ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।
আজ শুক্রবার বেলা ২টার দিকে ঝিনাইদহ পুরাতন ডিসি কোর্ট মসজিদের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে এনসিপি। এ সময় এক যুবককে অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। এমন একটি ভিডিও এবং একাধিক ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখনও অস্ত্রধারীর পরিচয় জানা যায়নি।
এই ঘটনায় ছাত্রদল-যুবদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হলেও বিএনপির পক্ষ থেকে হামলায় জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে যান। একপর্যায়ে সাহেদের পেছন দিক থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করেন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে এনসিপির তিনজন স্থানীয় কর্মী আহত হন। ঘটনার পর এনসিপির নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ করেন। ঘটনার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নেতাকর্মীদের নিয়ে থানায় অবস্থান করেন।
স্থানীয়রা জানান, হামলার ঘটনাটি ডিসির বাড়ির সামনে নিশ্চিত করেই বলা যায়, সেখানে ডিসির নিরাপত্তার জন্য অনেক সরকারি ক্যামেরা রয়েছে। এ ছাড়াও পাড়া-মহল্লায় দোকানগুলোতে সিসিটিভিও থাকে। ফলে হামলাকারীদের প্রত্যেককে শনাক্তসহ ফুটেজগুলো নিবিড়ভাবে তদন্ত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তাদের।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ঝিনাইদহে অস্ত্র হাতে যে ছেলেকে ছবি এবং ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে তার নাম আশিক। তিনি এনসিপির ভলেন্টিয়ার টিমের সদস্য। তার বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাষ্টসাগরা গ্রামে। ছবিতে আরেকজনের নাম সিয়াম উদ্দিন তুর্য। তার বাড়ি ঝিনাইদহ শহরের কোর্টপাড়ায়।
এ ব্যাপারে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিভিন্ন জেলায় সফরে গিয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে নিয়ে নানা কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঝিনাইদহ সফরে এলে আমি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য না দেওয়ার বিষয়ে আলাপ করতে যাই। এ সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ডিম নিক্ষেপ করে। মারামারি বা ডিম নিক্ষেপের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল জানান, ‘এ ঘটনায় ছাত্রদলের কেউ জড়িত নয়।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘জুমার নামাজ শেষ করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালায়। হামলায় জেলা পরিষদের প্রশাসক ও ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ এবং নব্য বিএনপি কর্মী রাশেদ খাঁনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতৃত্বে হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার ওপর হামলা করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জায়গা থেকে আমরা শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখেছি। হামলার সময় আমাদের অনেক সহকর্মীর ফোন ও মানিব্যাগ ছিনতাই করে নিয়ে যায় তারা। এমনকি আমাদের ওপর ডিমও নিক্ষেপ করা হয়।’
ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘আইনমন্ত্রীর এলাকায় যদি আইনশৃঙ্খলার এমন অবনতি হয়, তাহলে আমরা মনে করি, আইনমন্ত্রী তাঁর জায়গায় থাকতে পারেন না। আইনমন্ত্রীকে দ্রুত পদত্যাগ করিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা উচিত।’
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি এই ঘটনার বিচার না করেন, তাহলে আমরা ঢাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করব।’
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী থানায় এসেছেন। এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি।’
আইএনবি/বিভূঁইয়া