ঢাকা , বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টিনার রুদ্ধশ্বাস জয় দেখে হৃদ্ধরোগে এক ফুটবলপ্রেমীর মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার শ্বাসরুদ্ধকর ও রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ দেখে বাড়ি ফেরার পর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে বিষ্ণুপদ বর্মণ (৫৫) নামে এক আর্জেন্টিনার অন্ধ ভক্ত মৃত্যুবরণ করেছেন। অতিরিক্ত উত্তেজনার ফলে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

মঙ্গলবার (৭জুলাই) রাতে খেলা দেখার পর বাড়ি ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। বুধবার (৮ জুলাই)সকালে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে
ভেতরে প্রবেশ করলে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

মৃত বিষ্ণুপদ বর্মণ (৫৫) উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধলগাছ এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত ভোলানাথের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুটবলপ্রেমী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত ফুটবল খেলতেন এবং আর্জেন্টিনা ছিল তাঁর
প্রিয় দল বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয়রা জানা, মঙ্গলবার(৭জুলাই) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা ও মিশরের ম্যাচটি ধলগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বড়পর্দায় বসে বন্ধুদের সঙ্গে উপভোগ করেন বিষ্ণুপদ। ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। প্রথমার্ধের ১৪ মিনিটে মিশর গোল করে এগিয়ে যায়। পরে আরও একটি গোল করলে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে হতাশা নেমে আসে।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে ৭৯ ও ৮৪ মিনিটে দুটি গোল করে সমতা ফেরায় দলটি। এরপর শেষ মুহূর্তে আরও একটি গোল করে অবিশ্বাস্য ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, এত নাটকীয় ম্যাচের উত্তেজনায় সন্তোষ কুমার মানসিকভাবে খুবই আলোড়িত ছিলেন। বাড়ি ফিরে তিনি টেনশনের কথা বলে শুয়ে পড়েন। সকালে আর তার ঘুম ভাঙেনি।

বিষ্ণুপদ বর্মণের সঙ্গে খেলা দেখতে যাওয়া তার বন্ধু কিশোরী, গনেশ বলেন, “খেলার পুরো সময়ই তিনি খুব উত্তেজিত ছিলেন। মিশর যখন দুই গোল দেয়, তখন তিনি খুবই হতাশ হয়ে পড়েন। পরে আর্জেন্টিনা ফিরে আসায় অনেক আনন্দিত হন। কিন্তু
এতটা উত্তেজনার পর এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটবে, তা কখনো ভাবিনি।”

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অনেকেই জানান, বিষ্ণুপদ ছিলেন একজন শান্ত-স্বভাবের মানুষ এবং ফুটবলের প্রতি তার ছিল ভালোবাসা।

 

 

আইএনবি/ এম আ/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
Tag :

ইরানে আজ রাতেই কঠোর হামলা চালানো হবে: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

আর্জেন্টিনার রুদ্ধশ্বাস জয় দেখে হৃদ্ধরোগে এক ফুটবলপ্রেমীর মৃত্যু

আপডেট সময় ০৭:১৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার শ্বাসরুদ্ধকর ও রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ দেখে বাড়ি ফেরার পর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে বিষ্ণুপদ বর্মণ (৫৫) নামে এক আর্জেন্টিনার অন্ধ ভক্ত মৃত্যুবরণ করেছেন। অতিরিক্ত উত্তেজনার ফলে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

মঙ্গলবার (৭জুলাই) রাতে খেলা দেখার পর বাড়ি ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। বুধবার (৮ জুলাই)সকালে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে
ভেতরে প্রবেশ করলে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

মৃত বিষ্ণুপদ বর্মণ (৫৫) উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধলগাছ এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত ভোলানাথের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুটবলপ্রেমী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত ফুটবল খেলতেন এবং আর্জেন্টিনা ছিল তাঁর
প্রিয় দল বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয়রা জানা, মঙ্গলবার(৭জুলাই) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা ও মিশরের ম্যাচটি ধলগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বড়পর্দায় বসে বন্ধুদের সঙ্গে উপভোগ করেন বিষ্ণুপদ। ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। প্রথমার্ধের ১৪ মিনিটে মিশর গোল করে এগিয়ে যায়। পরে আরও একটি গোল করলে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে হতাশা নেমে আসে।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে ৭৯ ও ৮৪ মিনিটে দুটি গোল করে সমতা ফেরায় দলটি। এরপর শেষ মুহূর্তে আরও একটি গোল করে অবিশ্বাস্য ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, এত নাটকীয় ম্যাচের উত্তেজনায় সন্তোষ কুমার মানসিকভাবে খুবই আলোড়িত ছিলেন। বাড়ি ফিরে তিনি টেনশনের কথা বলে শুয়ে পড়েন। সকালে আর তার ঘুম ভাঙেনি।

বিষ্ণুপদ বর্মণের সঙ্গে খেলা দেখতে যাওয়া তার বন্ধু কিশোরী, গনেশ বলেন, “খেলার পুরো সময়ই তিনি খুব উত্তেজিত ছিলেন। মিশর যখন দুই গোল দেয়, তখন তিনি খুবই হতাশ হয়ে পড়েন। পরে আর্জেন্টিনা ফিরে আসায় অনেক আনন্দিত হন। কিন্তু
এতটা উত্তেজনার পর এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটবে, তা কখনো ভাবিনি।”

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অনেকেই জানান, বিষ্ণুপদ ছিলেন একজন শান্ত-স্বভাবের মানুষ এবং ফুটবলের প্রতি তার ছিল ভালোবাসা।

 

 

আইএনবি/ এম আ/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট