/* */
Dhaka , বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৬ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসি, খাবার পৌঁছে দিলেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

আইএনবি ডেস্ক: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) বৈরী পরিস্থিতির মুখে পড়ে টানা ২৬ ঘণ্টা ধরে নিজ দপ্তরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নিজের চরম দুর্ভোগের কথা প্রকাশ করে উপাচার্য বলেন, তারা অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় আছেন এবং তাদের বাইরে বের হতে না দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, আগের রাতটি তাদের খুব কষ্টের মধ্য দিয়ে পার করতে হয়েছে এবং উদ্ধারের জন্য তিনি প্রশাসনের জরুরি সহযোগিতা চেয়েছেন। এ সময় নিজের শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে তার কথা বলার মতো পরিস্থিতি নেই, প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর হয়তো তিনি বিস্তারিত কথা বলতে পারবেন। অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও মঙ্গলবার আন্দোলনেরত শিক্ষার্থীরা সৌজন্যতা দেখিয়ে দুপুরের দিকে উপাচার্য ও তার সঙ্গীদের জন্য নাশতা পাঠান, যার আগে সকালেও তাদের জন্য একবার খাবার পাঠানো হয়েছিল।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত সোমবার সকাল আটটার দিকে, যখন তালা ভেঙে দীর্ঘ ২১ দিন পর উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন। তিনি ছাত্রদলের নেতা, কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের নিয়ে দপ্তরে প্রবেশ করেছেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে অবিলম্বে চুয়েট ত্যাগের নির্দেশ দিয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন ত্যাগ না করায় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং দিনভর ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে উপাচার্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও প্রত্যাখ্যানসূচক নানা স্লোগান দিতে থাকেন।

আন্দোলনের প্রথম দিনে বিকেলের দিকে সংশ্লিষ্ট ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও বহিরাগতরা ঘটনাস্থল থেকে সরে গেলেও প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে উপাচার্য ও তার সহযোগীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে এলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ‘অনলাইন ভিসি’ এবং ছাত্র নির্যাতনের অভিযোগ তুলে স্লোগান দিতে থাকেন। ওই দিন দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপাচার্যের সঙ্গে ভেতরে থাকা কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয় এবং পরে শিক্ষার্থীদের কঠোর পাহারায় চুয়েটের চিকিৎসকেরা ভেতরে প্রবেশ করে তাদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। সব মিলিয়ে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত টানা ২৬ ঘণ্টা ধরে উপাচার্য ও তার সঙ্গীরা প্রশাসনিক ভবনেই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বিশ্বব্যাংক প্রস্তুত: অর্থমন্ত্রী

২৬ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসি, খাবার পৌঁছে দিলেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

আপডেটের সময় : ০৪:৪৭:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

আইএনবি ডেস্ক: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) বৈরী পরিস্থিতির মুখে পড়ে টানা ২৬ ঘণ্টা ধরে নিজ দপ্তরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নিজের চরম দুর্ভোগের কথা প্রকাশ করে উপাচার্য বলেন, তারা অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় আছেন এবং তাদের বাইরে বের হতে না দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, আগের রাতটি তাদের খুব কষ্টের মধ্য দিয়ে পার করতে হয়েছে এবং উদ্ধারের জন্য তিনি প্রশাসনের জরুরি সহযোগিতা চেয়েছেন। এ সময় নিজের শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে তার কথা বলার মতো পরিস্থিতি নেই, প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর হয়তো তিনি বিস্তারিত কথা বলতে পারবেন। অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও মঙ্গলবার আন্দোলনেরত শিক্ষার্থীরা সৌজন্যতা দেখিয়ে দুপুরের দিকে উপাচার্য ও তার সঙ্গীদের জন্য নাশতা পাঠান, যার আগে সকালেও তাদের জন্য একবার খাবার পাঠানো হয়েছিল।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত সোমবার সকাল আটটার দিকে, যখন তালা ভেঙে দীর্ঘ ২১ দিন পর উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন। তিনি ছাত্রদলের নেতা, কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের নিয়ে দপ্তরে প্রবেশ করেছেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে অবিলম্বে চুয়েট ত্যাগের নির্দেশ দিয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন ত্যাগ না করায় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং দিনভর ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে উপাচার্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও প্রত্যাখ্যানসূচক নানা স্লোগান দিতে থাকেন।

আন্দোলনের প্রথম দিনে বিকেলের দিকে সংশ্লিষ্ট ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও বহিরাগতরা ঘটনাস্থল থেকে সরে গেলেও প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে উপাচার্য ও তার সহযোগীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে এলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ‘অনলাইন ভিসি’ এবং ছাত্র নির্যাতনের অভিযোগ তুলে স্লোগান দিতে থাকেন। ওই দিন দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপাচার্যের সঙ্গে ভেতরে থাকা কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয় এবং পরে শিক্ষার্থীদের কঠোর পাহারায় চুয়েটের চিকিৎসকেরা ভেতরে প্রবেশ করে তাদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। সব মিলিয়ে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত টানা ২৬ ঘণ্টা ধরে উপাচার্য ও তার সঙ্গীরা প্রশাসনিক ভবনেই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট