ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

মসজিদ ভাড়া নিয়ে জামায়াতের নারী কর্মীদের প্রশিক্ষণশালা, চুয়াডাঙ্গায় উত্তেজনা

বামে দুপক্ষের ধস্তধস্তির দৃশ্য ও ডানে উদ্ধার হওয়া জামায়াতের নারীর কর্মীদের একাংশ

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:চুয়াডাঙ্গায় দামুড়হুদা শনিবার (১১ জুলাই) মডেল মসজিদে জামায়াতের নারী কর্মীদের আয়োজিত একটি কর্মশালাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ঘটনার দিন সকাল ১০টার পর থেকে ইজিবাইক ও মাইক্রোবাসযোগে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে জামায়াত ইসলামীর মহিলা ও নারী কর্মীরা দামুড়হুদা মডেল মসজিদে আসতে শুরু করেন। মুসল্লিরা দুপুরে মসজিদে যোহরের নামাজে গেলে বিষয়টি লক্ষ্য করেন। পরে স্থানীয় বিএনপির কর্মী ও স্থানীয়রা ঘটনাটি থানা ও প্রশাসনকে জানায়। মুহূর্তেই এই ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টির পর স্থানীয় বাজারের লোকজন এসে মসজিদের প্রধান গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। একপর্যায়ে সেখানে দুপক্ষের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ভেতরে আটকে থাকা নারী কর্মীদের মসজিদ থেকে বের করে আনেন।

দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি শেখ মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, এই রকম একটি পোগ্রামে আমাদের জানানো হয়নি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানেন কি-না আমরা জানি না।

দামুড়হুদা মডেল মসজিদের কেয়ারটেকার মো. শাহজাহান বলেন,

জামায়াতের স্থানীয় মহিলা কর্মীরা নারী প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে একদিনের জন্য ৩ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়েছিল। আমি বিষয়টি ইউএনও মহোদয়কে জানায়নি।

দামুড়হুদা উপজেলা জামায়াত ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মো. আবেদ উদ্ দৌলা রিটন বলেন, শনিবার দিনব্যাপী মহিলা জামায়াতের একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল হাসান তনু বলেন, শনিবার মডেল মসজিদে প্রায় ৩ থেকে ৪ শ জামায়াত এর নারী ও মহিলা কর্মীরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। সরকারি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা রাজনৈতিক আলোচনা ও প্রশিক্ষণের খবর পেয়ে এলাকাবাসী ধাওয়া দেয়। এ সময় উভয়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাভলী ইয়াসমিন বলেন, আমি যেহেতু মডেল মসজিদের সভাপতি। সেই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নারীদের সমাগম এবং এতো লোকের আয়োজন, আমাকে কেনো জানানো হয়নি বা আমার অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন মনে করেনি। সে বিষয়ে আমি মসজিদের কেয়ারটেকারকে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
Tag :

মসজিদ ভাড়া নিয়ে জামায়াতের নারী কর্মীদের প্রশিক্ষণশালা, চুয়াডাঙ্গায় উত্তেজনা

মসজিদ ভাড়া নিয়ে জামায়াতের নারী কর্মীদের প্রশিক্ষণশালা, চুয়াডাঙ্গায় উত্তেজনা

আপডেট সময় ১০:১৮:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:চুয়াডাঙ্গায় দামুড়হুদা শনিবার (১১ জুলাই) মডেল মসজিদে জামায়াতের নারী কর্মীদের আয়োজিত একটি কর্মশালাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ঘটনার দিন সকাল ১০টার পর থেকে ইজিবাইক ও মাইক্রোবাসযোগে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে জামায়াত ইসলামীর মহিলা ও নারী কর্মীরা দামুড়হুদা মডেল মসজিদে আসতে শুরু করেন। মুসল্লিরা দুপুরে মসজিদে যোহরের নামাজে গেলে বিষয়টি লক্ষ্য করেন। পরে স্থানীয় বিএনপির কর্মী ও স্থানীয়রা ঘটনাটি থানা ও প্রশাসনকে জানায়। মুহূর্তেই এই ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টির পর স্থানীয় বাজারের লোকজন এসে মসজিদের প্রধান গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। একপর্যায়ে সেখানে দুপক্ষের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ভেতরে আটকে থাকা নারী কর্মীদের মসজিদ থেকে বের করে আনেন।

দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি শেখ মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, এই রকম একটি পোগ্রামে আমাদের জানানো হয়নি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানেন কি-না আমরা জানি না।

দামুড়হুদা মডেল মসজিদের কেয়ারটেকার মো. শাহজাহান বলেন,

জামায়াতের স্থানীয় মহিলা কর্মীরা নারী প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে একদিনের জন্য ৩ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়েছিল। আমি বিষয়টি ইউএনও মহোদয়কে জানায়নি।

দামুড়হুদা উপজেলা জামায়াত ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মো. আবেদ উদ্ দৌলা রিটন বলেন, শনিবার দিনব্যাপী মহিলা জামায়াতের একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল হাসান তনু বলেন, শনিবার মডেল মসজিদে প্রায় ৩ থেকে ৪ শ জামায়াত এর নারী ও মহিলা কর্মীরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। সরকারি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা রাজনৈতিক আলোচনা ও প্রশিক্ষণের খবর পেয়ে এলাকাবাসী ধাওয়া দেয়। এ সময় উভয়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাভলী ইয়াসমিন বলেন, আমি যেহেতু মডেল মসজিদের সভাপতি। সেই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নারীদের সমাগম এবং এতো লোকের আয়োজন, আমাকে কেনো জানানো হয়নি বা আমার অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন মনে করেনি। সে বিষয়ে আমি মসজিদের কেয়ারটেকারকে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট