আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি-র পার্লামেন্ট অভিযান ঘিরে চরম পুলিশি বর্বরতার অভিযোগে উত্তাল রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গন। এর মধ্যেই গত ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালীন এক নারী আন্দোলনকারীকে থাপ্পড় মারার অভিযোগে দিল্লি পুলিশের অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (এডিসিপি) সন্দীপ লাম্বাকে যন্তর মন্তর আন্দোলন স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষা-সংক্রান্ত নানা অনিয়ম এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ‘চলো সংসদ’ অভিযানের সময় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।
এই পুলিশি সহিংসতার বিষয়টি গড়ায় দিল্লি হাইকোর্ট পর্যন্ত। বুধবার এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে মামলাকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন উচ্চ আদালতে এডিসিপি সন্দীপ লাম্বার বিরুদ্ধে সরব হন। প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চকে তিনি জানান, শান্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারীকে প্রকাশ্য দিবালোকে চড় মারেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। ভিড় হটাতে যে নিয়ম মানা দরকার, যেমন প্রথমে ওয়াটার ক্যানন ব্যবহার করা—তা না করে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর সরাসরি টিয়ার গ্যাসের শেল ছোড়ে ও লাঠিচার্জ করে। আদালত এই পুলিশি পদক্ষেপ সংক্রান্ত সমস্ত নথি ও সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকার ও মানবাধিকার কমিশনকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলেছে।
অন্যদিকে, সাবেক তৃণমূল সংসদ সদস্য সাকেত গোখলেও উক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এদিকে সিজেপি-র উত্থান নিয়ে দিল্লিজুড়ে ব্যাপক চর্চা চলছে। গত মে মাসে অভিজিৎ দীপকে নামক এক তরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্যাটায়ারিকাল সংগঠন হিসেবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি গঠন করেন, যা দেখতে দেখতে ভারতজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়।
নিটসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন এখন দেশব্যাপী প্রভাব ফেলেছে। পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকও যন্তর মন্তরে এই দাবির সমর্থনে অনশন পালন করেন। যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের ওপর দিল্লি পুলিশের এই হামলার ঘটনা প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
আইএনবি/বিভূঁইয়া
প্রিন্ট

আইএনবি নিউজ ডেস্ক 























