ঢাকা , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করলেন Logo বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারনে দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টির আভাস Logo রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসি বৈঠক Logo সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ Logo শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর সরকার পতনের ডাক রাহুল গান্ধীর Logo শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একদিন সময় চেয়েছে মোদি সরকার Logo রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে বঙ্গভবন ঘিরে কৌতূহল Logo ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে কথা না বলায় ক্যাটরিনার ফ্যান পেজ বন্ধ Logo জামায়াত এমপির ঘটনার তদন্ত চান তাসনিম জারা Logo মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল, প্রিয়াঙ্কা ও অখিলেশ আটক

শ্রীলঙ্কাকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে মর্যাদা দিল বিশ্বব্যাংক

সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তিন বছর আগের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে শ্রীলঙ্কা। এ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশটিকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ২০২২ সালের সেই সংকটে দ্বীপরাষ্ট্রটির অর্থনীতি প্রায় ধসে পড়ার মুখে পড়েছিল।

বিশ্বব্যাংকের গত বুধবার প্রকাশিত সবশেষ আয়ভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসে শ্রীলঙ্কাকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় উন্নীত করেছে। ২০২৫ সালে দেশটির অর্থনীতি তথা মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করায় আয়ের দিক থেকে দেশটির পুনঃ শ্রেণিবিন্যাস করে বিশ্বব্যাংক। শিল্প খাতের পুনরুদ্ধার, পর্যটন এবং আর্থিক সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি দেশটির অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

শ্রীলঙ্কাকে ‘পুনরুদ্ধারের এক গল্প’ হিসেবে বর্ণনা করে বিশ্বব্যাংক বলেছে, মাত্র তিন বছর আগে ২০২২ সালে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে দেশটি প্রায় ধসে পড়ার মুখে ছিল। তবে ২০২৫ সালে শিল্প খাতের পুনরুদ্ধার, আর্থিক ও পর্যটন সেবায় প্রবৃদ্ধির ফলে দেশটির প্রকৃত জিডিপি ৫ শতাংশ বেড়েছে। সংস্থাটি আরও বলেছে, এই পুনঃ শ্রেণিবিন্যাস দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। তবে দেশটি খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে এই সীমা অতিক্রম করেছে।

বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন দেশকে চারটি আয়ভিত্তিক শ্রেণিতে ভাগ করে থাকে—উচ্চ আয়, উচ্চ মধ্যম আয়, নিম্ন মধ্যম আয় ও নিম্ন আয়। শ্রীলঙ্কার এই নতুন মর্যাদা সাম্প্রতিক আর্থিক সংকট কাটিয়ে অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের একটি প্রতীকী মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের এই শ্রেণিবিন্যাস আগের ক্যালেন্ডার বছরের মাথাপিছু মোট জাতীয় আয়ের (জিএনআই) হিসাবের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারের তালিকায় ২১৮টি দেশ ও অর্থনীতি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই শ্রেণিবিন্যাস আগামী ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বৈশ্বিক মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

২০১৯ সালের ইস্টার সানডে হামলা, পরের বছর করোনা মহামারি ও পরবর্তী সময় ব্যালান্স অব পেমেন্টস বা বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের সংকট মিলিয়ে ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কা সার্বভৌম ঋণ পরিশোধে খেলাপি (সভরেন ডিফল্ট) হয়ে যায়। এর ফলে দেশটির অর্থনীতি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় মন্দার মুখে পড়ে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, এই পুনঃ শ্রেণিবিন্যাস আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহায়তায় পরিচালিত ব্যাপক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা কর্মসূচির অগ্রগতির প্রতিফলন। এর মধ্যে ছিল রাজস্ব আয়, মুদ্রানীতির সংস্কার ও বৈদেশিক ঋণ পুনর্গঠন।

বিশ্বব্যাংক আরও বলেছে, পর্যটন খাতের পুনরুজ্জীবন, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক খাতের উন্নতি ও টানা দুই বছরের সংকোচনের পর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ফিরে আসাই শ্রীলঙ্কার পুনরুদ্ধারের প্রধান কারণ।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে কথার সময় কান্না, ৩ বছরের সন্তানকে মেরে ফেললেন মা

শ্রীলঙ্কাকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে মর্যাদা দিল বিশ্বব্যাংক

আপডেট সময় ০৮:১৫:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তিন বছর আগের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে শ্রীলঙ্কা। এ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশটিকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ২০২২ সালের সেই সংকটে দ্বীপরাষ্ট্রটির অর্থনীতি প্রায় ধসে পড়ার মুখে পড়েছিল।

বিশ্বব্যাংকের গত বুধবার প্রকাশিত সবশেষ আয়ভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসে শ্রীলঙ্কাকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় উন্নীত করেছে। ২০২৫ সালে দেশটির অর্থনীতি তথা মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করায় আয়ের দিক থেকে দেশটির পুনঃ শ্রেণিবিন্যাস করে বিশ্বব্যাংক। শিল্প খাতের পুনরুদ্ধার, পর্যটন এবং আর্থিক সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি দেশটির অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

শ্রীলঙ্কাকে ‘পুনরুদ্ধারের এক গল্প’ হিসেবে বর্ণনা করে বিশ্বব্যাংক বলেছে, মাত্র তিন বছর আগে ২০২২ সালে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে দেশটি প্রায় ধসে পড়ার মুখে ছিল। তবে ২০২৫ সালে শিল্প খাতের পুনরুদ্ধার, আর্থিক ও পর্যটন সেবায় প্রবৃদ্ধির ফলে দেশটির প্রকৃত জিডিপি ৫ শতাংশ বেড়েছে। সংস্থাটি আরও বলেছে, এই পুনঃ শ্রেণিবিন্যাস দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। তবে দেশটি খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে এই সীমা অতিক্রম করেছে।

বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন দেশকে চারটি আয়ভিত্তিক শ্রেণিতে ভাগ করে থাকে—উচ্চ আয়, উচ্চ মধ্যম আয়, নিম্ন মধ্যম আয় ও নিম্ন আয়। শ্রীলঙ্কার এই নতুন মর্যাদা সাম্প্রতিক আর্থিক সংকট কাটিয়ে অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের একটি প্রতীকী মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের এই শ্রেণিবিন্যাস আগের ক্যালেন্ডার বছরের মাথাপিছু মোট জাতীয় আয়ের (জিএনআই) হিসাবের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারের তালিকায় ২১৮টি দেশ ও অর্থনীতি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই শ্রেণিবিন্যাস আগামী ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বৈশ্বিক মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

২০১৯ সালের ইস্টার সানডে হামলা, পরের বছর করোনা মহামারি ও পরবর্তী সময় ব্যালান্স অব পেমেন্টস বা বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের সংকট মিলিয়ে ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কা সার্বভৌম ঋণ পরিশোধে খেলাপি (সভরেন ডিফল্ট) হয়ে যায়। এর ফলে দেশটির অর্থনীতি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় মন্দার মুখে পড়ে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, এই পুনঃ শ্রেণিবিন্যাস আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহায়তায় পরিচালিত ব্যাপক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা কর্মসূচির অগ্রগতির প্রতিফলন। এর মধ্যে ছিল রাজস্ব আয়, মুদ্রানীতির সংস্কার ও বৈদেশিক ঋণ পুনর্গঠন।

বিশ্বব্যাংক আরও বলেছে, পর্যটন খাতের পুনরুজ্জীবন, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক খাতের উন্নতি ও টানা দুই বছরের সংকোচনের পর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ফিরে আসাই শ্রীলঙ্কার পুনরুদ্ধারের প্রধান কারণ।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট