আইএনবি ডেস্ক: “রাজধানীর ধানমন্ডির শুক্রাবাদে অবস্থিত ‘আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টার’। এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার প্রফেসর ড. এম মুজিবুল হক নিজেকে ‘আমেরিকান বোর্ড সার্টিফাইড ডাক্তার’ এবং ‘ফাইভ স্টার প্রফেসর’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তার এই চিকিৎসা সাম্রাজ্যের কোনো বৈধ ভিত্তি নেই।”
“সোশ্যাল মিডিয়ায় চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষকে স্টিমসেল থেরাপির স্বপ্ন দেখান। ডায়াবেটিস, ক্যানসার এমনকি প্রতিবন্ধী শিশুদের চিকিৎসার নামে প্রতিটি ইনজেকশনে নেওয়া হয় ৫ লাখ টাকা। আর একটি পূর্ণাঙ্গ কোর্সের পেছনে রোগীর খরচ হয় প্রায় ৫০ থেকে ৭৫ লাখ টাকা। অথচ, চিকিৎসার নামে এই বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর রোগীর অবস্থার উন্নতির বদলে অনেক ক্ষেত্রে অবনতি হয়েছে, এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।”
“সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো—এখানে ব্যবহৃত ইনজেকশনগুলো কোনো অনুমোদিত ওষুধ নয়। অভিযোগ রয়েছে, গবেষণার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা এসব ইনজেকশন বিদেশ থেকে ব্যক্তিগত লাগেজে করে অতি গোপনে আনা হয়। কোনো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই অন্তত দুই শতাধিক রোগীর শরীরে এসব প্রয়োগ করা হয়েছে, যা সরাসরি জীবননাশের কারণ হতে পারে।”
“শুধু বাংলাদেশ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস মেডিকেল বোর্ডও গত বছরের ডিসেম্বরে মুজিবুল হককে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতে নিষেধ করেছে। তার কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। এমনকি তার দাবি করা ‘ইউনিভার্সিটি অফ ইন্টিগ্রেটেড হেলথ’ নামের কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি—উল্টো সেই ঠিকানায় পাওয়া গেছে রেস্তোরাঁ ও ফিটনেস সেন্টার।”
“তার প্রতারণার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই তার সাইবার টিম সক্রিয় হয়ে ওঠে। নিউজ পোর্টাল, ভিডিও বা ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হ্যাক কিংবা ধ্বংস করার হুমকি দিয়ে তারা সত্য চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এ বিষয়ে জাতীয় অনলাইন দৈনিকের সম্পাদকরাও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন।”
“সব অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুজিবুল হক অবশ্য তার পদ্ধতিতে ন্যাচারাল মেডিসিনের দাবি করেছেন, তবে তিনি কোনো বৈধ অনুমোদনপত্র দেখাতে পারেননি। প্রতারণার এই চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এখন সময়ের দাবি।
সূত্র:বার্তা বাজার
আইএনবি/বিভূঁইয়া
প্রিন্ট

আইএনবি নিউজ ডেস্ক 

















