লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট

আইএনবি ডেস্ক: লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পরবর্তী সব কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

বুধবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান এ রিট করেন।

রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র‍্যাবের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট পিটিশনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয় থেকে পাঁচ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ছয় লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়। সরকার এসব অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করলেও এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

রিটে আরও বলা হয়, বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে ঢাকা–৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরিফ ওসমান হাদী সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা অবৈধ অস্ত্রের ভয়াবহতা তুলে ধরেছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে এ নির্বাচন রক্তক্ষয়ী হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর বক্তব্যের কথাও রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারকে অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন।

রিটকারী আইনজীবী মাহমুদুল হাসান বলেন, সরকার কিছু সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর জন্য গানম্যানের ব্যবস্থা করলেও দেশের সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না করেই নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার ও প্রার্থীদের ‘জীবনের অধিকার’-এর চরম লঙ্ঘন হবে।

এ অবস্থায় লুণ্ঠিত সব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পরবর্তী সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।

এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর একই দাবিতে রেজিস্ট্রি ডাক ও ই–মেইলের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করা হবে বলে জানানো হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এ রিট আবেদন করা হয়েছে।

আইএনবি/বিভূঁইয়া