ঢাকা , সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ Logo শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর সরকার পতনের ডাক রাহুল গান্ধীর Logo শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একদিন সময় চেয়েছে মোদি সরকার Logo রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে বঙ্গভবন ঘিরে কৌতূহল Logo ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে কথা না বলায় ক্যাটরিনার ফ্যান পেজ বন্ধ Logo জামায়াত এমপির ঘটনার তদন্ত চান তাসনিম জারা Logo মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল, প্রিয়াঙ্কা ও অখিলেশ আটক Logo হাম উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু Logo সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের ফ্ল্যাটে মিলেছে ৩০০ কোট, ৫৩২ টাই ও ১০০ কামিজ Logo আগামী মাসের মধ্যে ‘প্রবাসী কার্ডের’ পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ চালু করবে সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের ৩০০ মিলিয়ন ডলারের থাড রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, টেবিলে থাকা অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাড (THAAD)-এর একটি শক্তিশালী রাডার ইরান ধ্বংস করেছে। জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত ৩০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই এএন/টিপিওয়াই-২ (AN/TPY-2) রাডারটি ধ্বংস হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্প্রতি এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

গবেষণা সংস্থা ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অফ ডেমোক্রেসিস’-এর তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ৩ মার্চ জর্ডানে দুটি ইরানি হামলার খবর পাওয়া গিয়েছিল। প্রাথমিকভাবে সেগুলো প্রতিহত করার দাবি করা হলেও পরবর্তী সময়ে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্রে রাডার ও এর সহযোগী সরঞ্জামগুলো ধ্বংস হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, থাড রাডারের ওপর এই সফল আঘাত ইরানের অন্যতম বড় সামরিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড ব্যবস্থাটি মূলত বায়ুমণ্ডলের কিনারে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম। বর্তমানে এই রাডারটি অকেজো হয়ে পড়ায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের মূল দায়িত্ব এখন ‘প্যাট্রিয়ট’ সিস্টেমের ওপর বর্তাবে। তবে প্যাট্রিয়ট সিস্টেমে ব্যবহৃত পিএসি-৩ (PAC-3) ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আগে থেকেই কম থাকায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ টম কারাকো জানান, বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাত্র আটটি থাড ইউনিট রয়েছে, যার প্রতিটি ইউনিটের দাম প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে শুধুমাত্র রাডারটির দামই ৩০০ মিলিয়ন ডলার। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১২ সালের পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্তত নয়টি ইউনিটের প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম ইউনিট রয়েছে এবং এই মুহূর্তে কোনো অতিরিক্ত রাডার হাতে নেই।

একটি থাড ব্যাটারিতে সাধারণত ৯০ জন সেনাসদস্য, ছয়টি ট্রাক-মাউন্টেড লঞ্চার, ৪৮টি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র এবং একটি টিপিওয়াই-২ রাডার থাকে। এর প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন খরচ প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমাগত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে এই উন্নত ইন্টারসেপ্টরগুলোর মজুত বিপজ্জনকভাবে ফুরিয়ে আসছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অস্ত্র উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্স-এর মতো শীর্ষ প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে পেন্টাগন। এর আগে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি আর্লি ওয়ার্নিং রাডারও ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। একের পর এক রাডার ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক কৌশল নতুন করে সাজানোর চাপ বাড়ছে।

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লঘুচাপের প্রভাবে উত্তাল কুয়াকাটা সাগর, উপকূলে ফিরেছে শত শত ট্রলার

যুক্তরাষ্ট্রের ৩০০ মিলিয়ন ডলারের থাড রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে ইরান

আপডেট সময় ০২:৩০:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, টেবিলে থাকা অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাড (THAAD)-এর একটি শক্তিশালী রাডার ইরান ধ্বংস করেছে। জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত ৩০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই এএন/টিপিওয়াই-২ (AN/TPY-2) রাডারটি ধ্বংস হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্প্রতি এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

গবেষণা সংস্থা ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অফ ডেমোক্রেসিস’-এর তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ৩ মার্চ জর্ডানে দুটি ইরানি হামলার খবর পাওয়া গিয়েছিল। প্রাথমিকভাবে সেগুলো প্রতিহত করার দাবি করা হলেও পরবর্তী সময়ে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্রে রাডার ও এর সহযোগী সরঞ্জামগুলো ধ্বংস হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, থাড রাডারের ওপর এই সফল আঘাত ইরানের অন্যতম বড় সামরিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড ব্যবস্থাটি মূলত বায়ুমণ্ডলের কিনারে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম। বর্তমানে এই রাডারটি অকেজো হয়ে পড়ায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের মূল দায়িত্ব এখন ‘প্যাট্রিয়ট’ সিস্টেমের ওপর বর্তাবে। তবে প্যাট্রিয়ট সিস্টেমে ব্যবহৃত পিএসি-৩ (PAC-3) ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আগে থেকেই কম থাকায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ টম কারাকো জানান, বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাত্র আটটি থাড ইউনিট রয়েছে, যার প্রতিটি ইউনিটের দাম প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে শুধুমাত্র রাডারটির দামই ৩০০ মিলিয়ন ডলার। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১২ সালের পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্তত নয়টি ইউনিটের প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম ইউনিট রয়েছে এবং এই মুহূর্তে কোনো অতিরিক্ত রাডার হাতে নেই।

একটি থাড ব্যাটারিতে সাধারণত ৯০ জন সেনাসদস্য, ছয়টি ট্রাক-মাউন্টেড লঞ্চার, ৪৮টি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র এবং একটি টিপিওয়াই-২ রাডার থাকে। এর প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন খরচ প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমাগত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে এই উন্নত ইন্টারসেপ্টরগুলোর মজুত বিপজ্জনকভাবে ফুরিয়ে আসছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অস্ত্র উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্স-এর মতো শীর্ষ প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে পেন্টাগন। এর আগে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি আর্লি ওয়ার্নিং রাডারও ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। একের পর এক রাডার ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক কৌশল নতুন করে সাজানোর চাপ বাড়ছে।

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট