ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনের ছুটির প্রভাবে ঢাকার বাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে মুরগি-পেঁয়াজ-সবজির দাম

আইএনবি ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে ঘোষিত সাধারণ ছুটির প্রভাবে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পণ্যবাহী যানচলাচল সীমিত থাকা এবং পাইকারি আড়ত আংশিক বন্ধ থাকায় সরবরাহ কমে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে মুরগি, পেঁয়াজ ও বিভিন্ন সবজির দামে।

নির্বাচনের পরপরই ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ২১০ টাকার মধ্যে, আর সোনালি মুরগির কেজি ৩১০ থেকে ৩৪০ টাকা। খামার থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না আসায় দাম কমানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

পেঁয়াজের বাজারেও স্বস্তি নেই। পুরোনো দেশি পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ থাকায় মানভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও কেজিতে প্রায় ১০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভোটের আগের তুলনায় প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি। শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়। শিম, মুলা ও পেঁপে ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড করলা ও মটরশুটির দাম উঠেছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, নির্বাচনের দিন ও এর আগে–পরে যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ির কারণে পাইকারি বাজার থেকে খুচরা পর্যায়ে পণ্য পৌঁছাতে সমস্যা হয়েছে। সীমিত পরিবহন চলাচলের ফলে ভাড়া দেড় থেকে দ্বিগুণ বেড়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলেছে কাঁচাপণ্যের দামে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন আড়তে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম পণ্যবাহী গাড়ি দেখা গেছে।

অন্যদিকে, বাজারে ক্রেতার উপস্থিতিও কম। বিক্রি কম হওয়ায় অনেক দোকানি ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা সবজি আনেননি, কিছু দোকান বন্ধও ছিল। বউবাজারের বিক্রেতা এনামুল বলেন, সরবরাহ ও ক্রেতা—দুটোই কম। তাই দাম কিছুটা বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে আছে। স্বাভাবিক সময়ের মতো ক্রেতা থাকলে দাম আরও বাড়ত।

সেগুনবাগিচার বিক্রেতা ইয়াছিন জানান, কারওয়ান বাজারে আমদানি কম থাকায় শসা, মটরশুটি, ফুলকপি ও বাঁধাকপি আনতে পারেননি।

ব্যবসায়ীদের মতে, বেশির ভাগ সবজি এক–দুই দিনের বেশি মজুত রাখা যায় না। পরিবহন স্বাভাবিক হলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং দামও কমে আসবে। তারা আশা করছেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ব্যাংক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হলে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।

তবে তেল, চিনি ও ডিমের মতো মুদিপণ্যের দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি। ডিম প্রতি ডজন ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
Tag :

নির্বাচনের ছুটির প্রভাবে ঢাকার বাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে মুরগি-পেঁয়াজ-সবজির দাম

আপডেট সময় ১০:১০:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আইএনবি ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে ঘোষিত সাধারণ ছুটির প্রভাবে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পণ্যবাহী যানচলাচল সীমিত থাকা এবং পাইকারি আড়ত আংশিক বন্ধ থাকায় সরবরাহ কমে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে মুরগি, পেঁয়াজ ও বিভিন্ন সবজির দামে।

নির্বাচনের পরপরই ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ২১০ টাকার মধ্যে, আর সোনালি মুরগির কেজি ৩১০ থেকে ৩৪০ টাকা। খামার থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না আসায় দাম কমানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

পেঁয়াজের বাজারেও স্বস্তি নেই। পুরোনো দেশি পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ থাকায় মানভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও কেজিতে প্রায় ১০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভোটের আগের তুলনায় প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি। শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়। শিম, মুলা ও পেঁপে ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড করলা ও মটরশুটির দাম উঠেছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, নির্বাচনের দিন ও এর আগে–পরে যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ির কারণে পাইকারি বাজার থেকে খুচরা পর্যায়ে পণ্য পৌঁছাতে সমস্যা হয়েছে। সীমিত পরিবহন চলাচলের ফলে ভাড়া দেড় থেকে দ্বিগুণ বেড়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলেছে কাঁচাপণ্যের দামে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন আড়তে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম পণ্যবাহী গাড়ি দেখা গেছে।

অন্যদিকে, বাজারে ক্রেতার উপস্থিতিও কম। বিক্রি কম হওয়ায় অনেক দোকানি ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা সবজি আনেননি, কিছু দোকান বন্ধও ছিল। বউবাজারের বিক্রেতা এনামুল বলেন, সরবরাহ ও ক্রেতা—দুটোই কম। তাই দাম কিছুটা বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে আছে। স্বাভাবিক সময়ের মতো ক্রেতা থাকলে দাম আরও বাড়ত।

সেগুনবাগিচার বিক্রেতা ইয়াছিন জানান, কারওয়ান বাজারে আমদানি কম থাকায় শসা, মটরশুটি, ফুলকপি ও বাঁধাকপি আনতে পারেননি।

ব্যবসায়ীদের মতে, বেশির ভাগ সবজি এক–দুই দিনের বেশি মজুত রাখা যায় না। পরিবহন স্বাভাবিক হলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং দামও কমে আসবে। তারা আশা করছেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ব্যাংক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হলে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।

তবে তেল, চিনি ও ডিমের মতো মুদিপণ্যের দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি। ডিম প্রতি ডজন ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট