ঢাকা , সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরে চার খুন: পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে ময়নাতদন্তের তথ্যে অমিল

রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ চারজনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে ময়নাতদন্তের তথ্যে অমিল পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তবে চোয়াল ভেঙে যাওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের শিকার চারজনেরই শ্বাসরোধের আলামত পাওয়া গেছে। তবে তাদের চোয়াল ভাঙার কোনো প্রমাণ ময়নাতদন্তে মেলেনি।

লাশের মুখ এসিড দিয়ে ঝলসে দেওয়া হয়েছে—এমন গুঞ্জনেরও কোনো সত্যতা ময়নাতদন্তে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। কয়েকদিন লাশ পড়ে থাকার কারণে মুখমণ্ডল ঝলসে যাওয়ার মতো দেখিয়েছে বলে জানান এই চিকিৎসক।

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের সময় বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমুনা পরীক্ষার জন্য সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হবে।

এর আগে রোববার সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ জানিয়েছিলেন, নিহত আগামী চক্রবর্তীর গলা ও মুখে রশি পেঁচিয়ে এমনভাবে টানা হয়েছিল যে তাঁর চোখ বেরিয়ে আসে এবং দাঁতের চোয়াল ভেঙে যায়।

মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়িতে শনিবার রাতে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫২), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও স্কুলছাত্র ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সম্পর্কে মামাতো ভাই। পুলিশের দাবি, মাদকসেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে চার খুন: পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে ময়নাতদন্তের তথ্যে অমিল

আপডেট সময় ০৪:১০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ চারজনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে ময়নাতদন্তের তথ্যে অমিল পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তবে চোয়াল ভেঙে যাওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের শিকার চারজনেরই শ্বাসরোধের আলামত পাওয়া গেছে। তবে তাদের চোয়াল ভাঙার কোনো প্রমাণ ময়নাতদন্তে মেলেনি।

লাশের মুখ এসিড দিয়ে ঝলসে দেওয়া হয়েছে—এমন গুঞ্জনেরও কোনো সত্যতা ময়নাতদন্তে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। কয়েকদিন লাশ পড়ে থাকার কারণে মুখমণ্ডল ঝলসে যাওয়ার মতো দেখিয়েছে বলে জানান এই চিকিৎসক।

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের সময় বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমুনা পরীক্ষার জন্য সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হবে।

এর আগে রোববার সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ জানিয়েছিলেন, নিহত আগামী চক্রবর্তীর গলা ও মুখে রশি পেঁচিয়ে এমনভাবে টানা হয়েছিল যে তাঁর চোখ বেরিয়ে আসে এবং দাঁতের চোয়াল ভেঙে যায়।

মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়িতে শনিবার রাতে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫২), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও স্কুলছাত্র ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সম্পর্কে মামাতো ভাই। পুলিশের দাবি, মাদকসেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট