/* */
Dhaka , শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo পুরান ঢাকার আদালত পাড়ায় কম্পিউটারের দোকানে লেখা হতো মামলার ভুয়া রায় Logo প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ড তৈরিতে ব্যয় ৬০০ টাকা, অর্থের জোগান নিয়ে ধোঁয়াশা Logo রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন Logo সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ‌‘কিছুটা চিন্তিত’ স্পিকার Logo সংসদ অধিবেশন ঘিরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ Logo ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার Logo রোববার বঙ্গভবনে উঠছেন রাষ্ট্রপতি Logo শপথ নিলেন নতুন ৪ মন্ত্রী, ২ প্রতিমন্ত্রী Logo রাষ্ট্রপতি নির্বাচন মির্জা ফখরুল ভোট দিতে পারলেও পারছেন না অলি আহমেদ Logo রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় আজ বিকেল ৪টা

কক্সবাজারে ৩ লাখ ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার

কক্সবাজার প্রতিনিধি: মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান পাচার করে আনার কাজটিকে রোহিঙ্গারা এখন অত্যন্ত সহজ হিসাবেই বেছে নিয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই পাচারকালে ধরা পড়ছে রোহিঙ্গা। আবার কথিত বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গারা প্রাণও হারাচ্ছে। সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে তিনজন রোহিঙ্গা কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন। তারপরেও থামছে না ইয়াবা পাচার।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের ঘুংধুম-তুমবুরু সীমান্তে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে ইয়াবা পাচারের ঘটনা। পাচারের কাজে জড়িতদের শতকরা নব্বই ভাগই রোহিঙ্গা। ইয়াবা পাচারের জন্য রোহিঙ্গারা সন্ধ্যায় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভোরেই এপাড়ে চলে আসে। আবার ভোরে গেলে সন্ধ্যায়ই ফিরে।

গতকাল সংঘটিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা প্রসঙ্গে কক্সবাজারের ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ন-এর অধিনায়ক লে, কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ জানিয়েছেন, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান পাচারের সংবাদ পেয়ে তিনি তুমবুরু বিওপি’র ১০ সদস্যের একটি আভিযানিক টহল দল প্রস্তুত করেন। দলটি উখিয়া উপজেলাধীন রাজাপালং ইউনিয়নের তুলাতলী জলিলের গোদা নামক স্থানে অবস্থান নেয়। ভোরে ১০/১২ জনের একটি দল পাহাড়ী এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে তাদের হাতে থাকা অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে টহল দলকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে।

বিজিবি সদস্যরাও এ সময় তাদের জান-মাল রক্ষার্থে পাল্টা গুলি করে। এক পর্যায়ে অজ্ঞাতনামা ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পার্শ্ববর্তী পাহাড়ী জঙ্গলের ভেতরে পালিয়ে যায়। টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গুলিবিদ্ধ তিন পাচারকারীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন। বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে তিন লাখ ইয়াবা, ২টি পাইপ গান ও ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। উদ্ধার করা ইয়াবার দাম ৯ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

নিহত রোহিঙ্গা পাচারকারীরা হচ্ছেন- যথাক্রমে তুমবুরু শূণ্যরেখা কোনার পাড়ার রোহিঙ্গা নুর আলম (৪৫), বালুখালী এক নম্বও ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মোহাম্মদ হামিদ (২৫) ও কুতুপালং ২ নম্বর ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নাজির হোসেন (২৫)।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি’র সদস্যরা গত ৬ মাসে অভিযান চালিয়ে ১১ লাখ ৪১ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারসহ ৮৯ জন পাচারকারিকে আটক করেছে। এছাড়াও বিজিবি’র উক্ত ব্যাটালিয়ানের সদস্যদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এসময় ৯ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে।

আইএনবি/বি.ভূঁইয়া


প্রিন্ট
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে ৩ লাখ ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার

আপডেটের সময় : ১০:১৮:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০

কক্সবাজার প্রতিনিধি: মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান পাচার করে আনার কাজটিকে রোহিঙ্গারা এখন অত্যন্ত সহজ হিসাবেই বেছে নিয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই পাচারকালে ধরা পড়ছে রোহিঙ্গা। আবার কথিত বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গারা প্রাণও হারাচ্ছে। সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে তিনজন রোহিঙ্গা কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন। তারপরেও থামছে না ইয়াবা পাচার।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের ঘুংধুম-তুমবুরু সীমান্তে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে ইয়াবা পাচারের ঘটনা। পাচারের কাজে জড়িতদের শতকরা নব্বই ভাগই রোহিঙ্গা। ইয়াবা পাচারের জন্য রোহিঙ্গারা সন্ধ্যায় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভোরেই এপাড়ে চলে আসে। আবার ভোরে গেলে সন্ধ্যায়ই ফিরে।

গতকাল সংঘটিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা প্রসঙ্গে কক্সবাজারের ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ন-এর অধিনায়ক লে, কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ জানিয়েছেন, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান পাচারের সংবাদ পেয়ে তিনি তুমবুরু বিওপি’র ১০ সদস্যের একটি আভিযানিক টহল দল প্রস্তুত করেন। দলটি উখিয়া উপজেলাধীন রাজাপালং ইউনিয়নের তুলাতলী জলিলের গোদা নামক স্থানে অবস্থান নেয়। ভোরে ১০/১২ জনের একটি দল পাহাড়ী এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে তাদের হাতে থাকা অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে টহল দলকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে।

বিজিবি সদস্যরাও এ সময় তাদের জান-মাল রক্ষার্থে পাল্টা গুলি করে। এক পর্যায়ে অজ্ঞাতনামা ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পার্শ্ববর্তী পাহাড়ী জঙ্গলের ভেতরে পালিয়ে যায়। টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গুলিবিদ্ধ তিন পাচারকারীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন। বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে তিন লাখ ইয়াবা, ২টি পাইপ গান ও ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। উদ্ধার করা ইয়াবার দাম ৯ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

নিহত রোহিঙ্গা পাচারকারীরা হচ্ছেন- যথাক্রমে তুমবুরু শূণ্যরেখা কোনার পাড়ার রোহিঙ্গা নুর আলম (৪৫), বালুখালী এক নম্বও ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মোহাম্মদ হামিদ (২৫) ও কুতুপালং ২ নম্বর ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নাজির হোসেন (২৫)।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি’র সদস্যরা গত ৬ মাসে অভিযান চালিয়ে ১১ লাখ ৪১ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারসহ ৮৯ জন পাচারকারিকে আটক করেছে। এছাড়াও বিজিবি’র উক্ত ব্যাটালিয়ানের সদস্যদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এসময় ৯ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে।

আইএনবি/বি.ভূঁইয়া


প্রিন্ট