ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হাম উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু Logo সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের ফ্ল্যাটে মিলেছে ৩০০ কোট, ৫৩২ টাই ও ১০০ কামিজ Logo আগামী মাসের মধ্যে ‘প্রবাসী কার্ডের’ পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ চালু করবে সরকার Logo দেশের গণপরিবহন আধুনিকায়নে ১ হাজার ৪০০ বৈদ্যুতিক বাস চালুর পরিকল্পনা Logo জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত মেজর (অব.) মোজাফফর ৪৫ বছর পর আটক Logo শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের লং মার্চ Logo প্রশ্ন আমরা করিনি, করেছে বিগত সরকার :শিক্ষামন্ত্রী Logo সংসদে ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা Logo কুমিল্লায় নৌকায় চড়ে এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা Logo বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি সংকটে সেচ বন্ধের আশঙ্কায় দিশেহারা কৃষকরা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:ঠাকুরগাঁও জেলার কৃষকেরা তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন । ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা চলতি বোরো মৌসুমে ফসল উৎপাদন নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

সেচ পাম্প চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় অনেকেই জমিতে পানি দিতে পারছেন না। এতে বোরো ধান, ভুট্টা ও বিভিন্ন সবজি চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষক ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার একজন কৃষক অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল মেলে না। তার দাবি, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও মোটরসাইকেল চালকেরা আগে তেল নিয়ে যাওয়ায় সাধারণ কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

আরেক কৃষক জানান, সকাল থেকে অপেক্ষা করে মাত্র ২০০ টাকার তেল পেয়েছেন, যা দিয়ে এক বিঘা জমিতেও সেচ দেওয়া সম্ভব নয়। সরকার বলছে তেলের সংকট নেই, তাহলে আমরা পাচ্ছি না কেন বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এদিকে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে জ্বালানি মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে কৃষি উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে এখনো কৃষিতে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। তার দাবি, পেট্রোলচালিত সেচ পাম্পের সংখ্যা খুবই কম এবং এগুলো দিয়ে সীমিত পরিমাণ জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব। তিনি আরও বলেন, ফিলিং স্টেশনগুলোতে যারা ভিড় করছেন, তাদের অনেকেই সেচ পাম্পের অজুহাতে জেনারেটরের জন্য জ্বালানি নিচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে অন্তত এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন সেচের প্রয়োজন কম থাকবে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে এবং দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে বর্তমান অবস্থায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা বাড়ছে। সময়মতো সেচ নিশ্চিত করা না গেলে শুধু ফসলই নয়, পুরো মৌসুমের উৎপাদন ব্যবস্থাই বিপর্যস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
Tag :

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি সংকটে সেচ বন্ধের আশঙ্কায় দিশেহারা কৃষকরা

আপডেট সময় ১০:২৬:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:ঠাকুরগাঁও জেলার কৃষকেরা তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন । ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা চলতি বোরো মৌসুমে ফসল উৎপাদন নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

সেচ পাম্প চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় অনেকেই জমিতে পানি দিতে পারছেন না। এতে বোরো ধান, ভুট্টা ও বিভিন্ন সবজি চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষক ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার একজন কৃষক অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল মেলে না। তার দাবি, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও মোটরসাইকেল চালকেরা আগে তেল নিয়ে যাওয়ায় সাধারণ কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

আরেক কৃষক জানান, সকাল থেকে অপেক্ষা করে মাত্র ২০০ টাকার তেল পেয়েছেন, যা দিয়ে এক বিঘা জমিতেও সেচ দেওয়া সম্ভব নয়। সরকার বলছে তেলের সংকট নেই, তাহলে আমরা পাচ্ছি না কেন বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এদিকে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে জ্বালানি মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে কৃষি উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে এখনো কৃষিতে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। তার দাবি, পেট্রোলচালিত সেচ পাম্পের সংখ্যা খুবই কম এবং এগুলো দিয়ে সীমিত পরিমাণ জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব। তিনি আরও বলেন, ফিলিং স্টেশনগুলোতে যারা ভিড় করছেন, তাদের অনেকেই সেচ পাম্পের অজুহাতে জেনারেটরের জন্য জ্বালানি নিচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে অন্তত এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন সেচের প্রয়োজন কম থাকবে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে এবং দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে বর্তমান অবস্থায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা বাড়ছে। সময়মতো সেচ নিশ্চিত করা না গেলে শুধু ফসলই নয়, পুরো মৌসুমের উৎপাদন ব্যবস্থাই বিপর্যস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট