/* */
Dhaka , বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুত্রবধূর অত্যাচারে থানায় বৃদ্ধ দম্পতি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:১২:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২০
  • ১৫ Time View

নাটোর প্রতিনিধি:নাটোরের গুরুদাসপুরে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের দুর্গাপুর মধ্যপাড়া গ্রামের নব্বই বছরের বৃদ্ধ খোরশেদ আলী ও তার স্ত্রী আয়শা খাতুনকে (৭৫) ছেলের বউ মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।

তাদের তিন ছেলে দুই মেয়ে। ছেলেমেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। নাতিপুতিও হয়েছে।

ওই গ্রামের প্রতিবেশী আকরামসহ অনেকে জানান, বৃদ্ধ দম্পতি একটি ছাপড়া ঘরে থাকেন। তা-ও ঝড়ে ভেঙে গেছে। জোড়াতালি দিয়ে ওই ঘরেই থাকেন তারা। বয়ঃবৃদ্ধ হওয়ার কারণে ছেলে বাহারের স্ত্রী তাদের ভালো চোখে দেখে না। মাঝেমধ্যেই মারধর করে। খেয়ে না খেয়ে দুঃখ-কষ্টে চলছে তাদের জীবন। বাড়িটুকু ছাড়া তাদের কোনো সহায় সম্পত্তিও নেই। তিন ছেলের খরচে চলেন তারা। বড় দুই ছেলে থাকেন ঈশ্বরদীতে। কিন্তু ছোট ছেলে বাহারের স্ত্রী মঞ্জু বেগম (৩৭) শাশুড়িকে মাঝে মধ্যেই মারধর করে। হাতের কাছে যখন যা পায় তাই দিয়ে মারে। প্রতিবাদ করলে ভাত দেয় না।

সোমবার থানায় আসার পথে তাদের কাছে থাকা ৪ শ টাকাও জনৈক ভ্যানচালক নিয়ে চম্পট দিয়েছে। তাদের করুণ কান্নাকাটি দেখে চাঁচকৈড় বাজারের ব্যবসায়ী বাবু মোল্লা তাদের থানায় নিয়ে আসেন।

বৃদ্ধ খোরশেদ বলেন, বয়স্কভাতা ছাড়া জীবনে কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাননি। এমনকি এই করোনাকালেও কোনো স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান থেকেও কেউ খোঁজ নেয়নি। অভিযুক্ত পুত্র ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন গুরুদাসপুর থানার ওসি মোজাহারুল ইসলাম।

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পুত্রবধূর অত্যাচারে থানায় বৃদ্ধ দম্পতি

Update Time : ০৮:১২:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২০

নাটোর প্রতিনিধি:নাটোরের গুরুদাসপুরে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের দুর্গাপুর মধ্যপাড়া গ্রামের নব্বই বছরের বৃদ্ধ খোরশেদ আলী ও তার স্ত্রী আয়শা খাতুনকে (৭৫) ছেলের বউ মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।

তাদের তিন ছেলে দুই মেয়ে। ছেলেমেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। নাতিপুতিও হয়েছে।

ওই গ্রামের প্রতিবেশী আকরামসহ অনেকে জানান, বৃদ্ধ দম্পতি একটি ছাপড়া ঘরে থাকেন। তা-ও ঝড়ে ভেঙে গেছে। জোড়াতালি দিয়ে ওই ঘরেই থাকেন তারা। বয়ঃবৃদ্ধ হওয়ার কারণে ছেলে বাহারের স্ত্রী তাদের ভালো চোখে দেখে না। মাঝেমধ্যেই মারধর করে। খেয়ে না খেয়ে দুঃখ-কষ্টে চলছে তাদের জীবন। বাড়িটুকু ছাড়া তাদের কোনো সহায় সম্পত্তিও নেই। তিন ছেলের খরচে চলেন তারা। বড় দুই ছেলে থাকেন ঈশ্বরদীতে। কিন্তু ছোট ছেলে বাহারের স্ত্রী মঞ্জু বেগম (৩৭) শাশুড়িকে মাঝে মধ্যেই মারধর করে। হাতের কাছে যখন যা পায় তাই দিয়ে মারে। প্রতিবাদ করলে ভাত দেয় না।

সোমবার থানায় আসার পথে তাদের কাছে থাকা ৪ শ টাকাও জনৈক ভ্যানচালক নিয়ে চম্পট দিয়েছে। তাদের করুণ কান্নাকাটি দেখে চাঁচকৈড় বাজারের ব্যবসায়ী বাবু মোল্লা তাদের থানায় নিয়ে আসেন।

বৃদ্ধ খোরশেদ বলেন, বয়স্কভাতা ছাড়া জীবনে কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাননি। এমনকি এই করোনাকালেও কোনো স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান থেকেও কেউ খোঁজ নেয়নি। অভিযুক্ত পুত্র ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন গুরুদাসপুর থানার ওসি মোজাহারুল ইসলাম।

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট