্তিশালী করার জন্য একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করার কথাও উঠে এসেছে দলিলে।
জাপানের পর্যবেক্ষণ বলছে, চীন স্বচ্ছতা ছাড়াই ধারাবাহিকভাবে সামরিক ব্যয় বাড়িয়েছে এবং দ্রুত পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা শক্তিশালী করেছে।
দলিলে উল্লেখ করা হয়, গত ডিসেম্বরে দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের কাছে মহড়ার সময় চীনা বিমানগুলো জাপানি বিমানের ওপর তাদের রাডার লক করেছিল, যা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাব্য প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া গত জুনে প্রথমবারের মতো জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ইও জিমার কাছে দুটি চীনা বিমানবাহী রণতরী দেখা গিয়েছিল। টোকিওর উদ্বেগ, বেইজিং তার সীমানা ছাড়িয়ে পূর্ব চীন সাগরের বিতর্কিত এলাকাগুলোতে দ্রুত সামরিক কার্যকলাপ প্রসারিত করছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জাপানের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা দেশটির সামরিক রূপান্তর প্রচেষ্টার কথা স্বীকার করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে শান্তিবাদী অঙ্গীকার বজায় রেখে আসছে জাপান। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠিত সংস্থা প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যাপারে জাপানকে এড়িয়ে চলে। কিন্তু ভূরাজনীতির ক্রমবর্ধমান উত্তাপ জাপানকে সামরিক পদক্ষেপে বাধ্য করাচ্ছে।
আইএনবি/বিভূঁইয়া
প্রিন্ট

আইএনবি নিউজ ডেস্ক 






















