ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হাম উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু Logo সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের ফ্ল্যাটে মিলেছে ৩০০ কোট, ৫৩২ টাই ও ১০০ কামিজ Logo আগামী মাসের মধ্যে ‘প্রবাসী কার্ডের’ পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ চালু করবে সরকার Logo দেশের গণপরিবহন আধুনিকায়নে ১ হাজার ৪০০ বৈদ্যুতিক বাস চালুর পরিকল্পনা Logo জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত মেজর (অব.) মোজাফফর ৪৫ বছর পর আটক Logo শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের লং মার্চ Logo প্রশ্ন আমরা করিনি, করেছে বিগত সরকার :শিক্ষামন্ত্রী Logo সংসদে ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা Logo কুমিল্লায় নৌকায় চড়ে এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা Logo বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে ভবিষ্যতের মানদণ্ড: প্রধান উপদেষ্টা

আইএনবি ডেস্ক: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মন্তব্য করেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচন দেশের ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য একটি স্থায়ী মানদণ্ড বা ‘বেঞ্চমার্ক’ হয়ে থাকবে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এটিই ছিল মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

অধ্যাপক ইউনূস রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করেন, সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ভোটগ্রহণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং এই নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের পক্ষ থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকবেন।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়, যার মধ্যে শ্রম আইনের সংস্কার, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকট অন্যতম। প্রধান উপদেষ্টা এই নির্বাচনকে একটি ‘উৎসবমুখর’ আয়োজন হিসেবে বর্ণনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে এর মাধ্যমে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সুস্থ ধারা তৈরি হবে।

জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত ১৮ মাসে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং জানান, নির্বাচনে বিজয়ীদের সঙ্গেই কাজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তিনি বিশেষ করে বাংলাদেশের নতুন শ্রম আইনের প্রশংসা করেন এবং সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানান।

আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি রাষ্ট্রদূতের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, ঢাকা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সদস্যপদ পাওয়ার চেষ্টা করছে এবং ইতিমধ্যে ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপ’-এর জন্য আবেদন করেছে।

একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। অধ্যাপক ইউনূস আশা প্রকাশ করেন যে, পরবর্তী নির্বাচিত সরকারও এই আঞ্চলিক সংহতির উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিয়ে যাবে। এছাড়া মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক কমিয়ে দেওয়ায় তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন।

বৈঠকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক মানবিক সহায়তার প্রশংসা করার পাশাপাশি সম্প্রতি বিশ্বের ৭৫টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ভিসা বিধিনিষেধের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত কৃষি পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণে দুই দেশের আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই আলোচনার মাধ্যমে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: বাসস

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
Tag :

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে ভবিষ্যতের মানদণ্ড: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৬:৫৭:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

আইএনবি ডেস্ক: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মন্তব্য করেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচন দেশের ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য একটি স্থায়ী মানদণ্ড বা ‘বেঞ্চমার্ক’ হয়ে থাকবে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এটিই ছিল মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

অধ্যাপক ইউনূস রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করেন, সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ভোটগ্রহণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং এই নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের পক্ষ থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকবেন।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়, যার মধ্যে শ্রম আইনের সংস্কার, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকট অন্যতম। প্রধান উপদেষ্টা এই নির্বাচনকে একটি ‘উৎসবমুখর’ আয়োজন হিসেবে বর্ণনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে এর মাধ্যমে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সুস্থ ধারা তৈরি হবে।

জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত ১৮ মাসে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং জানান, নির্বাচনে বিজয়ীদের সঙ্গেই কাজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তিনি বিশেষ করে বাংলাদেশের নতুন শ্রম আইনের প্রশংসা করেন এবং সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানান।

আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি রাষ্ট্রদূতের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, ঢাকা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সদস্যপদ পাওয়ার চেষ্টা করছে এবং ইতিমধ্যে ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপ’-এর জন্য আবেদন করেছে।

একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। অধ্যাপক ইউনূস আশা প্রকাশ করেন যে, পরবর্তী নির্বাচিত সরকারও এই আঞ্চলিক সংহতির উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিয়ে যাবে। এছাড়া মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক কমিয়ে দেওয়ায় তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন।

বৈঠকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক মানবিক সহায়তার প্রশংসা করার পাশাপাশি সম্প্রতি বিশ্বের ৭৫টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ভিসা বিধিনিষেধের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত কৃষি পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণে দুই দেশের আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই আলোচনার মাধ্যমে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: বাসস

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট