আইএনবি ডেস্ক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করে বলেছেন , তাকবির দিয়ে ইসলামী ব্যাংক দখল করে হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই, দলীয় বিবেচনায় নতুন নিয়োগ, নিয়মবহির্ভূত পদোন্নতি ও ঋণ জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনা ইসলামের নামেই হয়েছে । তিনি বলেছেন, এসব অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। তদন্তে যার নামই আসুক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ইসলামী ব্যাংকের কর্মী ছাঁটাই ও নিয়োগ বাণিজ্যের কঠোর সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তাকবির দিয়ে ব্যাংক দখল করার পর ৯ হাজার কর্মীকে অন্যায় ও নিয়মবহির্ভূতভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তারা প্রায় সময় রাস্তায় বিক্ষোভ করেন।
শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে ৬ হাজার জনকে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫০ শতাংশের চাকরি এরই মধ্যে স্থায়ী করা হয়েছে, বাকিদেরটাও করার চেষ্টা চলছে।
এ ছাড়া নিয়ম ভেঙে ১৩ হাজার পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। যাদের যে ক্যাটাগরিতে যাওয়ার কথা নয়, তাদের দুই-তিনটি করে প্রমোশন দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এসব অনিয়ম তো হয়েছেই, আর তা ইসলামের নামেই হয়েছে বলে মনে হয়। সুতরাং এসব বিষয়ে তদন্ত হলে হয়তো আমাদের কারও কারও নামও সেখানে চলে আসতে পারে।
ব্যাংকে ঋণ জালিয়াতির প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ৫ আগস্টের পর এই ব্যাংক থেকে যারা লোন গ্রহণ করেছে, তাদের তদন্ত হবে। নাবিল গ্রুপকে এলসির বিপরীতে ৭০০ কোটি টাকা লোন দেওয়া হয়েছে। পরে মালামাল বিক্রি করে ব্যাংকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। দুষ্টু লোকেরা বলে—সেটা কোনো এক দলের নির্বাচনী তহবিলে গেছে এবং তারা একটি টিভি চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করেছে। সেই চ্যানেলটা কোন পক্ষে খেলছে, তা আমরা জানি। তাদের ব্যাংক দায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। লান্তাবুর গ্রুপকে হেড অফিসের অনুমোদন ছাড়া নির্বাচনের আগে ৪০ কোটি টাকা লোন দেওয়া হয়েছে, যার কোনো সদুত্তর নেই। এসব বিষয়েও তদন্ত হবে।
অর্থপাচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এস আলম গ্রুপের লাখ কোটি টাকা পাচার করার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, আমরাও দাবি করছি বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে এর তদন্ত হোক। যারা বাংলাদেশের মানুষের টাকা বিদেশে পাচার করেছে, সবার বিরুদ্ধে তদন্ত হতে হবে। শুধু অভিযোগ দিয়ে ক্ষান্ত হলে চলবে না। করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটির (সিএসআর) টাকা নির্বাচনের আগে কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে, আরডিএস প্রকল্পের টাকা কত জনকে কীভাবে দেওয়া হয়েছে—সব তদন্ত করে তা ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুসারে জনস্বার্থে, মুদ্রানীতি এবং ব্যাংক নীতির উন্নতির জন্য যেকোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রয়েছে। কোনো ব্যাংকের আমানতকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী ও ক্ষতিকর কার্যকলাপ প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালক থেকে শুরু করে পরিচালনা পর্ষদ পর্যন্ত বাতিল করতে পারে। এ নিয়ে আলোচনা করার আগে ব্যাংক কোম্পানি আইন পরিবর্তন করতে হবে। অন্যথায় রেগুলেটরি অথরিটি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ও ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষায় নিজস্ব ক্ষমতাবলে ব্যবস্থা নেবে। নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এখনও কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, তাই তিনি ‘প্রিজাম্পশন অব ইনোসেন্স’ নীতি অনুযায়ী বেনিফিট পাবেন। নতুন অভিযোগ এলে নিশ্চয়ই তদন্ত হবে।
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা আপনাদের আহ্বান অনুযায়ী ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছি। ন্যায় শুধু নিজেদের জন্য চাইবেন, তা তো হতে পারে না। যারা আজকে ব্যাংক কর্মচারীদের অফিসে ঢুকতে দিচ্ছেন না এবং কলম বিরতির নামে জবরদস্তিমূলক বাধা দিচ্ছেন, তাদের সব ভিডিও-অডিও আমাদের কাছে আছে। বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন—গ্রাহকের সেবা নিশ্চিত করতে টিয়ার গ্যাস বা গুলি চালাতে হলে তা তার বুকের ওপর দিয়ে যেতে হবে। তাকে গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, আমানতকারীদের স্বার্থ নিশ্চিত করার জন্য আমরাও বুক পেতে দেব।
উল্লেখ্য, সংসদে ৬৮ বিধিতে ‘দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং কোটি কোটি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ারগুলো বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় সব ধরনের অন্যায় হস্তক্ষেপ বন্ধ’ করার দাবিতে এ সাধারণ আলোচনার প্রস্তাব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সেই প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইএনবি/বিভূঁইয়া
প্রিন্ট

আইএনবি নিউজ ডেস্ক 














