ঢাকা , শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে মারধরের ঘটনায় ১১ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

সংগ্রহীত ছবি

রংপুর প্রতিনিধি: রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে মারধরের অভিযোগে ছয় কর্মকর্তাসহ ১১ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে বরখাস্তের বিষয়টি জানানো হয়।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন—উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা, আলম বাদশা ও আক্তারুল ইসলাম; সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মনিরুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম ও মেহেরুন্নেছা; এবং কনস্টেবল মুশফিকুর রহমান, মুখলেছুর রহমান, রাকিব আহমেদ, লিমা সরেন ও ভাবনা রানী।

পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, তদন্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরখাস্ত আদেশে উল্লেখ করা হয়, গত ৩ জুন কোতোয়ালি থানায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযোগের তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি অভিযোগ, নথিপত্র, সাক্ষ্য-প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং থানার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমানসহ ছয়জনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। পরে আজাদ রহমানকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়।

যে ঘটনার জেরে তদন্ত-

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, নগরের সিও বাজার এলাকার এক প্রেমিক যুগল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। পরে ওই যুগলকে উদ্ধার করে ৩ জুন সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানায় আনা হয়।

পরিবারের অনুরোধে বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা থানায় যান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রংপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলাম।

রাকিবুল ইসলামের অভিযোগ, থানায় গিয়ে তিনি দেখতে পান এক পুলিশ সদস্য উদ্ধার হওয়া যুগলকে মারধর করছেন। তিনি এর প্রতিবাদ জানালে ওসি ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাঁর ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়। এতে তিনি আহত হন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে থানার কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পরে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুসহ দলের নেতারা থানায় যান। আহত রাকিবুল ইসলামকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওই রাতেই থানায় আনা প্রেমিক যুগলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্য ছিলেন উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ) মো. মাহফুজুর রহমান ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি) সুকুমার রায়।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ১১ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে মারধরের ঘটনায় ১১ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

আপডেট সময় ১১:০০:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

রংপুর প্রতিনিধি: রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে মারধরের অভিযোগে ছয় কর্মকর্তাসহ ১১ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে বরখাস্তের বিষয়টি জানানো হয়।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন—উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা, আলম বাদশা ও আক্তারুল ইসলাম; সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মনিরুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম ও মেহেরুন্নেছা; এবং কনস্টেবল মুশফিকুর রহমান, মুখলেছুর রহমান, রাকিব আহমেদ, লিমা সরেন ও ভাবনা রানী।

পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, তদন্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরখাস্ত আদেশে উল্লেখ করা হয়, গত ৩ জুন কোতোয়ালি থানায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযোগের তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি অভিযোগ, নথিপত্র, সাক্ষ্য-প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং থানার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমানসহ ছয়জনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। পরে আজাদ রহমানকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়।

যে ঘটনার জেরে তদন্ত-

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, নগরের সিও বাজার এলাকার এক প্রেমিক যুগল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। পরে ওই যুগলকে উদ্ধার করে ৩ জুন সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানায় আনা হয়।

পরিবারের অনুরোধে বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা থানায় যান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রংপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলাম।

রাকিবুল ইসলামের অভিযোগ, থানায় গিয়ে তিনি দেখতে পান এক পুলিশ সদস্য উদ্ধার হওয়া যুগলকে মারধর করছেন। তিনি এর প্রতিবাদ জানালে ওসি ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাঁর ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়। এতে তিনি আহত হন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে থানার কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পরে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুসহ দলের নেতারা থানায় যান। আহত রাকিবুল ইসলামকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওই রাতেই থানায় আনা প্রেমিক যুগলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্য ছিলেন উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ) মো. মাহফুজুর রহমান ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি) সুকুমার রায়।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ১১ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট