ঢাকা , শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
খাগড়াছড়িতে আ.লীগের হামলায় বিএনপির ৬ নেতাকর্মী আহত চাঁদে ফেরার মহাযাত্রার প্রস্তুতি, পৃথিবীর কক্ষপথেই হবে গুরুত্বপূর্ণ মহড়া বিশ্বকাপে রেকর্ড পরিমাণ জুয়া, বাজির অঙ্ক ছাড়াবে ৫০ বিলিয়ন ডলার শূন্যরেখায় ২৪ ঘণ্টা, অবশেষে পরিবারে ফিরলেন সেই বৃদ্ধ আজ রাতে কঠোর হামলা ও খার্গ দ্বীপ দখলের হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠনে ৪০ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ের ঘোষণা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে, উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না বাজেটের প্রস্তাবিত অর্থবিলে স্বাক্ষর করলেন রাষ্ট্রপতি যেভাবে সন্তানের অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি কাটাবেন বুড়িচংয়ে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, গ্রেফতার ১৯
এবার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জুয়ার আসর বসতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে

বিশ্বকাপে রেকর্ড পরিমাণ জুয়া, বাজির অঙ্ক ছাড়াবে ৫০ বিলিয়ন ডলার

ফাইল ছবি

স্পোর্টস ডেস্ক: এবার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জুয়ার আসর বসতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে । আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান ম্যাককোয়ারির পূর্বাভাস অনুযায়ী, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে বিশ্বব্যাপী ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ বাজি ধরা হতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির হিসাব বলছে, বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে গড়ে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বাজি ধরা হবে। ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে মোট বাজির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার। সেই তুলনায় এবার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটতে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজির এই উল্লম্ফনের অন্যতম কারণ হলো বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করা। ফলে এবার ছয় সপ্তাহব্যাপী আসরে ১০০টিরও বেশি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে কাতার বিশ্বকাপে ম্যাচ ছিল ৬৪টি।

এছাড়া স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর অনুকূল সময়সূচির কারণে ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার দর্শকদের মধ্যে ম্যাচ দেখার আগ্রহ বাড়বে, যা বাজির বাজারকেও আরও চাঙ্গা করবে।

আরেকটি বড় কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রে ক্রীড়াভিত্তিক জুয়ার বাজারের দ্রুত সম্প্রসারণ। বর্তমানে দেশটির প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ বৈধভাবে খেলাধুলা নিয়ে বাজি ধরতে পারেন, যা ২০২২ সালে ছিল ৪০ শতাংশ। ফলে এটিই প্রথম বিশ্বকাপ যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ নাগরিক বাজিতে অংশ নিতে পারবেন।

তবে ম্যাককোয়ারির বিশ্লেষক চ্যাড বেনিয়ন সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বকাপ ঘিরে এই বিপুল আগ্রহ সাময়িকও হতে পারে, যদি জুয়া প্রতিষ্ঠানগুলো একবারের জন্য বাজি ধরা মানুষদের নিয়মিত গ্রাহকে পরিণত করতে না পারে। তার মতে, যেসব প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ক্যাসিনো সুবিধা রয়েছে, তারাই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।

অন্যদিকে জুয়া বিরোধী সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষ, বিশেষ করে তরুণরা, আর্থিক ক্ষতি ও ঋণের ফাঁদে পড়তে পারেন।

শিকারি জুয়া বন্ধ আন্দোলনের জাতীয় পরিচালক লেস বার্নাল বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষ, বিশেষ করে তরুণ পুরুষরা, জুয়ার কারণে জীবন বদলে যাওয়ার মতো ঋণ ও আর্থিক সংকটে পড়বেন। দীর্ঘমেয়াদে প্রতি ১০০ জন ক্রীড়া বাজিকারীর মধ্যে ৯৯ জনই অর্থ হারান।’

তিনি আরও দাবি করেন, বাণিজ্যিক জুয়া ব্যবসার মূল ভিত্তি হলো আসক্ত গ্রাহক তৈরি করা, যা অনেক ক্ষেত্রে আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ পরিণতিও ডেকে আনে।

যুক্তরাজ্যের জুয়া সংস্কারকর্মী ম্যাট জার্ব-কাজিনও সতর্ক করেছেন যে বিশ্বকাপে বাজি ধরা মানুষদের আরও বেশি আসক্তিকর ক্যাসিনোভিত্তিক জুয়ার দিকে প্রলুব্ধ করা হতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইন পূর্বাভাসভিত্তিক বাজির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রস্তাব করেছে, সন্ত্রাসবাদ, হত্যা, যুদ্ধ, জুয়া বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত বাজির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।

সম্প্রতি যুদ্ধসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে বাজির সুযোগ দেওয়ায় এসব প্ল্যাটফর্ম সমালোচনার মুখে পড়ে। সমালোচনার পর কিছু প্রতিষ্ঠান এ ধরনের বাজার বন্ধ করলেও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্বকাপ ঘিরে উন্মাদনা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে জুয়া ও এর সামাজিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগও। বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলার আনন্দ উপভোগ করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য, আর্থিক ঝুঁকি নিয়ে বাজির নেশায় জড়িয়ে পড়া নয়।

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

খাগড়াছড়িতে আ.লীগের হামলায় বিএনপির ৬ নেতাকর্মী আহত

এবার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জুয়ার আসর বসতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে

বিশ্বকাপে রেকর্ড পরিমাণ জুয়া, বাজির অঙ্ক ছাড়াবে ৫০ বিলিয়ন ডলার

আপডেট সময় ০৮:৩১:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক: এবার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জুয়ার আসর বসতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে । আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান ম্যাককোয়ারির পূর্বাভাস অনুযায়ী, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে বিশ্বব্যাপী ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ বাজি ধরা হতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির হিসাব বলছে, বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে গড়ে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বাজি ধরা হবে। ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে মোট বাজির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার। সেই তুলনায় এবার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটতে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজির এই উল্লম্ফনের অন্যতম কারণ হলো বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করা। ফলে এবার ছয় সপ্তাহব্যাপী আসরে ১০০টিরও বেশি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে কাতার বিশ্বকাপে ম্যাচ ছিল ৬৪টি।

এছাড়া স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর অনুকূল সময়সূচির কারণে ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার দর্শকদের মধ্যে ম্যাচ দেখার আগ্রহ বাড়বে, যা বাজির বাজারকেও আরও চাঙ্গা করবে।

আরেকটি বড় কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রে ক্রীড়াভিত্তিক জুয়ার বাজারের দ্রুত সম্প্রসারণ। বর্তমানে দেশটির প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ বৈধভাবে খেলাধুলা নিয়ে বাজি ধরতে পারেন, যা ২০২২ সালে ছিল ৪০ শতাংশ। ফলে এটিই প্রথম বিশ্বকাপ যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ নাগরিক বাজিতে অংশ নিতে পারবেন।

তবে ম্যাককোয়ারির বিশ্লেষক চ্যাড বেনিয়ন সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বকাপ ঘিরে এই বিপুল আগ্রহ সাময়িকও হতে পারে, যদি জুয়া প্রতিষ্ঠানগুলো একবারের জন্য বাজি ধরা মানুষদের নিয়মিত গ্রাহকে পরিণত করতে না পারে। তার মতে, যেসব প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ক্যাসিনো সুবিধা রয়েছে, তারাই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।

অন্যদিকে জুয়া বিরোধী সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষ, বিশেষ করে তরুণরা, আর্থিক ক্ষতি ও ঋণের ফাঁদে পড়তে পারেন।

শিকারি জুয়া বন্ধ আন্দোলনের জাতীয় পরিচালক লেস বার্নাল বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষ, বিশেষ করে তরুণ পুরুষরা, জুয়ার কারণে জীবন বদলে যাওয়ার মতো ঋণ ও আর্থিক সংকটে পড়বেন। দীর্ঘমেয়াদে প্রতি ১০০ জন ক্রীড়া বাজিকারীর মধ্যে ৯৯ জনই অর্থ হারান।’

তিনি আরও দাবি করেন, বাণিজ্যিক জুয়া ব্যবসার মূল ভিত্তি হলো আসক্ত গ্রাহক তৈরি করা, যা অনেক ক্ষেত্রে আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ পরিণতিও ডেকে আনে।

যুক্তরাজ্যের জুয়া সংস্কারকর্মী ম্যাট জার্ব-কাজিনও সতর্ক করেছেন যে বিশ্বকাপে বাজি ধরা মানুষদের আরও বেশি আসক্তিকর ক্যাসিনোভিত্তিক জুয়ার দিকে প্রলুব্ধ করা হতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইন পূর্বাভাসভিত্তিক বাজির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রস্তাব করেছে, সন্ত্রাসবাদ, হত্যা, যুদ্ধ, জুয়া বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত বাজির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।

সম্প্রতি যুদ্ধসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে বাজির সুযোগ দেওয়ায় এসব প্ল্যাটফর্ম সমালোচনার মুখে পড়ে। সমালোচনার পর কিছু প্রতিষ্ঠান এ ধরনের বাজার বন্ধ করলেও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্বকাপ ঘিরে উন্মাদনা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে জুয়া ও এর সামাজিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগও। বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলার আনন্দ উপভোগ করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য, আর্থিক ঝুঁকি নিয়ে বাজির নেশায় জড়িয়ে পড়া নয়।

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট