ঢাকা , বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের লং মার্চ Logo প্রশ্ন আমরা করিনি, করেছে বিগত সরকার :শিক্ষামন্ত্রী Logo সংসদে ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা Logo কুমিল্লায় নৌকায় চড়ে এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা Logo বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo চট্টগ্রামে সাড়ে ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দি Logo জন্মভূমি ফ্রান্সের বিপক্ষে নামছেন মরক্কোর ৬ ফুটবলার   Logo রাতের মধ্যে ১৯ অঞ্চলে বজ্রঝড়ের আশঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত Logo  ধেয়ে আসছে ২০০ কিমি গতির তুফান Logo অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ফ্রি করতে চান প্রধানমন্ত্রী

ইরানি মিসাইলে আরবদের ঘুম হারাম, অনিশ্চিত পথে বিশ্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই লড়াই এবার ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোতে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক ভয়াবহ যুদ্ধের রূপ নিয়েছে।

সোমবার ভোরে ইরানের নজিরবিহীন মিসাইল ও ড্রোন হামলায় কেঁপে উঠেছে বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব। এই হামলার পর বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি বাপকো তাদের শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের জেরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। সিত্রা দ্বীপে অবস্থিত এই শোধনাগারটি ইরানি ড্রোনের আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম গত চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

কাতারের রাজধানী দোহা থেকে পাওয়া খবরে জানা যায়, গভীর রাতে সেখানে অন্তত ১২ থেকে ১৩টি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি এই হামলাকে চরম ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কাতার নিরপেক্ষ থাকার এবং কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করলেও ইরান সরাসরি তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

এদিকে সৌদি আরবের আল-খারজ এলাকায় একটি প্রজেক্টাইল আছড়ে পড়ায় অন্তত দুইজন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই আক্রমণকে ‘নিন্দনীয়’ বলে আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা শিল্পাঞ্চলেও ড্রোন ভূপাতিত করার পর ধ্বংসাবশেষ পড়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে ইরানের ভেতরেও অস্থিরতা তুঙ্গে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই নিয়োগের পরপরই ইসরায়েল ইরানের কেন্দ্রীয় অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নতুন নেতাও তাদের লক্ষ্যবস্তু থেকে বাদ যাবেন না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংঘাত নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক হুমকি নির্মূল করার জন্য তেলের দাম বৃদ্ধি একটি সামান্য ত্যাগ মাত্র। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই যুদ্ধ কখন শেষ হবে সেই সিদ্ধান্ত তিনি এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যৌথভাবে নেবেন।

লেবানন সীমান্তেও পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে পূর্ব লেবাননে সরাসরি লড়াই চলছে। সোমবার অন্তত ১৫টি ইসরায়েলি হেলিকপ্টার সিরিয়া সীমান্ত দিয়ে লেবাননে প্রবেশ করে সেনা নামিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বৈরুতের একটি হোটেলে আইআরজিসি-র কুদস ফোর্সের কমান্ডারদের লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে।

যুদ্ধের এই ১১ দিনে ইরানে অন্তত ১,২৫৫ জন এবং লেবাননে ৩৯০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরায়েলের ভেতরেও ইরানি মিসাইলে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
Tag :

এক দিনে হাম সন্দেহে ৫ জনের মৃত্যু

ইরানি মিসাইলে আরবদের ঘুম হারাম, অনিশ্চিত পথে বিশ্ব

আপডেট সময় ০৩:৩১:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই লড়াই এবার ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোতে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক ভয়াবহ যুদ্ধের রূপ নিয়েছে।

সোমবার ভোরে ইরানের নজিরবিহীন মিসাইল ও ড্রোন হামলায় কেঁপে উঠেছে বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব। এই হামলার পর বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি বাপকো তাদের শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের জেরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। সিত্রা দ্বীপে অবস্থিত এই শোধনাগারটি ইরানি ড্রোনের আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম গত চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

কাতারের রাজধানী দোহা থেকে পাওয়া খবরে জানা যায়, গভীর রাতে সেখানে অন্তত ১২ থেকে ১৩টি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি এই হামলাকে চরম ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কাতার নিরপেক্ষ থাকার এবং কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করলেও ইরান সরাসরি তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

এদিকে সৌদি আরবের আল-খারজ এলাকায় একটি প্রজেক্টাইল আছড়ে পড়ায় অন্তত দুইজন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই আক্রমণকে ‘নিন্দনীয়’ বলে আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা শিল্পাঞ্চলেও ড্রোন ভূপাতিত করার পর ধ্বংসাবশেষ পড়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে ইরানের ভেতরেও অস্থিরতা তুঙ্গে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই নিয়োগের পরপরই ইসরায়েল ইরানের কেন্দ্রীয় অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নতুন নেতাও তাদের লক্ষ্যবস্তু থেকে বাদ যাবেন না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংঘাত নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক হুমকি নির্মূল করার জন্য তেলের দাম বৃদ্ধি একটি সামান্য ত্যাগ মাত্র। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই যুদ্ধ কখন শেষ হবে সেই সিদ্ধান্ত তিনি এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যৌথভাবে নেবেন।

লেবানন সীমান্তেও পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে পূর্ব লেবাননে সরাসরি লড়াই চলছে। সোমবার অন্তত ১৫টি ইসরায়েলি হেলিকপ্টার সিরিয়া সীমান্ত দিয়ে লেবাননে প্রবেশ করে সেনা নামিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বৈরুতের একটি হোটেলে আইআরজিসি-র কুদস ফোর্সের কমান্ডারদের লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে।

যুদ্ধের এই ১১ দিনে ইরানে অন্তত ১,২৫৫ জন এবং লেবাননে ৩৯০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরায়েলের ভেতরেও ইরানি মিসাইলে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট