গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুর সদর উপজেলায় আজ সোমবার সকালে ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের রুদ্রপুর এলাকায় চাঁদা দাবির অভিযোগে যুবদলের এক নেতাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।
আটক ব্যক্তি হলেন রুদ্রপুর এলাকার আরফান আলীর ছেলে সাব্বির আহমেদ শামীম (৩০)। তিনি ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন যুবদলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টাইলস ব্যবসায়ী নুরুদ্দিন খন্দকার খোকনের কেনা জমিতে বালু ভরাটের কাজ চলছিল। এ সময় সাব্বির আহমেদ শামীম সেখানে গিয়ে কাজ বন্ধ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা তাকে আটক করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় জমির মালিক নুরুদ্দিন খন্দকার খোকন (৪৬) জয়দেবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি প্রায় ১১ দশমিক ৫৫ শতাংশ জমির বৈধ মালিক এবং দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি সেখানে উন্নয়নমূলক কাজের অংশ হিসেবে বালু ভরাট শুরু করেন।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ জুন বিকেলে জমিতে বালু ভরাটের কাজ চলাকালে সাব্বির শামীম ও তার কয়েকজন সহযোগী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা নুরুদ্দিন খন্দকারকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং টাকা না দিলে জমিতে কোনো ধরনের উন্নয়নকাজ করতে দেওয়া হবে না বলে জানান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরদিন ৮ জুন সকালে পুনরায় বালু ভরাটের কাজ শুরু হলে সাব্বির শামীম ও তার সহযোগীরা আবারও ঘটনাস্থলে এসে চাঁদা দাবি করেন। একপর্যায়ে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা নুরুদ্দিন খন্দকারের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। এতে তার হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
অভিযোগকারী দাবি করেন, হামলার একপর্যায়ে সাব্বির তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে উত্তেজিত জনতা সাব্বির শামীমকে আটক করে রাখলেও তার সহযোগীরা পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে জয়দেবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাব্বির শামীমকে হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে যায়।
তবে সাব্বির আহমেদ শামীম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বালু ভরাটের কাজ তাদের জমির ওপর দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। সে কারণে তিনি বাধা দিয়েছেন। চাঁদা দাবির অভিযোগ সঠিক নয়।’
ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফ বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জয়দেবপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নয়ন কুমার কর বলেন, ‘এ ঘটনায় নুরুদ্দিন খন্দকার নামে একজন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়।’
আইএনবি/বিভূঁইয়া
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ, অফিস : ১৪ কাকরাইল রোড, (৫ম তলা) শান্তিনগর বাজার, ঢাকা-১২১৭। মোবাইল : ০১৮১৭০৬২৩৪৪, ০১৭১২৩৫৭১৫৪ ইমেইল : inbnews2010@gmail.com
© All rights reserved © INBNews