নিজস্ব প্রতিবেদক : ইতালিতে লোভনীয় বেতনে চাকরি ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর প্রলোভন দেখিয়ে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের মূল হোতা জোছনা খাতুনকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫) বিকেলে রাজধানীর কাফরুলের ইব্রাহিমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জোছনা খাতুন। এর আগে চক্রের আরেক সদস্য মিলন মিয়াকে ফরিদপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
প্রতারণার কৌশল ও নেটওয়ার্ক:
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে পাঠানোর নামে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। টাকা নেওয়ার পর ভুক্তভোগীদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হতো ভুয়া ভিসা। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে পাসপোর্ট আটকে রেখে ভুক্তভোগীদের জিম্মি করে হয়রানি করত চক্রটি। তাদের প্রতারণার জাল নড়াইল, ফরিদপুর, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিস্তৃত। সিআইডি ইতিমধ্যে শতাধিক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ও তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লেনদেনের অকাট্য প্রমাণ পেয়েছে।
মাদক কারবারের যোগসূত্র:
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জোছনা খাতুন প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকার ভয়াবহ তথ্যও উদঘাটন করেছে সিআইডি।
অনুসন্ধান টিম মাঠে:
এদিকে, জোছনা খাতুন গ্রেফতার হলেও ভুক্তভোগীদের সমস্যার কোনো সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা বিষয়টি জানিয়ে ‘আইএনবি’ (INB)-এর অনুসন্ধানী টিমের কাছে আবেদন করেছেন। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং চক্রের বাকি সদস্যদের শনাক্ত করতে বর্তমানে আইএনবি’র অনুসন্ধানী টিম নতুন করে সরেজমিনে মাঠে কাজ করছে।
এ বিষয়ে আইএনবি’র অনুসন্ধানী টিমের সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রেফতার জোছনা খাতুন এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য নিয়ে আমাদের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। প্রতারক চক্রের নেপথ্যে আর কারা জড়িত, তা শিগগিরই উন্মোচন করা হবে।
পরবর্তী আপডেট এবং অনুসন্ধানী পর্বের বিস্তারিত জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।
Reporter Name 











