ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া জগলুল পাশা গ্রেপ্তার Logo জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo দেশটা আমাদের সবার, পরিবেশও আমাদেরই রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo ১৫ মাস পর দেশে ফিরছেন ইলিয়াস কাঞ্চন Logo পুলিশ কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo গাজীপুরে সাতজনকে হত্যার ঘটনায় বিচারের মুখে হাসিনা-হারুনসহ ১০ জন Logo ঢাকার চারপাশে সচল হবে নৌপথ, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা Logo রাজধানীর দুই মেট্রো স্টেশনে ‘বোমা সদৃশ’ বস্তু Logo আদালতকে বলতে চাইলাম ফাঁসি দিয়ে দেন, প্রস্তুত আছি: লতিফ সিদ্দিকী Logo নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো সাবেক ভিসি কলিমউল্লাহকে (ভিডিও)

দিল্লিতে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেয়ায় ক্ষুব্ধ ঢাকা

আইএনবি ডেস্ক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দণ্ড প্রাপ্ত পলাতক আসামি হয়ে দিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে অংশগ্রহণের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার।

বুধবার (৫ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে ‘বিষোদ্গারমূলক বক্তব্য’ দিয়েছেন।

বাংলাদেশ সরকার বলেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের বিষয়ে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আগেই ভারত সরকারকে উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। এরপরও এ ধরনের একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, যেদিন বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করছে, সেদিন ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এ ধরনের উপস্থিতি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি ‘গুরুতর অপমান’।

বাংলাদেশ সরকার আরও অভিযোগ করে, জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালে তৎকালীন সরকারের সময় সংঘটিত বেসামরিক নাগরিক ও শিশুদের হত্যাকাণ্ডসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করার চেষ্টা করছেন শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা।

ঢাকার দাবি, এ ধরনের প্রচেষ্টা ‘ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তনের ব্যর্থ চেষ্টা’।

বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বাংলাদেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে দেশ আর কখনো স্বৈরাচারের অন্ধকার সময়ে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কোনোভাবেই কোনো পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে’ পরিণত হবে না।

শেখ হাসিনা ও তার সঙ্গে যুক্ত ‘অপরাধী চক্রের’ বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো স্থান হবে না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তবে বাংলাদেশ সরকার জানায়, ভারতকে সঙ্গে নিয়ে সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে, পারস্পরিক সম্মান, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদা বজায় রেখে গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে ঢাকা আগ্রহী।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

কোনো অজুহাতেই শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে গভীর আঘাত করেছে এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সৌহার্দ্যপূর্ণ বিকাশের জন্য ক্ষতিকর।

 

আইএনবি / বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

দিল্লিতে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেয়ায় ক্ষুব্ধ ঢাকা

দিল্লিতে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেয়ায় ক্ষুব্ধ ঢাকা

আপডেট সময় ০২:০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

আইএনবি ডেস্ক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দণ্ড প্রাপ্ত পলাতক আসামি হয়ে দিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে অংশগ্রহণের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার।

বুধবার (৫ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে ‘বিষোদ্গারমূলক বক্তব্য’ দিয়েছেন।

বাংলাদেশ সরকার বলেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের বিষয়ে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আগেই ভারত সরকারকে উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। এরপরও এ ধরনের একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, যেদিন বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করছে, সেদিন ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এ ধরনের উপস্থিতি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি ‘গুরুতর অপমান’।

বাংলাদেশ সরকার আরও অভিযোগ করে, জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালে তৎকালীন সরকারের সময় সংঘটিত বেসামরিক নাগরিক ও শিশুদের হত্যাকাণ্ডসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করার চেষ্টা করছেন শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা।

ঢাকার দাবি, এ ধরনের প্রচেষ্টা ‘ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তনের ব্যর্থ চেষ্টা’।

বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বাংলাদেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে দেশ আর কখনো স্বৈরাচারের অন্ধকার সময়ে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কোনোভাবেই কোনো পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে’ পরিণত হবে না।

শেখ হাসিনা ও তার সঙ্গে যুক্ত ‘অপরাধী চক্রের’ বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো স্থান হবে না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তবে বাংলাদেশ সরকার জানায়, ভারতকে সঙ্গে নিয়ে সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে, পারস্পরিক সম্মান, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদা বজায় রেখে গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে ঢাকা আগ্রহী।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

কোনো অজুহাতেই শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে গভীর আঘাত করেছে এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সৌহার্দ্যপূর্ণ বিকাশের জন্য ক্ষতিকর।

 

আইএনবি / বিভূঁইয়া


প্রিন্ট