আইএনবি ডেস্ক: নিজেদের হীন দলীয় স্বার্থে মানুষের মধ্যে বিভেদ-বিরোধ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালালেও সবাই মিলেমিশে থাকাই বাংলাদেশের মানুষের আবহমানকালের মূল্যবোধ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিন দিনব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নজরুল বর্ষের স্মারক ডাকটিকিট ও লোগো উন্মোচন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার এমন এক রাষ্ট্র এবং সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ নির্বিঘ্নে নিরাপদে বসবাস করবে। শুধু মানুষের নিরাপত্তাই নয়, কোনো প্রাণীও মানুষের হিংস্রতার শিকার হবে না, বর্তমান সরকার সেটিও নিশ্চিত করতে চায়।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই বাংলাদেশ ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ করেননি, তবে তার হৃদয়জুড়ে ছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশও তাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে।’
কবির স্মৃতিবিজড়িত দিনগুলোর কথা স্মরণ করে সরকারপ্রধান বলেন, কিশোর বয়সে ১৯১৪ সালে কবি প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহের ত্রিশালে এসেছিলেন। কবির স্মৃতিধন্য সেই ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ হিসেবে ঘোষণা করার সম্ভাব্যতা বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কালকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
কাজী নজরুল ইসলামকে বিদ্রোহী, প্রেম, বিরহ, তারুণ্য এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যের কবি হিসেবে অভিহিত করে তারেক রহমান বলেন, ‘জাতীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের তিনি এক অবিস্মরণীয় নাম। পরাধীন, পর্যুদস্ত ও পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তার আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো। পরাধীনতা, জুলুম, শোষণ, অসাম্য, বৈষম্য ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কবির কলম ছিল শাণিত অস্ত্র।’
তিনি বলেন, ‘বিপ্লব-বিদ্রোহ, রণ-সংগীত, ইসলামী তাহজীব-তমদ্দুন বা ইসলামী মূল্যবোধের গান; কিংবা ভজন-কীর্তন ও শ্যামা সংগীত, প্রেম-প্রকৃতি কিংবা মানবিক মূল্যবোধ-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরুল আমাদের শুদ্ধ প্রকাশ এবং মাতৃভূমিকে ভালোবাসার প্রধান দিশারি। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সব আন্দোলন-সংগ্রামে কবির সৃষ্টিশীলতাই প্রতিবাদ-প্রতিরোধের মূল ভাষা হয়ে উঠেছিল। তিনি আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু অতীত ইতিহাস নয়, আজকের প্রজন্মের জন্য এমনকি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও নজরুল আমাদের জীবনে প্রাসঙ্গিক। এ কারণেই আমাদের জাতীয় কবির, জীবন ও কর্মের সঙ্গে, গণমানুষ বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের সম্পর্ক আরও গভীর ও নিবিড় করার লক্ষ্যে নানা আয়োজনে ‘‘নজরুল বর্ষ’’ শুরু হয়েছে।’
প্রতিটি রাষ্ট্র এবং সমাজে এমন কিছু ক্ষণজন্মা মানুষ জন্ম নেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘যারা আমাদের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক জীবন কিংবা আমাদের সাহিত্য- সংস্কৃতি-সামাজিক মূল্যবোধ, আমাদের সামাজিক দর্শন, আমাদের মনোজগতে প্রবলভাবে প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তেমনই একজন ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব। কৈশোর থেকে পরিণত বয়স, আমাদের জীবনের সকল পর্যায়েই তার প্রভাব অপরিসীম।’
তিনি আরও বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার সীমাহীন ইতিবাচক এবং নেতিবাচক প্রভাব, আমাদের নতুন প্রজন্মের সামনে একদিকে যেমন জ্ঞানের দ্বার উম্মোচন করে দিয়েছে, অপরদিকে মূল্যবোধ হারিয়ে বিপথগামী হওয়ার পথও উন্মুক্ত। এমন জটিল বাস্তবতায় কাজী নজরুলের ইসলামের কবিতা আমাদের উদীয়মান প্রজন্মের সামনে আশা জাগানিয়া আলোকবর্তিকা হয়ে উঠতে পারে।’
‘এ কারণেই কবি নজরুলকে নিয়ে আলোচনা মন্ত্রণালয় কিংবা সরকারি অফিসের চার দেয়ালে আবদ্ধ না রেখে তার সাহিত্য কর্ম, তার জীবনবোধ পৌঁছে দিতে হবে মানুষের ঘরে। কবি নজরুলের জীবন ও কর্ম, তার চিন্তা ও দর্শন ছড়িয়ে দিতে দিতে হবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সারাদেশে নজরুলপ্রেমীদের নিয়ে গঠিত ‘নজরুল বর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটির’ মাধ্যমে দেশের সব জেলা-উপজেলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রতিটি অনুষ্ঠান সফলভাবে পালন করার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
এ সময় অনুষ্ঠানে দেশের নজরুল গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী ও শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন।
আইএনবি/বিভূঁইয়া
প্রিন্ট

আইএনবি নিউজ ডেস্ক 
















