/* */
Dhaka , সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়াল নতুন মামলায় গ্রেপ্তার

আইএনবি ডেস্ক: কারামুক্তির অপেক্ষায় থাকা সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে ঢাকার আদাবর থানার গার্মেন্টস কর্মী রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক রোববার (৪ অক্টোবর ২০২৬) শুনানি শেষে এই আদেশ দেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মিজানুর রহমান ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন।

এর আগে গত বছরের ২৫ জুন জনগণের ‘ভোট ছাড়াই’ একতরফা নির্বাচন সম্পন্ন করা ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় কাজী হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং পরদিন রিমান্ড শেষে তিনি তখন থেকেই কারাগারে আটক ছিলেন। সম্প্রতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ টিপু সুলতান তাকে রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে আদালত আজকের দিন ধার্য করেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে সাবেক সিইসি ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে সহায়তা করেছেন এবং ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় বসাতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখে নিরপেক্ষ কমিশনকে কলুষিত করেছেন।

আদালতে শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাপস চন্দ্র দাস গ্রেপ্তার দেখানোর তীব্র বিরোধিতা করে জানান যে এই হত্যা মামলার ঘটনার সময় আসামি সরকারি চাকুরিরত ছিলেন এবং সব সময় পুলিশি প্রটোকলের মধ্যে থাকায় তার পক্ষে সরাসরি এই ঘটনায় অংশ নেওয়া মোটেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন শুনানিতে যুক্তি তুলে ধরেন যে এই আসামি বিগত সরকারের অধীনে গণতন্ত্রকে হত্যা করে অবৈধ নির্বাচনকে বৈধতা দিয়েছেন এবং শেখ হাসিনার পতনের আগে আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে আয়োজিত বৈঠকে অংশ নিয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আদাবরের রিংরোড এলাকায় ছাত্র-জনতার প্রতিবাদী মিছিলে পুলিশ ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের গুলিতে গার্মেন্টস কর্মী রুবেল নিহত হন। এ ঘটনায় একই বছরের ২২ আগস্ট নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে আদাবর থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেছিলেন।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়াল নতুন মামলায় গ্রেপ্তার

সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়াল নতুন মামলায় গ্রেপ্তার

আপডেটের সময় : ১২:৩৮:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

আইএনবি ডেস্ক: কারামুক্তির অপেক্ষায় থাকা সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে ঢাকার আদাবর থানার গার্মেন্টস কর্মী রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক রোববার (৪ অক্টোবর ২০২৬) শুনানি শেষে এই আদেশ দেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মিজানুর রহমান ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন।

এর আগে গত বছরের ২৫ জুন জনগণের ‘ভোট ছাড়াই’ একতরফা নির্বাচন সম্পন্ন করা ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় কাজী হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং পরদিন রিমান্ড শেষে তিনি তখন থেকেই কারাগারে আটক ছিলেন। সম্প্রতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ টিপু সুলতান তাকে রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে আদালত আজকের দিন ধার্য করেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে সাবেক সিইসি ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে সহায়তা করেছেন এবং ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় বসাতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখে নিরপেক্ষ কমিশনকে কলুষিত করেছেন।

আদালতে শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাপস চন্দ্র দাস গ্রেপ্তার দেখানোর তীব্র বিরোধিতা করে জানান যে এই হত্যা মামলার ঘটনার সময় আসামি সরকারি চাকুরিরত ছিলেন এবং সব সময় পুলিশি প্রটোকলের মধ্যে থাকায় তার পক্ষে সরাসরি এই ঘটনায় অংশ নেওয়া মোটেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন শুনানিতে যুক্তি তুলে ধরেন যে এই আসামি বিগত সরকারের অধীনে গণতন্ত্রকে হত্যা করে অবৈধ নির্বাচনকে বৈধতা দিয়েছেন এবং শেখ হাসিনার পতনের আগে আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে আয়োজিত বৈঠকে অংশ নিয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আদাবরের রিংরোড এলাকায় ছাত্র-জনতার প্রতিবাদী মিছিলে পুলিশ ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের গুলিতে গার্মেন্টস কর্মী রুবেল নিহত হন। এ ঘটনায় একই বছরের ২২ আগস্ট নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে আদাবর থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেছিলেন।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট