আইএনবি ডেস্ক:দেশের শেয়ারবাজারে এক প্রকার ধস নেমেছে। দেখা দিয়েছে চরম দুর্দিন। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে গত সপ্তাহের দর পতনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে ৯ হাজার কোটি টাকা। শেয়ারবাজারের এমন পরিস্থিতির জন্য অনেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে দায়ী করছেন। বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, ইরান যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। দেশের প্রতিটি শহরে পেট্রল পাম্পের সামনে গাড়ির দীর্ঘ সারি। এ অবস্থা দেখে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অর্থনীতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর স্বাভাবিক পরিণতি শেয়ারের দরপতন।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বিশ্বের অন্যান্য বাজারে শেয়ারের দাম কমলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনার জন্য এগিয়ে আসে, কিন্তু বাংলাদেশে সেই সংস্কৃতি এখনও গড়ে ওঠেনি। আমাদের দেশে এমন দক্ষ ফান্ড ম্যানেজার বা বিশেষজ্ঞের অভাব রয়েছে যারা শেয়ারের অন্তর্নিহিত মূল্য বুঝে প্রতিকূল সময়ে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা মনে করেন দাম আরও পড়বে, তাই তারা অপেক্ষা করেন। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এই সময়ে সক্রিয় হওয়া উচিত ছিল, যা হচ্ছে না। তাদের মতে, সরকারের দায়িত্বশীলদের উচিত বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে পরিষ্কার বক্তব্য প্রদান করা, যাতে বিনিয়োগকারীদের মনের অহেতুক আতঙ্ক দূর হয় এবং আস্থা ফিরে আসে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৬ লাাখ ৯৮ হাজার কোটি টাকা। বিদায়ী সপ্তাহে বাজার মূলধন ৯ হাজার কোটি টাকা কমে ৬ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। আলোচ্য সময়ে ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ২ শতাংশ পয়েন্ট হারিয়েছে। বিশেষ করে বড় কোম্পানির শেয়ারে বেশি দরপতন দেখা গেছে। গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ৯৬ দশমিক ৫১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২২০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫ হাজার ৩১৬ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৩৯ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৮০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ২০ পয়েন্ট। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ১৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৭৪ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৯০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৭২টির, কমেছে ২০৬টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ১২টির। আর লেনদেন হয়নি ২২টির। গত সপ্তাহে সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইসলামী ব্যাংক, আল-আরফাহ ইসলামী ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংকের শেয়ার।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে পাঁচটি বাদে বাকি সব খাতের শেয়ারেই নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। বিশেষ করে বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বেশি দরপতন দেখা গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩ দশমিক ৯ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে। এ ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ৩ দশমিক ৬ ও সিমেন্ট খাতে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল। এ ছাড়া এ সময়ে ব্যাংক, টেলিযোগাযোগ, মিউচুয়াল ফান্ড, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং বস্ত্র খাতের শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য হারে নেতিবাচক রিটার্ন ছিল। অন্যদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইতে
সবচেয়ে বেশি ৩ দশমিক ২ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে। এ ছাড়া সাধারণ বীমা খাতে ১ দশমিক ২ এবং সেবা ও আবাসন খাতে ১ দশমিক ১ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই গত সপ্তাহে ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ৭০১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৪ হাজার ৯১৫ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে ১ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে ৮ হাজার ৯৮৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ১০২ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে ১৮৮ কোটি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৩৯ কোটি টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩০৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৭টির, কমেছে ১৫২টির আর দর অপরিবর্তিত ছিল ২৮টির বাজারদর।
সূত্র:বাংলাদেশ প্রতিদিন
আইএনবি/বিভূঁইয়া