বিনোদন ডেস্ক:
বাবা মারা গেছেন আজ এক বছর হয়ে গেল। মায়েরও বয়স হয়েছে। সংসারের বড় ছেলে হিসেবে ঘর থেকে আমাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ছোট মামা আমার জন্য পাত্রী দেখাও শুরু করেছেন। কিন্তু আমি মামাকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি যে, আমার পছন্দের মানুষ আছে। তাকে ছাড়া আমি অন্য কাউকে বিয়ে করব না। উত্তরে ছোট মামা বললেন, “তাহলে দেরি না করে তোর পছন্দের মেয়েকেই বিয়ে করে ফেল।”
আমি দিবাকে সব কিছু জানানোর পর সে যা বলল, তাতে আমি রীতিমতো স্তব্ধ হয়ে গেলাম। সে আমাকে বলল—আমি যেন পরিবারের পছন্দমতোই বিয়ে করে ফেলি। তার মুখ থেকে এমন কথা শুনে আমি অবাক না হয়ে পারলাম না। দিবার সাথে আমার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে বেশ কয়েকবার। আমাদের সমাজে সাধারণত এমন সম্পর্কের পর মেয়েরাই ছেলেদের বিয়ের জন্য চাপ দেয়, অথচ এখানে উল্টো আমি দিবাকে বিয়ের জন্য অনুরোধ করছি। এর প্রধান কারণ হলো, জীবনের প্রথম কোনো নারীর সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা দিবার মাধ্যমেই হয়েছে। আমি আমার চরিত্রের ওপর এই কলঙ্কের তিলক নিয়ে বেঁচে থাকাটাকে অভিশাপ মনে করি।
এখন পর্যন্ত যত প্রেম-ভালোবাসার গল্প দেখেছি, সেখানে প্রায়ই দেখা যায় ছেলেরা মা-বাবা বা পরিবারের দোহাই দিয়ে প্রেমিকাকে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু আমার বেলায় ঘটছে ঠিক তার উল্টোটা।
স্বাভাবিকভাবেই আমার মনে সন্দেহের দানা বাঁধতে শুরু করল। দিবা কি তবে তার সাবেক প্রেমিক পারভেজের সাথে আবার কোনো সম্পর্ক তৈরি করেছে? নাকি পারভেজেরও আগে সেলিম নামে যে ছেলেটি ছিল, তার সাথে আবার যোগাযোগ শুরু হয়েছে? হাজারো প্রশ্ন আমার মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগল।
দিবার সম্পর্কে খোঁজ নিতে আমি তার স্কুলের ম্যাডামকে ফোন দিলাম। ম্যাডাম জানালেন, দিবাকে নাকি ইদানীং বেশ উৎফুল্ল দেখাচ্ছে। আগের চেয়ে অনেক বেশি সাজগোজ করে সে স্কুলে আসে। ক্লাস শেষ হওয়ার পর লাইব্রেরিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় চুপিচুপি কার সাথে যেন ফোনে কথা বলে। ম্যাডামের কথা শোনার পর আমি প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেলাম যে, দিবা তার সাবেক প্রেমিক পারভেজের সাথেই কথা বলছে। কারণ, সেলিম লোকটা দীর্ঘক্ষণ কথা বলার মতো মানুষ নয়।
আমি এর আগেও দিবাকে বিভিন্নভাবে অনেকবার পরীক্ষা করেছি এবং প্রতিবারই সে ব্যর্থ হয়েছে। একবার আমার এলাকার ছোট ভাই সুজনকে দিয়ে দিবার ফোনে মিসড কল দেওয়াই। দিবা সাথে সাথেই ব্যাক কল করে। আমার নির্দেশমতো সুজন নিজের পরিচয় গোপন রেখে দিবার সাথে নিয়মিত কথা বলা শুরু করে। তাদের মাঝে কী কথা হতো, সুজন আমাকে প্রতিনিয়ত সেই আপডেট দিত। এক পর্যায়ে তাদের কথোপকথন এমন পর্যায়ে পৌঁছাল যে, দিবা সুজনের সাথে দেখা করতে রাজি হলো। সরকারি কলেজের সামনে তাদের দেখা হওয়ার কথা চূড়ান্ত হলো।
লেখক:এমডি বাবুল ভূঁইয়া
আইএনবি নিউজ