আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের মানুষ যখন ২২ জুলাই ভোররাত ৩টার দিকে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই মহাকাশ থেকে তোলা এক ছবিতে দেখা যায় অবিশ্বাস্য দৃশ্য! পৃথিবীর মানচিত্র থেকে যেন উধাও হয়ে গেছে বিশালাকৃতির এই দেশ। কারণ গোটা ভারত তখন মেঘের চাদরে ঢাকা। বিষুবরেখা থেকে ৩৬ হাজার কিলোমিটার ওপরে থাকা স্যাটেলাইটে ধরা পড়ে অদ্ভূত এই দৃশ্য।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) এবং ইসরোর স্যাটেলাইট ইনস্যাট-থ্রিডিআর ও ইনস্যাট-থ্রিডিএস-এর পাঠানো ছবি বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। রাত সোয়া ২টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে তোলা এসব ছবিতে দেখা যায়, দেশটির প্রায় ৯৫ শতাংশ এলাকাজুড়ে মেঘের বিশাল আস্তরণ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্যাটেলাইটের থার্মাল ইনফ্রারেড ফ্রেমে দেখা গেছে বক্রাকৃতির এক বিশাল মেঘমালা। বঙ্গোপসাগর থেকে শুরু হয়ে উড়িষ্যা, ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশ অতিক্রম করে এটি বিস্তৃত হয়েছে। এরপর গুজরাট হয়ে তা আরব সাগরের দিকে ধাবিত হয়। একমাত্র রাজস্থান ও কচ্ছের কিছুটা অংশ ফাঁকা ছিল।
স্যাটেলাইটে জলীয় বাষ্পের ছবি পরীক্ষা করে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, পরিবেশ আর্দ্রতায় পুরো পরিপূর্ণ। এর ফলে আকাশে মেঘের স্থায়িত্ব কয়েক ঘণ্টার বদলে কয়েকদিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
মহাকাশ থেকে দেখা গেছে মেঘের ওপরের ভাগের তাপমাত্রা নেমে এসেছে মাইনাস ৬০ থেকে মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আবহাওয়াবিদদের মতে, মেঘের ওপরের অংশ যত বেশি ঠান্ডা হবে, বৃষ্টি তত ভারী হবে। এ ধরনের মেঘ আকাশ থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৬ কিলোমিটার উঁচুতে অবস্থান করে।
এরই মধ্যে দেশটির বিভিন্ন স্থানে ভারী বর্ষণ শুরু হয়ে গেছে। এর মধ্যে মেঘালয়ের উইলিয়ামনগরে ৩৭ সেন্টিমিটার এবং উত্তরাখণ্ডের শামায় ২২ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
চলতি বছরের জুন মাসে ভারতে রেকর্ড পরিমাণ কম বৃষ্টি হয়েছিল, যা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ কম। ফলে নতুন করে এই মেঘমালা সৃষ্টি হওয়ায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আইএমডি জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব ভারতে আগামী চার থেকে পাঁচদিন টানা সক্রিয় মৌসুমি বায়ু প্রবাহ থাকবে। তবে কেবল এক রাতের এই মেঘ দিয়ে মৌসুমের মোট বৃষ্টির ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
আইএনবি/বিভূঁইয়া
প্রিন্ট

আইএনবি নিউজ ডেস্ক 























