ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর সরকার পতনের ডাক রাহুল গান্ধীর Logo শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একদিন সময় চেয়েছে মোদি সরকার Logo রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে বঙ্গভবন ঘিরে কৌতূহল Logo ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে কথা না বলায় ক্যাটরিনার ফ্যান পেজ বন্ধ Logo জামায়াত এমপির ঘটনার তদন্ত চান তাসনিম জারা Logo মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল, প্রিয়াঙ্কা ও অখিলেশ আটক Logo হাম উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু Logo সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের ফ্ল্যাটে মিলেছে ৩০০ কোট, ৫৩২ টাই ও ১০০ কামিজ Logo আগামী মাসের মধ্যে ‘প্রবাসী কার্ডের’ পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ চালু করবে সরকার Logo দেশের গণপরিবহন আধুনিকায়নে ১ হাজার ৪০০ বৈদ্যুতিক বাস চালুর পরিকল্পনা
চট্টগ্রামের খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করে লাইনওয়ারে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত ওসিকে প্রত্যাহার

সংগ্রহীত ছবি

আইএনবি ডেস্ক: জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় চট্টগ্রামের খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করে লাইনওয়ারে সংযুক্ত করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে। একইসঙ্গে খুলশী থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ সোলাইমানকে। যিনি বাকলিয়া থানার ওসি পদে রয়েছেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ ওঠে খুলশী থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নাঈমের ভাই বাদী হয়ে খুলশী থানায় মামলা করেন।

মামলায় খুলশী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও পুলিশের সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়। অভিযোগের পর অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়।

পরে নাঈমের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে সিএমপি। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছে, সোনা চোরাচালান সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে অভিযানের প্রক্রিয়া, তথ্যের উৎস এবং পুলিশের আচরণ—সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিএমপির একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ সালের দিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে পরিদর্শক আরিফুর রহমান দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এলাকায় কোম্পানিগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন। তার অত্যন্ত আশীর্বাদপুষ্ট এই পুলিশ কর্মকর্তা ওইসময়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০২১-২০২২ সালে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার ওসি ছিলেন আরিফুর। ওইসময় ওই এলাকার চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন সরকারের কাছ থেকে স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ১ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। বিষয়টি পরবর্তীতে জানাজানি হলে পুলিশ সদরদপ্তর তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেয়। পরবর্তীতে সিএমপির বিশেষ শাখায়ও কাজ করেন তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন হলে হঠাৎ নিজেকে ছাত্রদলের নেতা বলে পরিচয় দিতে থাকেন তিনি। এই পরিচয়ে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় যোগ দেন তিনি। সেখানেও ভূমি দখল এবং মাদক কারবারিদের সহায়তার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ সময়ে তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনও করে ভুক্তভোগীরা। এছাড়া নিজের সহকর্মী ও পার্শ্ববর্তী থানা পাঁচলাইশের ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানকে নিয়ে বিষোদগার করেন তিনি। তালিকাভুক্ত এক সন্ত্রাসীর সঙ্গে ওসি আরিফের একটি কথোপকথন ছড়িয়ে পড়লে সহকর্মীকে নিয়ে তার নানা আপত্তিকর মন্তব্য শোনা যায়।

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে সব ব্যয় অনুমোদিত, অনিয়মের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’

চট্টগ্রামের খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করে লাইনওয়ারে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত ওসিকে প্রত্যাহার

আপডেট সময় ০২:৩৫:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

আইএনবি ডেস্ক: জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় চট্টগ্রামের খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করে লাইনওয়ারে সংযুক্ত করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে। একইসঙ্গে খুলশী থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ সোলাইমানকে। যিনি বাকলিয়া থানার ওসি পদে রয়েছেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ ওঠে খুলশী থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নাঈমের ভাই বাদী হয়ে খুলশী থানায় মামলা করেন।

মামলায় খুলশী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও পুলিশের সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়। অভিযোগের পর অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়।

পরে নাঈমের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে সিএমপি। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছে, সোনা চোরাচালান সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে অভিযানের প্রক্রিয়া, তথ্যের উৎস এবং পুলিশের আচরণ—সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিএমপির একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ সালের দিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে পরিদর্শক আরিফুর রহমান দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এলাকায় কোম্পানিগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন। তার অত্যন্ত আশীর্বাদপুষ্ট এই পুলিশ কর্মকর্তা ওইসময়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০২১-২০২২ সালে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার ওসি ছিলেন আরিফুর। ওইসময় ওই এলাকার চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন সরকারের কাছ থেকে স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ১ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। বিষয়টি পরবর্তীতে জানাজানি হলে পুলিশ সদরদপ্তর তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেয়। পরবর্তীতে সিএমপির বিশেষ শাখায়ও কাজ করেন তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন হলে হঠাৎ নিজেকে ছাত্রদলের নেতা বলে পরিচয় দিতে থাকেন তিনি। এই পরিচয়ে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় যোগ দেন তিনি। সেখানেও ভূমি দখল এবং মাদক কারবারিদের সহায়তার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ সময়ে তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনও করে ভুক্তভোগীরা। এছাড়া নিজের সহকর্মী ও পার্শ্ববর্তী থানা পাঁচলাইশের ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানকে নিয়ে বিষোদগার করেন তিনি। তালিকাভুক্ত এক সন্ত্রাসীর সঙ্গে ওসি আরিফের একটি কথোপকথন ছড়িয়ে পড়লে সহকর্মীকে নিয়ে তার নানা আপত্তিকর মন্তব্য শোনা যায়।

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট