ঢাকা , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করলেন Logo বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারনে দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টির আভাস Logo রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসি বৈঠক Logo সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ Logo শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর সরকার পতনের ডাক রাহুল গান্ধীর Logo শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একদিন সময় চেয়েছে মোদি সরকার Logo রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে বঙ্গভবন ঘিরে কৌতূহল Logo ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে কথা না বলায় ক্যাটরিনার ফ্যান পেজ বন্ধ Logo জামায়াত এমপির ঘটনার তদন্ত চান তাসনিম জারা Logo মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল, প্রিয়াঙ্কা ও অখিলেশ আটক

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ১৩ বসতঘরে আগুন, আহত ৬

মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় দুপক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ১৩টি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।

এতে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের খাতিয়াল গ্রামে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।

আহতদের মধ্যে খাতিয়াল এলাকার আব্বাস চৌধুরী (৪৭) নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে প্রথমে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাতিয়াল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবুল জমাদ্দার ও আব্বাস চৌধুরীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে বুধবার উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে আব্বাস চৌধুরীকে একা পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উভয়পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে আব্বাস চৌধুরীর লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিপক্ষ আবুল জমাদ্দারের বাড়িসহ তাদের স্বজনদের বসতঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায়।

এতে আবুল জমাদ্দার, আনোয়ার জমাদ্দার, বেল্লাল জমাদ্দার ও সিরাজ জমাদ্দারের বাড়িসহ মোট ১৩টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে উভয়পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হন।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বেল্লাল জমাদ্দার বলেন, আমাদের জান বাঁচানোই দায় হয়ে পড়েছিল। মালামাল সরানোর সুযোগ পাইনি। আমার ঘরবাড়িসহ জমাদ্দার বংশের ১৩টি ঘর পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। এতে আমাদের প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা এই হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অনুসন্ধান) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আবুল ও আব্বাস গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এর আগেও দুদিন আগে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আজ সেই বিরোধ বড় আকার ধারণ করে। আনোয়ার-আবুল গ্রুপের ১৩টি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে কথার সময় কান্না, ৩ বছরের সন্তানকে মেরে ফেললেন মা

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ১৩ বসতঘরে আগুন, আহত ৬

আপডেট সময় ০৬:৪৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় দুপক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ১৩টি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।

এতে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের খাতিয়াল গ্রামে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।

আহতদের মধ্যে খাতিয়াল এলাকার আব্বাস চৌধুরী (৪৭) নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে প্রথমে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাতিয়াল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবুল জমাদ্দার ও আব্বাস চৌধুরীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে বুধবার উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে আব্বাস চৌধুরীকে একা পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উভয়পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে আব্বাস চৌধুরীর লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিপক্ষ আবুল জমাদ্দারের বাড়িসহ তাদের স্বজনদের বসতঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায়।

এতে আবুল জমাদ্দার, আনোয়ার জমাদ্দার, বেল্লাল জমাদ্দার ও সিরাজ জমাদ্দারের বাড়িসহ মোট ১৩টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে উভয়পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হন।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বেল্লাল জমাদ্দার বলেন, আমাদের জান বাঁচানোই দায় হয়ে পড়েছিল। মালামাল সরানোর সুযোগ পাইনি। আমার ঘরবাড়িসহ জমাদ্দার বংশের ১৩টি ঘর পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। এতে আমাদের প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা এই হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অনুসন্ধান) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আবুল ও আব্বাস গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এর আগেও দুদিন আগে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আজ সেই বিরোধ বড় আকার ধারণ করে। আনোয়ার-আবুল গ্রুপের ১৩টি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট