আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে সৌদির রাজধানী রিয়াদে নিহত হয়েছেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী এলাকার যুবক। নিহত অন্যজন ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকার বাসিন্দা।
রোববার (৩১ মে) ও সোমবার পৃথক দুটি ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন- লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হারুন ও রাসেল এবং গৌরীপুরের ফারুক ইসলাম।
স্থানীয় ও পারিবারের বরাতে দৈনিক ইত্তেফাকে লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন হারুন ও রাসেল। রোববার রাতে রিয়াদের একটি সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় একটি উটের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার খবর দেশে পৌঁছালে নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
নিহত হারুনের বাবা তছলিম উদ্দীন ছৈয়াল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে বিদেশে গিয়ে আমাদের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করছিল। আজ সে লাশ হয়ে ফিরবে এটা আমরা কখনো কল্পনাও করিনি। সরকারের কাছে অনুরোধ, দ্রুত যেন মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।
এলাকাবাসী জানান, হারুন ও রাসেল ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রতিবেশী। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তারা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, প্রবাসী দুই যুবকের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে আনা ও আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করা হলে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
অন্যদিকে নিহত ফারুক ইসলামের পরিবারের বরাতে ময়মনসিংহ (গৌরীপুর) সংবাদদাতা জানান, সোমবার সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ফারুক। তিনি গৌরীপুর উপজেলার আব্দুল মজিদ ব্যাপারীর ছেলে এবং তিনি তিন সন্তানের জনক ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন ফারুক ইসলাম। সর্বশেষ তিন বছর আগে তিনি ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। প্রবাসে থাকার পাশাপাশি তিনি এলাকার যুবকদের কর্মসংস্থানের বিষয়েও ভূমিকা রাখতেন। নিজের মেঝ ছেলে মাহফুজুর রহমান ও দুই ভাতিজাসহ এলাকার বেশ কয়েকজনকে তিনি সৌদি আরবে নিয়ে গেছেন।
ফারুক ইসলামের প্রতিবেশী চাচা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ফারুক অত্যন্ত বিনয়ী ও পরোপকারী প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। ছুটিতে দেশে আসলে এলাকার সাধারণ মানুষকে নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করতেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে পরিবারের পাশাপাশি পুরো এলাকার মানুষ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
আইএনবি/বিভূঁইয়া