/* */
Dhaka , বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মসজিদের ইমামের কক্ষে হাতবোমা বিস্ফোরণ, উড়ে গেল টিনের চাল

মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের হোগলপাতিয়া গ্রামের মালেক আকনবাড়ি জামে মসজিদে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় একটি মসজিদের ইমামের থাকার কক্ষে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

বিস্ফোরণে টিনশেড কক্ষটির চালা ও বেড়ার একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মসজিদের ইমাম আকাশ হাওলাদার দুই দিন আগে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যান। এরপর থেকে তার থাকার কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। কক্ষটির চাবি মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. আলাউদ্দিন ওলিল আকনসহ তিনজনের কাছে ছিল।

মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ ওই কক্ষ থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের শব্দে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ সময় কক্ষটির টিনের চালার একাংশ উড়ে যাওয়ার পাশাপাশি টিনের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘরের ভেতরে থাকা কিছু মালামালও পুড়ে যায়।

খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের প্রস্তুতি হিসেবে কেউ ওই কক্ষে বিস্ফোরক রেখে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মসজিদ কমিটির সদস্য মালেক আকন বলেন, ইমামের কক্ষে কে বা কারা বিস্ফোরক রেখেছে, তা তারা জানেন না। নামাজের সময় বিস্ফোরণ ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এদিকে গত ১৭ দিনের মধ্যে মাদারীপুরে আরও দুটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৬ আগস্ট সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝিকরহাটি এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘরে হাতবোমা বিস্ফোরণ হয়। এর আগে ১৫ আগস্ট কালকিনি পৌর এলাকার একটি মহিলা মাদ্রাসায় ককটেল বিস্ফোরণে পাঁচ শিশুশিক্ষার্থী আহত হয়।

পরপর এসব বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরক ব্যবহারের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, মসজিদের ইমামের ঘরের বারান্দায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সংশ্লিষ্টদের থানায় আনা হতে পারে।

উগ্রবাদী কোনো গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি বলেন, মাদারীপুরে বিভিন্ন বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার ও শক্তি প্রদর্শনের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ককটেল বা বোমাজাতীয় বিস্ফোরক ব্যবহারের প্রবণতা রয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোও প্রাথমিকভাবে স্থানীয় বিরোধ বা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

আইএনব/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পরিত্যক্ত ভবন থেকে বিদেশি রিভলবার ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

মসজিদের ইমামের কক্ষে হাতবোমা বিস্ফোরণ, উড়ে গেল টিনের চাল

আপডেটের সময় : ০৭:২১:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের হোগলপাতিয়া গ্রামের মালেক আকনবাড়ি জামে মসজিদে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় একটি মসজিদের ইমামের থাকার কক্ষে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

বিস্ফোরণে টিনশেড কক্ষটির চালা ও বেড়ার একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মসজিদের ইমাম আকাশ হাওলাদার দুই দিন আগে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যান। এরপর থেকে তার থাকার কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। কক্ষটির চাবি মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. আলাউদ্দিন ওলিল আকনসহ তিনজনের কাছে ছিল।

মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ ওই কক্ষ থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের শব্দে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ সময় কক্ষটির টিনের চালার একাংশ উড়ে যাওয়ার পাশাপাশি টিনের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘরের ভেতরে থাকা কিছু মালামালও পুড়ে যায়।

খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের প্রস্তুতি হিসেবে কেউ ওই কক্ষে বিস্ফোরক রেখে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মসজিদ কমিটির সদস্য মালেক আকন বলেন, ইমামের কক্ষে কে বা কারা বিস্ফোরক রেখেছে, তা তারা জানেন না। নামাজের সময় বিস্ফোরণ ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এদিকে গত ১৭ দিনের মধ্যে মাদারীপুরে আরও দুটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৬ আগস্ট সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝিকরহাটি এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘরে হাতবোমা বিস্ফোরণ হয়। এর আগে ১৫ আগস্ট কালকিনি পৌর এলাকার একটি মহিলা মাদ্রাসায় ককটেল বিস্ফোরণে পাঁচ শিশুশিক্ষার্থী আহত হয়।

পরপর এসব বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরক ব্যবহারের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, মসজিদের ইমামের ঘরের বারান্দায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সংশ্লিষ্টদের থানায় আনা হতে পারে।

উগ্রবাদী কোনো গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি বলেন, মাদারীপুরে বিভিন্ন বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার ও শক্তি প্রদর্শনের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ককটেল বা বোমাজাতীয় বিস্ফোরক ব্যবহারের প্রবণতা রয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোও প্রাথমিকভাবে স্থানীয় বিরোধ বা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

আইএনব/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট