ঢাকা , শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৮ বার ছুরি মেরে তরুণকে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:ভারতের দিল্লির রাস্তায় পর পর ২৮ বার ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হল ২৫ বছরের এক যুবককে। সব ঘটনা দেখেও পাশ কাটিয়ে চলে যান পথচারীরা। রাস্তার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেই নৃশংস দৃশ্য। যা দেখে শিউরে উঠছেন নেটিজেনরা।

গতকাল সোমবার দিল্লি পুলিশ জানায়, ঘটনাটি ঘটে গত ৮ জুলাই দিল্লির রঘুবীর নগরে। এক নাবালক ও তার দুই বন্ধু মিলে ওই যুবককে খুন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, তরুণের অপারাধ তিনি অভিযুক্তদের রাস্তার মধ্যে বাইক নিয়ে স্টান্ট করতে নিষেধ করেছিলেন। বলেছিলেন, এতে প্রাণের ঝুঁকি রয়েছে। কিন্তু সতর্ক করতে নিয়ে যে নিজের প্রাণই খোয়াতে হবে, ভাবতেও পারেননি তিনি।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মাঝরাস্তায় ছুরিকাঘাত করতে করতেই যুবককে মাটিতে ফেলে দেয় একজন। তারপর ক্রমাগত কোপ বসাতে থাকে তার শরীরে। ওই সময় নাবালক এতটাই ক্ষোভে ফুসছিল যে নিথর দেহেও ছুরি বসাতে থাকে। অন্যজন আটকালে তার বাধা না মেনে ফের ছুরিকাঘাত করে। ঘটনাটি যখন ঘটছে তখন আশপাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে একাধিক গাড়ি-মোটরবাইক। পথচারীরাও আড় চোখে ঘুরে তাকাচ্ছে, কিন্তু কেউ কোনো প্রতিবাদ করছেন না। সকলেই নীরব দর্শক। এমনকী অভিযুক্তরা চলে যাওয়ার পরও সেই মৃতদেহের দিকেও কেউ এগিয়ে যাননি।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম মণীশ। রঘুবীর নগরের বাসিন্দা পেশায় গাড়িচালক। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এদিকে, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তিন অভিযুক্তকেই চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয়েছে খুনে ব্যবহৃত ছুরিও। অভিযুক্ত তিনজনেরই বয়স ১৭ বছর। মণীশের বাড়ির সামনের রাস্তায় মাঝেমধ্যেই বাইক নিয়ে স্টান্ট করত তারা। মণীশ আপত্তি জানালে শেষমেশ এই পরিণাম হয়। ঘটনার নৃশংসতায় প্রশ্ন ওঠে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা কি ছেড়ে দিয়েছে সমাজ?
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

আইএনবি/বি.ভূঁইয়া


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারতে যাবেন না তারেক রহমান

২৮ বার ছুরি মেরে তরুণকে হত্যা

আপডেট সময় ০৮:১৫:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:ভারতের দিল্লির রাস্তায় পর পর ২৮ বার ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হল ২৫ বছরের এক যুবককে। সব ঘটনা দেখেও পাশ কাটিয়ে চলে যান পথচারীরা। রাস্তার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেই নৃশংস দৃশ্য। যা দেখে শিউরে উঠছেন নেটিজেনরা।

গতকাল সোমবার দিল্লি পুলিশ জানায়, ঘটনাটি ঘটে গত ৮ জুলাই দিল্লির রঘুবীর নগরে। এক নাবালক ও তার দুই বন্ধু মিলে ওই যুবককে খুন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, তরুণের অপারাধ তিনি অভিযুক্তদের রাস্তার মধ্যে বাইক নিয়ে স্টান্ট করতে নিষেধ করেছিলেন। বলেছিলেন, এতে প্রাণের ঝুঁকি রয়েছে। কিন্তু সতর্ক করতে নিয়ে যে নিজের প্রাণই খোয়াতে হবে, ভাবতেও পারেননি তিনি।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মাঝরাস্তায় ছুরিকাঘাত করতে করতেই যুবককে মাটিতে ফেলে দেয় একজন। তারপর ক্রমাগত কোপ বসাতে থাকে তার শরীরে। ওই সময় নাবালক এতটাই ক্ষোভে ফুসছিল যে নিথর দেহেও ছুরি বসাতে থাকে। অন্যজন আটকালে তার বাধা না মেনে ফের ছুরিকাঘাত করে। ঘটনাটি যখন ঘটছে তখন আশপাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে একাধিক গাড়ি-মোটরবাইক। পথচারীরাও আড় চোখে ঘুরে তাকাচ্ছে, কিন্তু কেউ কোনো প্রতিবাদ করছেন না। সকলেই নীরব দর্শক। এমনকী অভিযুক্তরা চলে যাওয়ার পরও সেই মৃতদেহের দিকেও কেউ এগিয়ে যাননি।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম মণীশ। রঘুবীর নগরের বাসিন্দা পেশায় গাড়িচালক। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এদিকে, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তিন অভিযুক্তকেই চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয়েছে খুনে ব্যবহৃত ছুরিও। অভিযুক্ত তিনজনেরই বয়স ১৭ বছর। মণীশের বাড়ির সামনের রাস্তায় মাঝেমধ্যেই বাইক নিয়ে স্টান্ট করত তারা। মণীশ আপত্তি জানালে শেষমেশ এই পরিণাম হয়। ঘটনার নৃশংসতায় প্রশ্ন ওঠে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা কি ছেড়ে দিয়েছে সমাজ?
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

আইএনবি/বি.ভূঁইয়া


প্রিন্ট